মোবাইল ব্যবহারে ১% সারচার্জ

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ ,
মার্চ ৩০, ২০১৫ ১১:৪৮ অপরাহ্ণ

mobile with coin

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘উন্নয়ন সারচার্জ ও লেভি (আরোপ ও আদায়) আইন, ২০১৫’ এর খসড়ার এই অনুমোদন দেওয়া হয়।

বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা সাংবাদিকদের বলেন, মোবাইল কোম্পানিগুলো গ্রাহকদের কাছ থেকে যে বিল নিচ্ছে তার সঙ্গে এই ১ শতাংশ সারচার্জ যোগ হবে।

সরকার মোবাইল অপারেটরদের কাছ থেকে এই সারচার্জ আদায় করবে। মোবাইল ফোনে যতো ধরনের সেবা রয়েছে তার সবগুলোর ওপরই এই সারচার্জ প্রযোজ্য হবে।

জাতীয় সংসদে আইন পাস হলে এই সারচার্জ কার্যকর হবে বলেও মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান।

তিনি বলেন, “এ আইনের আওতায় মোবাইল অপারেটর কর্তৃক সিম বা রিম কার্ড ব্যবহারের মাধ্যমে প্রদত্ত সেবার বিনিময়ে প্রাপ্ত সমুদয় অর্থের ওপর ১ শতাংশ হারে সারচার্জ আরোপের প্রস্তাব মন্ত্রিসভা অনুমোদন করেছে।”

এ বাবদে বছরে অতিরিক্ত ১৪০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হবে জানিয়ে তিনি বলেন, এই অর্থ শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে ব্যয় করা হবে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, বর্তমানে ১৫ শতাংশ হারে যে ভ্যাট রয়েছে তা ঠিকই থাকবে, তার সঙ্গে ১ শতাংশ সারচার্জ যুক্ত হবে।

“আপনি যদি মোবাইল ব্যবহার করে এক হাজার টাকা বিল পেমেন্ট করেন তার সঙ্গে ১০ টাকা যোগ হবে।”

সুনির্দিষ্ট কোনো খাতে জনগণের কাছ থেকে অর্থ তুলতে সারচার্জ আরোপ করে সরকার। এক সময় যমুনা সেতু (বঙ্গবন্ধু সেতু) তৈরিতে সরকার সারচার্জ আরোপ করেছিল। তখন বাস-ট্রেনের টিকিট, সিনেমার টিকিট কাটার সময় অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হতো, যা যমুনা সেতুর তহবিলে যেত।

চলতি বছর প্রস্তাবিত বাজেটে মোবাইল ফোন ব্যবহারের ওপর সারচার্জ আরোপের কোনো প্রস্তাব না থাকলেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শুল্ক আরোপের কয়েকটি প্রস্তাব পুনর্বিবেচনা এবং মোবাইল ফোনের ব্যবহারের ওপর সারচার্জ আরোপের এই প্রস্তাব করেন।

সংসদে দেয়া বক্তৃতায় তিনি বলেন, “মোবাইল ফোনের আমদানির ওপর শুল্ক কিছুটা হ্রাস করতে পারেন। মোবাইল ফোনের ব্যবহারের ওপর সারচার্জ বসাতে পারেন। এ থেকে যে রাজস্ব আসবে সেটা শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে ব্যবহার করতে পারি।”

প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাব গ্রহণ করে অর্থমন্ত্রী মোবাইল ফোন ব্যবহারের ওপর সারচার্জ আরোপের ঘোষণা দেন এবং অর্থবিলে তা পাস হয়।

সরকারের ওই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ভ্যাট বিভাগ ১ শতাংশ সারচার্জ আরোপের প্রস্তাব রেখে একটি সারসংক্ষেপ অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠায়।

গতবছর ১৫ সেপ্টেম্বর বিষয়টি প্রথমবারের মতো মন্ত্রিসভায় তোলা হলে তা অনুমোদন পায়। কিন্তু আইন মন্ত্রণালয় পরে বিষয়টি আইনি কাঠামোর মধ্যে আনার কথা বলে।

আইন মন্ত্রণালয় প্রস্তাব তৈরি করার পর অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ তা সোমবার মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করে বলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান।

প্রস্তাবিত এ আইন সম্পর্কে তিনি বলেন, এ আইনের সঙ্গে একটি তফসিল থাকবে। কোন বিষয়ের ওপর কী হারে উন্নয়ন সারচার্জ বা লেভি আদায় করা যাবে তা সেখানে বলা থাকবে।

সরকার চাইলে প্রজ্ঞাপণ জারি করে অন্য ক্ষেত্রেও উন্নয়ন সারচার্জ ও লেভি আরোপ করতে বা সারচার্জের হার পরিবর্তন করতে পারবে।

সরকারের সব উন্নয়ন সারচার্জই এ আইনি কাঠামোর আওতায় আসবে বলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান।

গতবছর বিষয়টি মন্ত্রিসভায় উঠলে মোশাররাফ হোসাইন সাংবাদিকদের বলেছিলেন, এনবিআর হিসাব করে দেখিয়েছে, দেশের মোবাইল ব্যবহারকারীরা প্রতি মাসে গড়ে ২০০ টাকা ব্যবহার করেন। এর ১ শতাংশ হিসাবে জনপ্রতি সারচার্জ দাঁড়ায় গড়ে ২ টাকা।

“প্রত্যেক সিম ব্যবহারকারী প্রতি মাসে গড়ে ২ টাকা করে পরিশোধ করবেন। এতে সরকারের খাতায় জমা হবে বছরে ১৪০ কোটি টাকা।”

নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসির গত জানুয়ারি মাসের হিসাবে দেশে মোবাইল ফোন সংযোগের সংখ্যা ১২ কোটি ১১ লাখের বেশি হলেও সব সিম একসঙ্গে কার্যকর থাকে না।

Leave A Reply

Your email address will not be published.

সর্বশেষ পাওয়া