ক্রাইম ডায়েরী - সেপ্টেম্বর ৬, ২০১৫

সম্প্রতি দেশে ছোট ছোট অপহরণের ঘটনা বেড়ে গেছে : র‍্যাব

rab
মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ ডেস্কঃ র‍্যাপিড অ্যাকশন বেটেলিয়ান (র‍্যাব) বলছে, সম্প্রতি দেশে ছোট ছোট অপহরণের ঘটনা বেড়ে গেছে। গতরাতে ঢাকার কাছে সাভারে একজন অপহৃত ব্যবসায়ীকে উদ্ধার এবং আজ একটি অপহরণকারী চক্রের সাতজনকে আটক করার পর র‍্যাবের কর্মকর্তারা এ কথা বললেন।

আজ গ্রেপ্তার হওয়া চক্রটির লোকেরা ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় করতো বলে অভিযোগ।
তবে অপহরণ বেড়ে যাওয়ার ব্যাপারে মানবাধিকার কর্মীরা অভিযোগ করছেন, বেশ কিছুকাল ধরেই র‍্যাব ও পুলিশের মতো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর লোকদের বিরুদ্ধে যেসব অপহরণ-গুমে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ উঠছে, সেগুলো গুরুত্বের সাথে না নেয়াতেই দুর্বৃত্তরাও এখন এটা করতে বেশি উৎসাহ পাচ্ছে।
কথা হচ্ছিল ঢাকার কাছে সাভারের একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মোহাম্মদ পারভেজের সাথে। তৈরি পোশাক কারখানার অবিক্রিত শার্ট কিনে নিয়ে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করেন তিনি। এক বন্ধুকে নিয়ে অংশিদারী ব্যবসা তার।
গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তাকে অপহরণ করে নিয়ে যায় এক দল দুর্বৃত্ত, তার কাছে থাকা ৫০ হাজার টাকা ও একশ’ পিস শার্ট কেড়ে নেয় তারা এবং এক লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে।
শুক্রবার গভীর রাতে তাকে উদ্ধার করে র‍্যাব, আটক করে একজন অপহরণকারীকে। অপহরণকারীদের কাছে চব্বিশ ঘণ্টার বেশি সময়ে বন্দি ছিলেন মি. পারভেজ।
আজ তাকে ও অভিযুক্ত অপহরণকারী এরশাদুজ্জামান রুবেলকে জবানবন্দি দেবার জন্য নেয়া হয়েছে। দেখা যাচ্ছে উদ্ধার পাবার পরও আতঙ্ক তাকে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে।
যেমনটি মি. পারভেজ বলছেন, আটকাবস্থা থেকেও অভিযুক্ত এরশাদুজ্জামান তাকে ক্রমাগ্রত হুমকি দিয়ে যাচ্ছে, টেলিফোনে হুমকি দিচ্ছে পলাতক অপহরণকারীরাও।
র‍্যাব বলছে, মুক্তিপণের জন্য এ ধরনের অপহরণের ঘটনা সম্প্রতি বেশ বেড়ে গেছে। সাভারে র‍্যাব চারের অধিনায়ক মেজর মাসুদুর রহমান :
এদিকে ঢাকায় র‍্যাব আজ সকালে বিমানবন্দর এলাকা থেকে সঙ্ঘবদ্ধ এক অপহরণ চক্রের সাতজন সদস্যকে আটক করেছে।
তাদের কাছ থেকে একটি মাইক্রোবাস, ডিবি লেখা স্টিকার, হাতকড়া ইত্যাদি জব্দ করা হয়েছে। র‍্যাব বলছে, বিভিন্ন সড়ক থেকে এরা ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে পথচারীদের তুলে নিতো এবং মুক্তিপণ আদায় করতো।
বাংলাদেশে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, পুলিশ র‍্যাব ইত্যাদি সংগঠনের বিরুদ্ধে সম্প্রতি অপহরণ, গুম ইত্যাদির অভিযোগ তুলছে বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ও ভূক্তভোগীরা।
তাদের বিরুদ্ধে যে পন্থায় অপহরণের অভিযোগ আছে এখন দেখা যাচ্ছে দুবৃৃত্তরাও একই পদ্ধতিতে অপহরণ করছে মুক্তিপণ আদায়ের জন্য।
মানবাধিকার সঙ্ঘঠন আইন ও শালিস কেন্দ্রের পরিচালক নুর খান লিটন বলছেন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে ওঠা অপহরণের অভিযোগগুলো সরকার গুরুত্বের সাথে না নেয়ায় এখন দুবৃত্তরাও এতে উৎসাহিত হচ্ছে।
এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে, সম্প্রতি এক কথিত বন্দুকযুদ্ধে ঢাকায় ছাত্রলীগের এক নেতা নিহত হবার পর তার পরিবারের সদস্যরা র‍্যাবের এক কর্মকর্তাসহ কয়েকজন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যের বিরুদ্ধে অপহরণ ও হত্যা মামলা করে।
এর আগেও বিভিন্ন সময় র‍্যাবের বিরুদ্ধে অপহরণ, গুম, বিচার বহির্ভূত হত্যা ইত্যাদি নানা অভিযোগ ওঠার পর সম্প্রতি র‍্যাবের পক্ষ থেকে বিবিসিকে জানানো হয়েছে, বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে যেকোন অভিযোগ র‍্যাব স্বচ্ছতার সাথে তদন্ত করে ব্যবস্থা নিয়ে থাকে।

সূত্র: বিবিসি বাংলা


আরও পড়ুন