মুক্তিযুদ্ধের গল্প নিয়ে গেম ‘হিরোজ অব সেভেন্টিওয়ান’

gun with buletsসারা বিশ্বে মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ ডেস্কঃ  ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট নিয়ে তৈরি অসংখ্য গেম রয়েছে। এর মধ্যে যুদ্ধবিগ্রহও বাদ যায় না। ইতিহাসের বড় বড় যুদ্ধ নিয়ে তাই গেম তৈরি হয়েছে অসংখ্য। আর এবার গেম তৈরি হলো বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে।

১৯৭১ সালে বাঙালিদের দুর্ধর্ষ সাহসিকতা এবং বীরত্বগাথা নিয়ে তৈরি ‘হিরোজ অব সেভেন্টিওয়ান’ শিরোনামের গেমটি গুগল প্লে স্টোরে উন্মুক্ত হবে আগামী ১৬ ডিসেম্বর, অর্থাৎ বিজয় দিবসে।

বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো সম্পূর্ণ মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে গেমটি তৈরি করেছে ‘পোর্টব্লিস গেম’ নামে একটি দল। দুই বছর ধরে একসঙ্গে কাজ করা দলের সদস্যরা প্রথম থেকেই চেয়েছিলেন, শুধু বাংলাদেশের মানুষের জন্য কোনো একটি গেম তৈরি করতে। এই অনুপ্রেরণা থেকে বাংলাদেশের ইতিহাস এবং অস্তিত্বের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ নিয়ে তৈরি করা হলো ‘হিরোজ অব সেভেন্টিওয়ান’ গেমটি।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন বরিশালের শনির চর নামক জায়গার ঘটনাপ্রবাহ তুলে ধরা হয়েছে গেমটিতে। সেখানে এক পাকিস্তানি ক্যাম্প দখল করতে পাঁচজন মুক্তিযোদ্ধার একটি গেরিলা দল আক্রমণ করে। সেই ক্যাম্প দখল করা নিয়েই তৈরি হয়েছে গেমটি। প্রত্যন্ত অঞ্চলের গেরিলা হামলার ঘটনাগুলো নিয়েই থার্ড পারসন শুটিং ক্যাটাগরির গেমটি তৈরি করা হয়েছে। অর্থাৎ গেমটি খেলতে হবে একজন গেরিলা যোদ্ধা হিসেবে।

পাকিস্তানি সেনাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে শনির চরে ক্যাম্পটি দখল করতে পারলেই খেলা জেতা যাবে। তবে পাঁচজন গেরিলাকে একসঙ্গে নিয়ে খেলা যাবে না। একসঙ্গে সর্বোচ্চ তিনটি চরিত্র নিয়ে খেলা যাবে, যেখানে তিনজন তিনটি আলাদা জায়গা থেকে যুদ্ধ করবে। হাতে অস্ত্রও থাকবে ভিন্ন ভিন্ন। এভাবেই শত্রু বাহিনীকে ঘায়েল করে মুক্ত করতে হবে শনির চর।

গেমটির ঘটনা বাছাইয়ের গল্প বললেন নির্মাতা দল পোর্টব্লিসের কারিগরি উন্নয়ন প্রধান মাশা মুস্তাকিম। তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে গেম তৈরি করার পরিকল্পনায় প্রথমে আমরা বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখের বাস্তব ঘটনাকে বেছে নিয়েছিলাম। কিন্তু প্রয়োজনীয় তথ্য এবং উৎস সংকটের কারণে আমরা শেষ পর্যন্ত পিছিয়ে আসি। কারণ, আমরা সঠিক ইতিহাস তুলে ধরতে পারব কি না, তা নিয়ে ভয় পাচ্ছিলাম। এর পর এগিয়ে আসে বন্ধু ওমর রশিদ চৌধুরী। মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাসের সঙ্গে কোনোরূপ সংঘর্ষ না রেখে গেমের মৌলিক গল্প তৈরি করা হয়েছে।’

গেমটি আপাতত শুধু অ্যানড্রয়েড ব্যবহারকারীরা খেলতে পারবেন। তবে ধীরে ধীরে আইওএস, ওয়েব ও অন্যান্য প্ল্যাটফর্মেও গেমটি মুক্তি দেওয়ার কথা ভাবছেন পোর্টব্লিসের সদস্যরা। এক জিবি র‍্যামের যেকোনো অ্যানড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমেই গেমটি চলবে। স্টোরেজের মাত্র ৫০ মেগাবাইট জায়গা দখল করবে গেমটি।

মাশা মুস্তাকিম ছাড়াও পোর্টব্লিসের এই গেমটি নির্মাণ, ডেভেলপিং ও মার্কেটিংয়ে ছিলেন অপ্রতিম কুমার চৌধুরী, আরিফুর রহমান, অভিক চৌধুরী, আবদুল জাওয়াদ, রাকিবুল আলম সুলভ, রাকিবুল হাসান তুর, পাপন জিৎ দে, রিহাব উদ্দীন শাওন, প্রিওম মজুমদার অভি, হাসান আল রাজি ও তাপস চক্রবর্তী। গেমটির গল্পকার ওমর রশিদ চৌধুরী।

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ ডটকম/03-01-2016/মইনুল হোসেন


আরও পড়ুন