জাতীয় - জানুয়ারি ১৬, ২০১৬

ইউনূসকে সরানোর পর ‘থ্রেট’ পেয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী

Hasina
মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ ডেস্কঃ গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) পদ থেকে মুহাম্মদ ইউনূসকে সরানোর পর দেশের বাইরে থেকে হুমকি (থ্রেট) পেয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শনিবার জাতীয় শিল্পকলা একাডেমীর জাতীয় নাট্যশালায় ২৭তম কাজী মাহবুবউল্লাহ পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ কথা জানান।

অনুষ্ঠানে পদ্মা সেতুর প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই পদ্মা সেতু বন্ধ করে দেবে, কোনো একটা বিশেষ ব্যক্তির একটি ব্যাংকের এমডি পদে থাকা, না থাকার ওপর। আমাকে সরাসরি থ্রেটও করা হয়েছে। আমেরিকার অনেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এসে বলেছেন, এটা না করলে পদ্মা সেতুর টাকা বন্ধ হবে। এই কথা সরাসরি আমাকে শুনতে হয়েছে। আমি মুখের ওপর বলে দিয়েছিলাম, পদ্মা সেতু আমরা নিজেরা করতে পারব। আমরা তা পেরেছি।’

পদ্মা সেতু নির্মাণকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছেন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যদি বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধ করে একটা দেশ স্বাধীন করতে পারি, তবে একটা সেতু নির্মাণ করতে পারব না?`

সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ করা হয়েছে যে, মুহাম্মদ ইউনূস পদ্মা সেতুতে বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়ন বন্ধে বিভিন্নভাবে চেষ্টা করেছিলেন। তবে শান্তিতে নোবেলজয়ী বাংলাদেশি এই অর্থনীতিবিদ তা বরাবর অস্বীকার করে আসছেন ।

বয়সসীমা পার হওয়ার কারণ দেখিয়ে ২০১১ সালে ইউনূসকে গ্রামীণ ব্যাংকের এমডির পদ থেকে অব্যাহতি দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এর বিরুদ্ধে আইনি লড়াই চালিয়েও হেরে যান ইউনূস।

সে সময় দুর্নীতির অভিযোগ তুলে পদ্মা সেতু প্রকল্প থেকে সরে যায় বিশ্বব্যাংক। পরে বিশ্বব্যাংক প্রকল্পে অর্থায়ন করতে চাইলেও টানাপোড়েন চলতে থাকে। এক পর্যায়ে বিশ্বব্যাংককে বাদ দিয়ে নিজস্ব অর্থায়নে সেতু নির্মাণের কাজ শুরু করে সরকার।

পদ্মা সেতুর কথা বলার সময় ইউনূসকে গ্রামীণ ব্যাংকের পদ ফিরিয়ে দিতে সরকারের উপর বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘নানাভাবে, নানা চাপ। দুটি বছর যেন আমাদের ওপর আজাব সৃষ্টি করা হয়েছিল। আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম, নিজস্ব অর্থায়নেই পদ্মা সেতু করব। কেউ টাকা দিলে দেবে, না দিলে না দেবে। কিন্তু আমরা যে নিজের টাকায় পদ্মা সেতু করতে পারি- সেটা আমরা দেখিয়ে দিয়েছি।’

দেশে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য চারজন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে কাজী মাহবুব উল্লাহ পুরস্কার ২০১৫ প্রদান করা হয়েছে। সাহিত্য ও সাংবাদিকতায় অবদানের জন্য বাংলা একাডেমির পদকপ্রাপ্ত আনিসুল হক, বিজ্ঞানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ রসায়ন ও আণবিক জীববিজ্ঞানের অধ্যাপক ড. হাসিনা খান, খেলাধুলায় বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা এবং উচ্চশিক্ষার উন্নয়নে অবদানের জন্য বিশেষ পুরস্কার হিসেবে আজীবন সম্মাননা পেয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের প্রাক্তন চেয়ারম্যান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক এ কে আজাদ চৌধুরী। বেগম জেবুন্নেছা ও কাজী মাহবুব উল্লাহ জনকল্যাণ ট্রাস্টের পক্ষ থেকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়।


আরও পড়ুন