রাষ্ট্রকে যে ব্যক্তি স্বীকার করে না, দেশের ইতিহাস যে ব্যক্তি মানে না, সেই ব্যক্তি অন্তত রাষ্ট্রের কর্মচারী হতে পারে না: অধ্যক্ষ শরীফ সাদী

sharif sadi

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ ডেস্কঃ ১৯৭১। একাত্তররেই আমরা প্রায় এক হাজার বছরের আমাদের স্বকীয় সত্ত্বা খুঁজে পেয়েছি। আত্মপরিচয়ের ঠিকানা খুঁজে পেয়েছি। ‘স্বাধীনতা’ এ কি কেবল ৪ অক্ষর কিংবা ৫ বর্ণের একটি সহজলভ্য উচ্চারণ? এটি আয়ত্ত অর্জন করতে কত দিন-মাস-বছর,কত দশক,কত শতক লেগেছে? বাংলা ভাষাভাষী কত শত সহস্র লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবণ বলিদান করতে হয়েছে!

আমাদের কোমল মৃত্তিকার উর্বর জমিন,আমাদের সজল মেঘলা আকাশ,আমাদের সবুজ-শ্যামল প্রান্তর –এ সবই আমাদের বাঙালি মানস চরিত্রকে আবেগময় করে গড়ে তুলেছে। ‘স্বাধীনতা’ নিরাবেগ কোন শ্লোগান নয়, ‘স্বাধীনতা’ কেবল বলার জন্য বলা একটি সহজবোধ্য শব্দ নয়।

বাংলাদেশের ‘স্বাধীনতা’ অন্য দশটি দেশের স্বাধীনতা থেকে ভিন্নতর। সাম্রাজ্যবাদী, ঔপনিবেশিক শক্তির শাসক প্রতিনিধিদের সাথে বসে আলোচনার টেবিল থেকে আমাদের ‘স্বাধীনতা’ আসেনি। ইংরেজ বেনিয়া শাসকগোষ্ঠী ভারত কিংবা পাকিস্তানকে যেভাবে গোলটেবিল বৈঠকে বসে শ্বেতপত্রের উপর তরল কালো কালি দিয়ে লিখে স্বাধীনতা নামক শব্দটি উপহার দিয়েছে, আমরা বাঙালী জাতি স্বাধীনতা সেভাবে পাইনি। শত সহস্র লক্ষ লক্ষ বাঙালির তপ্ত তরল তাজা রক্তের লাল কালিতে লেখা আমাদের ‘স্বাধীনতা’ অনেক ত্যাগ-তিতিক্ষার বিনিময়ে অর্জন করতে হয়েছে।

বাঙালির ইতিহাস, সকল ধর্মের মানুষের মেলবন্ধন, অসাম্প্রদায়িক চেতনাবোধ, মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিসংগ্রাম, স্বাধীনতাযুদ্ধ শব্দগুলোর সুদীর্ঘ ইতিহাস ও সুবিশাল ব্যঞ্জনার নাম বাংলাদেশ। বাংলাদেশের আরেক নাম,শেখ মুজিবুর রহমান। আমাদের ইতিহাসের ক্রমধারায় অনেকের আত্মদানের বীরগাথা আছে। ইতিহাসের পাতয় অনেক সুউচ্চ ব্যক্তিত্ব ও নেতৃত্বের নাম আছে কিন্তু চূড়ান্ত মুক্তির সুবর্ণ বন্দরে এসে কেউ সাফল্যের মাস্তুল লাগাতে পারেননি।শত বছরের শত সংগ্রামকে একীভূত করে,সাড়ে সাত কোটি মানুষের কন্ঠকে একটি কন্ঠে এনে মিলাতে পেরেছিলেন যিনি তিনিই শেখ মুজিব,তিনিই বঙ্গবন্ধু জাতির জনক। তিনিই “Identity of Bangladesh, Foundation of Bangladesh”।

সুনির্দিষ্ট আদর্শ ও ধারাবাহিক সংগ্রামের ইতিহাস হলো বাংলাদেশের ভিত্তি। এই আদর্শ-ইতিহাসের প্রতিপক্ষে বাংলাদেশে কিছু মানুষ আছে। সার্টিফিকেটধারী অপশিক্ষিত কিছু মানুষ আছে। এরা বঙ্গবন্ধুকে বঙ্গবন্ধু বলতেই রাজী না, জাতির জনক স্বীকার করতে রাজী না।
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে স্বীকার না করে বাংলদেশকে স্বীকার করা হয় না। জাতির জনককে যথার্থ সম্মান-শ্রদ্ধা প্রদর্শন না করে বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রকে সম্মান করা হয় না। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও আদর্শের স্মারক হলো রাষ্ট্রের সংবিধান। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও আদর্শকে যারা অস্বীকার করে,জাতির জনককে যারা অস্বীকার করে তারা রাষ্ট্রের সংবিধান মানে না। যারা সংবিধান মানে না তারা রাষ্ট্রের কর্মচারী হতে পারে না।

বর্তমানে যারা চাকুরীতে আছে অথচ দেশ রাষ্ট্র সংবিধানকে মানে না তারা যে কোন সময রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করতে পারে। জাতি রাষ্ট্র সংবিধান বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ ——এ ধারাবাহিক শ্রদ্ধাবোধ যাদের নেই তারা চাকুরীর যে পর্যায়েই থাকুক তাদেরকে চিহ্নিত করে বরখাস্ত করতে হবে।
………………Raise Voice for this.

 

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ ডটকম/১৭-০১-২০১৬ইং/মইনুল হোসেন

Comments

comments

You might also like More from author

Leave A Reply

Your email address will not be published.

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ