জাতীয় - June 25, 2016

কাল মেট্রোরেল-বিআরটি নির্মাণ কাজের শুভ উদ্বোধনী

মুক্তিযোদ্ধার কণ্ঠ ডেস্ক :

দেশের প্রথম মেট্রোরেল উত্তরা থেকে মতিঝিল এবং গাজীপুর থেকে এয়ারপোর্ট বাস ৠাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) লাইন নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করা হবে রোববার ২৬ জুন।
রোববার (২৬ জুন) সকাল ১০টায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে দুটি নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করবেন প্রধামন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সড়ক পরিবহন ও সেতুমমন্ত্রণালয় জানায়,  মেট্রোরেল চালু হলে ঘন্টায় উভয়দিক থেকে ৬০ হাজার যাত্রী পরিবহন করা যাবে আর বিআরটিএ লাইন দিয়ে গাজীপুর থেকে এয়ারপোর্ট সড়কে ঘন্টায় ২৫ হাজার যাত্রী পরিবহন সম্ভব। দেশের সড়ক যোগাযোগের উন্নয়নে এ দুটি মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ডিপো তৈরীযজ্ঞ দিয়েই প্রধানমন্ত্রী সূচনা করবেন রাজধানীতে সরকারের সবচেয়ে বড় প্রকল্প মেট্রোরেলের। উত্তরা তৃতীয় ফেজের ৮৬ একর ভূমিকে তিন প্রক্রিয়ায় প্রস্তুত করে সেখানে ডিপোর স্থাপনা নির্মাণ শুরু হবে।
মেট্রোরেল প্রকল্পের সবশেষ অগ্রগতি উল্লেখ করে প্রকল্প পরিচালক মোফাজ্জেল হোসেন জানান, ৮টি প্যাকেজের মধ্যে ৬টি প্যাকেজের দরপত্র প্রক্রিয়া বিভিন্ন ধাপে রয়েছে। মেট্রোরেল ডিপোর ল্যান্ড ডেভলাপমেন্ট প্যাকেজটির চুক্তি শেষে এখন কাজ শুরু হয়েছে। ৫৪০ কোটি টাকা ব্যায়ে চলছে এ কাজ ।

উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত মেট্রোরেলের দৈর্ঘ্য হবে ২০ দশমিক ১ কিলোমিটার। উত্তরা ৩য় ফেজ-পল্লবী-রোকেয়া সরণির পশ্চিম পাশ দিয়ে খামারবাড়ী হয়ে ফার্মগেট- হোটেল  সোনারগাঁও- শাহবাগ- টিএসসি- দোয়েল চত্বর-তোপখানা রোড-বাংলাদেশ ব্যাংক পর্যন্ত যাবে মেট্রোরেল।
রোলিং স্টক হিসেবে মেট্রোরেল থাকবে ২৪ সেটের আর প্রত্যেক সেটে ৬টি কার থাকবে। মেট্রোরেলে সর্বোচ্চ গতিসীমা হবে ঘন্টায় ১০০ কিলোমিটার।

চালু হলে মেট্রোরেল ঘণ্টায় ঢাকা শহরের একপাশ থেকে আরেক পাশে ৬০ হাজার যাত্রী পরিবহন করবে আর কমে আসবে যাতায়াত খরচও। ২৪ জোড়া ট্রেন যাওয়া আসা করবে কয়েক মিনিট পর পর আর উত্তরা থেকে মতিঝিলে পৌঁছতে সময় লাগবে ৪০ মিনিটেরও কম। প্রতি দুই মিনিট পরপর নিকটস্থ স্টেশনে এসে থামবে ট্রেন।

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব এমএএন ছিদ্দিক জানান, প্রকল্পের নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে সাড়ে ২২ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে বিদেশি সহযোগিতা ১৬ হাজার কোটি টাকা। বাকি অর্থায়ন করছে বাংলাদেশ সরকার। ২০১৯ সালে প্রকল্পের প্রথম ধাপ উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত শেষ হবে এর পরের ধাপে আগারগাঁও থেকে মতিঝিল পর্যন্ত শেষ করা হবে।
আর গাজীপুর, টঙ্গী ও উত্তরা এলাকাকে যানজটমুক্ত করতে বাস ৠাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) গাজীপুর-এয়ারপোর্ট লাইন নির্মাণ করা হলে ঘণ্টায় গাজীপুর থেকে এয়ারপোর্ট পর্যন্ত ২৫ হাজার যাত্রী যাতায়াত করতে পারবে।
প্রকল্প অনুযায়ী, ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ পথ নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৪০ কোটি টাকা। এ লাইনে ২৫টি স্টেশন, ২টি টার্মিনাল, ৮ লেন বিশিষ্ট একটি সেতু, ১১৩টি সংযোগ সড়ক, ২০ দশমিক ৫০ কিলোমিটার ফুটপাত, একটি বাস ডিপো এবং এয়ারপোর্ট, জসিম উদ্দিন রোড, কুনিয়া, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে, ভোগড়া বাইপাস ও চান্দনা চৌরাস্তায় মোট ৬টি ফ্লাইওভার নির্মাণ করা হবে। ২০১৯ সালের মধ্যে এ প্রকল্পের কাজ শেষ করার কথা।

সড়ক যোগাযোগ ও পরিবহন ব্যবস্থার এ দুটি বাস্তবায়নের দায়িত্বে রয়েছে সড়ক পরিবহন সেতু মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগ।
বিআরটি প্রকল্প পরিচালক একরামুল্লাহ জানান, বাংলাদেশে প্রথমবারের মত হলেও পৃথিবীর অনেক জনবহুল মেগাসিটিতে মেট্রোর পাশাপাশি বাস ৠাপিড ট্রানজিট আছে। এয়ারপোর্ট থেকে গাজীপুর পর্যন্ত রুটে বিআরটি ব্যবস্থা চালু হলে গণপরিবহনের সক্ষমতা বাড়বে। ছোট গাড়ির সংখ্যা কমবে। যাতায়াত হবে পরিবেশবান্ধব।

 

মুক্তিযোদ্ধার কণ্ঠ ডটকম/২৫০৬২০১৬ইং/মোঃ নোমান


আরও পড়ুন