“রাজাকার না মুক্তিযোদ্ধা কোন্ টা হবেন,এখনই সময়” : অধ্যক্ষ শরীফ সাদী

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ ডটকমঃ

৪৫ বছর আগে এ দেশের জনগোষ্ঠীর সামনে এমন একটা ক্ষেত্র তৈরী হয়েছিলো,একটা সুযোগ তৈরী হয়েছিলো।আন্দোলন,সংগ্রাম,যুদ্ধ।পক্ষ দুটো।মুক্তিবাহিনী বনাম রাজাকার বাহিনী।রণাঙ্গনে সবাই সশস্ত্র যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়ে না,পড়তে হয় না।কিন্তু সবাইকেই কোন না কোন পক্ষ নিতে হয়।সরবে কিংবা নীরবে।সেদিন যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন তারা হয়েছিলেন মুক্তিযোদ্ধা কিংবা মুক্তিকামী। ইসলামের নামে কিংবা পাকিস্তান টিকিয়ে রাখার নামে যারা স্বাধীনতার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন তারা হয়েছিলেন রাজাকার। তেমন একটি উৎকৃষ্ট সময় এখন বয়ে যাচ্ছে।কেউ যদি রাজাকার হতে চান তাহলে বর্তমান “ভ্রান্ত-জেহাদের” খাতায় নাম লিখিয়ে ফেলুন অথবা “ভ্রান্ত-জেহাদী” কর্মকান্ডকে বয়ানের মাধ্যমে কিংবা চুপ থেকে সমর্থন করুন।

বর্তমানে এক শ্রেণীর মিলিটেন্ট ইসলামী গোষ্ঠী দেশে জেহাদের নামে যুদ্ধাবস্থা সৃষ্টি করেছে। অবশ্য এদের এ ধরনের তৎপরতাকে “আন্দোলন-সংগ্রাম-যুদ্ধ” কোনটা বলার সুযোগ নেই। এগুলো কাপুরুষোচিত আকষ্মিক হামলা।বর্বরোচিত হত্যা,নীরিহ মানুষ খুন।৪৫ বছর পর আবারো ইসলামের নামে, শরীয়া শাসন/ ইসলামী হুকুমাত কায়েমের নামে মানুষ খুনের হোলি খেলা শুরু করেছে এরা। বর্তমান অবস্থায়ও দু’টিই পক্ষ।কিন্তু বর্তমান ইস্যুটি “স্বাধীনতা” ইস্যু নয়। বরং ভিন্ন মতাবলম্বী,ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের খুন করে দমন করার ইস্যু।৪৫ বছর আগে এভাবেই ইসলামী রাষ্ট্র পাকিস্তান টিকিয়ে রাখার ব্যর্থ চেষ্টা করা হয়েছিলো।সেদিনও তারা পারেনি, আজো তারা পারবে না।সেদিনও আলেম-ওলামাগণের একটি অংশ ভ্রান্ত পথ অবলম্বন করে রাজাকারদের পক্ষ নিয়েছিলো। আজও আলেম সমাজের একটি অংশ নীরবে “ভুল জেহাদীদের”পক্ষ অবলম্বন করেছে। সরকার-বিরোধিতার তুচ্ছ অজুহাতে আজও মুসলিম জনগোষ্ঠীর একাংশ “জেহাদীদের”কে মনে মনে সমর্থন করছে।
অবশ্যই ৩/৪/৫ বছরের মধ্যে চলমান এ বার্ণিং ইস্যুটির নিষ্পত্তি হয়ে যাবে। গোপনে আকষ্মিক হামলা করে কিছু মানুষ খুন করার নাম আন্দোলন-সংগ্রাম-যুদ্ধ-জেহাদ কোনটাই না। এ ধরনের কর্মকান্ডে ব্যাপক জনগনের সমর্থন থাকে না। পৃথিবীর কোথাও কখনো এরা সফল হয়নি।এরা কোথাও বিচ্ছিন্নতাবাদী,কোথাও জংগী, কোথাও সন্ত্রাসী হিসাবে চিহ্নিত হয়ে অমর্যাদাকর এবং অপমানজনক পরিণতি বরণ করে,অতপর পরিসমাপ্তি ঘটে। (অপমানজনক এ কারনে যে এদের মৃত্যুর পর পরিবারের সদস্য কেউ এমনকি বাবা-মা পর্যন্ত লাশ গ্রহণ করতে আসেনা)। পরিসমাপ্তি এখনো সেই আগের মতোই ঘটবে। ঘটমান এ সময়ে তথাকথিত জেহাদে প্রত্যক্ষভাবে কিংবা মৌনভাবে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছেন যারা তারা এ সময়ের “নব্য-রাজাকার” হয়ে যাচ্ছেন।

 

 

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ ডটকম/১২-০৭-২০১৬ইং/ অর্থ

Comments

comments

You might also like More from author

Leave A Reply

Your email address will not be published.

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ