১/১১’র কুশীলবদের বিচার হবে কি? : মো. হুমায়ুন কবির

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ ডটকমঃ

সাম্প্রতিক সময়ে একটি টেলিভিশন টক শোতে ইংরেজি দৈনিক দ্যা ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম স্বীকার করেছেন, ১/১১তে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ডিজিএফআই’র পাঠানো সংবাদ যাচাই-বাছাই না করে প্রকাশ করায় তিনি বিরাট ভুল করেছেন। এটাতে সাংবাদিকতা জীবনে নিজের সবচেয়ে বড় ভুল হিসেবে অভিহিত করেছেন তিনি। তিনি বলেছেন, এটা ছিল ‘ব্যাড এডিটরিয়াল জাজমেন্ট’।

টক শো’র এ সরল স্বীকারোক্তির মাধ্যমে তিনি প্রমাণ করেছেন যে, ওই সময় তিনি কতটা ভীত সন্ত্রস্ত্র¿ ছিলেন। ভয়ে তিনি সত্যতা যাচাই না করেই বড় বড় হেডিংয়ে নিউজ করেছেন। যাদের বিরুদ্ধে তিনি এহেন সংবাদ প্রকাশ করেছেন তাদের অনেকেই স্ব স্ব ক্ষেত্রে সমাজের প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তি। এ ধরণের সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে তারা রাজনৈতিক, সামাজিক ও ব্যবসায়িকভাবে চরম ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। অনেকেই নিষ্ঠুরভাবে নির্যাতিত হয়েছেন। অনেকের জীবন আজও দুর্বিসহ। রাজনৈতিক মাঠে আজও অবহেলিত।

১/১১’র জন্ম দেয়ার পেছনে অনেকে ছিল। ওই সময়ে পর্দার আড়ালে অনেক ঘটনাই ঘটেছে। ড. ফখরুদ্দিন আহমদ, মইন ইউ আহমদ ও কিছু সাংবাদিক মিলে ড. কামাল হোসেন এবং ড. ইউনুসকে দিয়ে নতুন রাজনৈতিক দল/জোট গঠন করতে চেয়েছিল। এর বাইরেও আওয়ামী লীগ ও বিএনপির কতিপয় শীর্ষ নেতা বন্দুক ও জেল-জুলুমের ভয়ে তাদের নিজ নিজ দলের বিপক্ষে অবস্থান নিতে বাধ্য হয়েছিল এবং কিছু দিন পর তারা এ ফাঁদ থেকে বেরিয়ে আসেন। ওই সময় পর্দার অন্তরালে অনেকের তৎপরতাও লক্ষ্য করা গেছে। কিংস পার্টির নামে রাজনৈতিক মাঠে ছাড়া হয়েছিল একজনকে। কিন্তু কেহই সফল হতে পারেনি। কারণ চোরাবালিতে ভর করে উপরে উঠা যায় না। বরং মাটি চাপায় মরতে হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় দীর্ঘমেয়াদী তত্ত্বাবধায়ক সরকার নামক দানব ক্ষমতা কুক্ষিগত করার প্রয়াস চালিয়ে গণতন্ত্রকে গলাটিপে হত্যা করার চক্রান্ত করেছিল। বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনাসহ বহু রাজনৈতিক নেতাকে কারারুদ্ধ করে রেখেছিল। কিন্তু বাংলাদেশের মুক্তিকামী জনতা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা দেখিয়েছিল।

আন্দোলন ও চাপ প্রয়োগ করে শেখ হাসিনার মুক্তির পথ সুগম করে নির্বাচন দিতে বাধ্য করেছিল। ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আল্লাহপাক জাতির জনক বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনাকে এদেশের জনগণ কর্তৃক বিপুল পরিমাণ ভোট ও আসন দিয়ে দ্বিতীয় বার ক্ষমতায় আসীন করেছেন। পরবর্তীতে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে তৃতীয় বারের মতো প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। তাঁর সুযোগ্য নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে। অর্থনীতিসহ সব ক্ষেত্রে স্বাবলম্বী হয়েছে। বাংলাদেশকে সবাই এখন রোল মডেল ভাবেন। আর জয়তু জননেত্রী শেখ হাসিনা পরিণত হয়েছেন ‘বিশ্বনেতায়’। আর যারা তাঁকে বার বার হত্যা করতে চেয়েছিল, রাজনীতি থেকে মাইনাস করতে চেয়েছিল- তারাই আজ অস্তিত্বহীন হয়ে পড়ছে। তারাই আজ সর্বত্র ঘৃণিত, অপমানিত।

সাংবাদিকতার নামে যারা অপসাংবাদিতা করেন নির্যাতিত ব্যক্তিদের তাদের বিচার চাওয়া কি অন্যায় হবে? ইতোমধ্যেই বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুযোগ্য পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় ফেসবুক স্ট্যাটাসে মাহফুজ আনামের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। কয়েকজন ক্ষুব্ধ ব্যক্তি দেশের বিভিন্ন স্থানে আদালতে কয়েকটি মামলা করেছেন।  এর প্রেক্ষিতে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে।

মাহফুজ আনাম ভুল স্বীকার করার মাধ্যমে অনুশোচনা করেছেন। যা তার দ্বৈত নীতির বহি:প্রকাশ। সংবাদপত্রের স্বাধীনতার নামে নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে অন্যজনের অস্তিত্বে কুঠারাঘাত করা কোন দায়িত্বশীল সাংবাদিকের কাজ নয়। যাচাই করা ছাড়া  সংবাদ পরিশেন করে হেয়প্রতিপন্ন করা শুধু অপসাংবাদিকতাই নয়, আইনের চোখেও তা অপরাধ। অথচ তারাই বাকস্বাধীনতার কথা তুলে ধরে বলেন ‘উন্নয়ন আগে, না গণতন্ত্র।’

২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দাবি করেন, ‘মাইনাস টু ফর্মুলা’র সঙ্গে দুই সম্পাদকের জড়িত থাকার কথা। সংবিধান ধ্বংস করার দায়ে তাদের বিচারের আওতায় আনা হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শুধু এ দুই সম্পাদকের বিচার কেন, যারা ১/১১’র সময় তাদের সঙ্গে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল তাদের বিচারের কি হবে?

ভীত হয়ে ১/১১’র কুশীলবরা ইতোমধ্যেই ভোল পাল্টাতে শুরু করেছেন। সরকারের পক্ষে অবস্থান নিয়ে সুযোগ-সুবিধা ভোগ করার পায়তাঁরা করছেন। একজন ভুল স্বীকার করে আলোচনা-সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হলেও ওই সময়ে যারা বিতর্কিত সংবাদ প্রচার ও প্রকাশ করেছে, যারা নেপথ্য নায়ক-খলনায়ক ছিল তারা কেন ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকবে? শুধু একজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হলে অন্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া কি সময়ের দাবি নয়?

সভাপতি
আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, কেন্দ্রীয় কমিটি
এবং সহ-মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক
বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ, কেন্দ্রীয় কমিটি

 

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ ডটকম/১৩-০৭-২০১৬ইং/ অর্থ

Comments

comments

You might also like More from author

Leave A Reply

Your email address will not be published.

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ