ধংস হয়ে যাচ্ছে আমাদের তরুন প্রজন্ম, এর জন্য দায়ী কে?

সোহেল ইবনে ছিদ্দিক, স্টাফ রিপোর্টার (ঢাকা): 

একটি দেশের ভবিষ্যত কর্ণধার হল ঐ দেশের তরুন প্রজন্ম। আজকের তরুণরাই আগামী দিনের ভবিষ্যত। কারণ ভ্যবিষ্যতে জাতীর হাল তাদেরি ধরতে হবে। কিন্তু এই তরুন প্রজন্ম আমাদের যুব সমাজ আজ ধংসের পথে। যে হাতে ওরা ধরবে জাতীর হাল সে হাতে তারা তুলে নিচ্ছে মদ, গাজা, ফেনসিডিল, হিরোইন আর ইয়াবার মত মরণঘাতী নেশার সামগ্রী। ইউনেস্কোর রিপোর্ট অনুযায়ী বাংলাদেশের ১০-২৪ বছর বয়সী তরুন-তরুনির সংখ্যা ৪ কোটি ৭৬ লক্ষ যা মোট জনসংখ্যার ৩০% আর এদের মধ্যে প্রায় ৪৫% মাদকদ্রব্য ব্যবহার করে। একটি গবেষনায় দেখা গেছে মাদক ব্যবহারিদের মধ্যে ৯৮%  ধুমপায়ী। সিগারেট থেকে শুরু শেষকালে হিরোইন মাঝখানে মাধকি মা-ধ-কি ঠিক বাংলাদেশ টেলিভিশনের ঐ বিজ্ঞাপনের মতোই ওদের জীবন ধারা। স্কুল-কলেজের ছেলেদের সিগারেট পান করা একটা ফ্যাশন হয়ে দারিয়েছে আর মেয়েদের মতে যে ছেলেরা ধুমপান করে তারা স্মার্ট। ধুমপানের দ্বারা ছেলেদের স্মার্টনেস ফুটে উঠে। ধুমপানের ব্যপারে সরকারের সতর্কতামুলক ব্যাবস্থা থাকলেও তা মানছেনা কেউ। এখন প্রতিটি সিগারেটের পেকেটেই সতর্কতামুলক ভয়ানক কিছু চিত্র তুলে ধরা এবং এর উপর শুল্ক বৃদ্ধি করেও এর ব্যবহার কমানো যাচ্ছে না।

বর্তমানে আমাদের সমাজে নৈতিকতা ও মূল্যবোধের কোন বালায়েই নেই। শ্রদ্ধা- ভক্তি সমাজ থেকে উঠে গেছে বললেই চলে। বাবা-চাচার সামনেই সিগারেট টানছে ডিজিটাল যুগের ছেলেরা। আমার চাচার বয়স ৫০ হবে এখনো সিগারেট জালাতে দিয়াশলাইটা ঘর থেকে আনতে আমাকে পাঠায় আর বলে বাবা যেন টের না পায়। ১৫ বছর বয়স থেকে সিগারেট পানকরে অথচ পাড়ার সবাই জানে সে অধুমপায়ী। অথচ এখন ছেলেরা প্রকাশ্যে হাতে পিষে সিগারেটের ভেতর গাজা ভরছে। কি আর করার, বড়রা দেখেও না দেখার ভান করে পাশ কাটিয়ে চলে যায়।

নেশা জাতীয় দ্রব্যের মধ্যে গাজার দাম সবচাইতে কম এবং সহজলভ্য হওয়ায় এর ব্যবহার অত্যন্ত বেড়ে গেছে। এখন গ্রামে-গঞ্জে, ওলিতে-গলিতে এমনকি মোরের চায়ের দোকানেও একটু খোজ নিলে এটা পাওয়া যায়। গাজার পাশাপাশি মাদক জগতে নতুন মাত্রা যুগ করেছে ইয়াবা। গাজার চেয়ে দাম একটু বেশি হলেও এটির বাজার এখন তুঙ্গে। মিয়ানমার থেকে চোড়াই পথে প্রচুর পরিমানে ইয়াবা এদেশে আসছে, হয়তো ধরাও পরছে কিছু যা অতি নগন্য ১০০ ভাগের ১০ভাগ। বাকি ৯০ ভাগই চলে যায় কক্সবাজার চট্টগ্রাম হয়ে দেশের আনাচে কানাচে। বিভিন্ন ধরনের ইয়াবা বিভিন্ন নামে ও দামে এদেশে আসছে যেমন “চম্পা” ৬০০-৭০০ টাকা, “ডোপি” ৩৫০-৪০০টাকা, “ডেপ” ২০০-২৫০টাকা, এছাড়াও দেশি কিছু ভেজাল ইয়াবা তৈরী করছে এবং অল্প মূল্যে ১০০-১৫০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে এই নেশার পণ্য। আর এইসব নেশা জাতীয় পন্য ক্রয় করার জন্য তরুনরা বেছে নিচ্ছে যে কোন ধরনের কাজ, সেটা হতে পারে চুরি, চিনতাই, ডাকাতি এমনকি খুন পর্যন্ত করতেও ওরা দ্বিধাবোধ করেনা।

কিন্তু আমাদের এই তরুন সমাজ ধংসের জন্য আসলে দায়ী কে? পরিবার, সমাজ ও আমাদের সমাজ ব্যবস্থা। একটি শিশু মায়েরকোল থেকে মাদকাসক্ত হয়ে আসেনা। কিন্তু শিশুটি যখন দেখে তার বাবা, বড় ভাই বা তার পরিবারের বড় কেউ তার সামনে দিয়াশলাই বের করে সিগারেটে আগুন ধরাচ্ছে তখন তার মনেও কৌতুহল জাগে তাই সে প্রথমে কাগজ মোড়িয়ে বা মুখে কাঠি দিয়ে ট্রাই করে।

সেই সিগারেট থেকে শুরু। তারপর স্কুলে গিয়ে বন্ধুদের নিয়ে আলোচনা দোকান থেকে কিনে আনে আসল সিগারেট। নেই বিনোদনের ভাল ব্যবস্থা। ঘরের ভেতর আর কতক্ষন ভাল লাগে। একটু বাইরে থেকে ঘুরে আসি। বাইরেই আর কোথায় যাব পাড়ার মাঠগুলো সব দখলে চলে গেছে গড়ে উটছে অট্টালিকা বা কনস্ট্রাকশনারী। কি আর করার তাই বন্ধুদের সবাই একসাথে কিছু একটা করি। সিগারেট খেয়ে দেখলাম চল আজ গাজা খেয়ে দেখি। পরশু নতুন একটা জিনিস এসেছে ইয়াবা খেয়ে দেখবি খেলে সুন্দর ঘ্রান বেরয়। তরশু হিরুইন,ড্রাগস এভাবেই হয়ে উঠে একটা শিশু থেকে মাধকাসক্ত। শুধু ওদের দোষ দিয়ে লাভ কি। আসলে ওদের জন্য দায়ী কে?

নিজের বিবেকের কাছে প্রশ্ন করলেই উত্তর মিলে যাবে। আমি কি পারতামনা ধুমপানটা অন্য কোথাও করে আসতে। কাওকে ধুমপান করতে দেখলে পারতামনা একটু ডেকে বুঝাতে। ১ম বার না শুনলে ২য় বার ওর অভিবাবককে বুঝাতে, ৩য় বার আইনের সহায়তা নিতে। পাড়ার সকলে মিলে একটা মাঠের ব্যবস্থা করতে। মাদকদ্রব্য ক্রয় বিক্রয়ের সাথে যারা জরিত তাদের আইনের হাতে তুলে দিতে।

হ্যাঁ… আমাদেরই করতে হবে, বদলাতে হবে নিজেকে, বদলে দিতে হবে সমাজকে।

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ ডটকম/২৮-১০-২০১৬ইং/ অর্থ 

আরও পড়ুন

৩ Comments

Comments are closed.