বানিজ্যিক ভাবে সম্প্রসারণের উজ্জল সম্ভাবনা, বগুড়া’য় জনপ্রিয় হচ্ছে ড্রাগন ফলের চাষ

আল আমিন মন্ডল, (বগুড়া) থেকেঃ

বাংলাদেশের নতুন ঔষধী-পুষ্টিগুন সম্পন্ন ও উচ্চ ফলনশীল ফল হিসাবে ড্রাগন ফল চাষ এখন দিনদিন জনপ্রিয় হচ্ছে। বগুড়ার গাবতলী উপজেলায় বেড়েই চলেছে ড্রাগন ফলের চাষ। অনূকুল আবহাওয়া ও উৎপাদন খরচ কম হওয়ায় কৃষকরা ড্রাগন ফল চাষে ঝুকে পড়ছে। ফলে ড্রাগন ফলের দাম ও চাহিদা বেশী হওয়ায় লাভবান হচ্ছে কৃষক পরিবার। শুধু বাংলাদেশে নয় বিশ্বের কয়েকটি দেশের মধ্যে অন্যতম মালয়েশিয়া, চীন, শ্রীলংকা, এশিয়ার বিভিন্ন দেশে এখন ড্রাগন ফলের ব্যাপক চাষ করা হচ্ছে। ফলে গাবতলীতে ড্রাগন চাষ ভাল হওয়ায় এখন বানিজ্যিক ভাবে সম্প্রসারণের উজ্জল সম্ভাবনা রয়েছে। উচ্চ ফলনশীল প্রচুর পুষ্টিগুন ও বাজারে দাম ভাল থাকায় কৃষকরা অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি ড্রাগন চাষ করছে। উচু জমিতে ড্রাগন চাষ করতে হয়। লাল রংঙ্গের ড্রাগন ফল সাদা শাঁস ও রঙ্গিন শাঁস হয়ে থাকে। গাবতলী রামেশ্বরপুরের জাইগুলি গ্রামে এএইচ আজম খানের কৃষি খামারে পরীক্ষামূলক ভাবে ১২শতক জমিতে চাষ করা হয়েছে ড্রাগন। একইভাবে মহিষাবানের নিশ্চিন্তপুরে আলমগীর হোসেন ১৫শতক জমিতে চাষ করেছে ড্রাগন। এভাবে ছড়িয়ে পড়ছে ড্রাগন ফলের চাষ। বগুড়া হটিকালচার ও গাবতলী উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সার্বিক সহযোগিতায় জাইগুলি গ্রামে এএইচ আজম খানের জমিতে লাগানো হয় ড্রাগন ফলের গাছ। এখন ১বছরের মাথায় ফলন পাওয়া শুরু হয়েছে। যা প্রতিকেজী ৫শ থেকে ৬শ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এবছরে ব্যাপক ফল হয়েছে। আশা করা হচ্ছে ২৫মন ফল উৎপাদন হবে। উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে ১লক্ষ টাকা লাভ হবে। ড্রাগন ফল চাষী এএইচ আজম খান জানান, ১২শতক জমিতে ১শ চারা গাছ লাগিয়েছি। নিবিড় পরিচর্যার ফলে প্রতিটি গাছে ভাল ফল হয়েছে। পরিক্ষামূলক ভাবে ড্রাগন ফল চাষে ফলন আরো ভাল হলে আগামীদিনে বানিজ্যিকভাবে বেশী জমিতে ড্রাগন চাষের পরিকল্পনা রয়েছে।

VLUU L100, M100  / Samsung L100, M100

এ ড্রাগন ফল বাগান দেখতে প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে কৃষকরা ছুটে আসছেন। ড্রাগন বাগানে সার্বিক পরামর্শ ও তথ্য প্রদান করে আসছেন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আরিফুর রহমান আরিফ। এছাড়াও বাগান পরিচযার্য় সবসময় ব্যস্ত সময় পাড় করছেন স্বাধীন, শরিফ, বাদশা, কালাম ও ফুকু। তারা আরো জানান, ড্রাগন চাষের পাশাপাশি কৃষি খামারে দেশী-বিদেশী অনেক ফল-ফুল ও ঔষধী গাছ রয়েছে। রোপন করা হয়েছে আম, জাম, লিচু, সরিফা, বেল, কাঁঠাল, পিয়ারা, কারেঙ্গা, জলপায়, আমলকি, করচা, সরপুরী, পেঁপে, কদবেল, জামরুল, দেও, বাদাম, কাট বাদাম। এএইচ আজম খান একটি সফল কৃষি খামার প্রতিষ্ঠা করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। গাবতলী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আঃ জাঃ মুঃ আহসান শহীদ সরকার জানান, ড্রাগন ফল চাষে কৃষকদের আগ্রহী করে তোলার জন্য কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কৃষকদের বিনামূল্যে উপকরন ও প্রাথমিক খরচ এবং পরামর্শ’সহ সহায়তা করা হচ্ছে। বর্তমানে গাবতলীতে ড্রাগন ফল চাষ জনপ্রিয় হচ্ছে। এ ফল ঔষধী পুষ্টিগুন সমৃদ্ধ ও সৌখিন ফল। বসতবাড়ীর আঙ্গিনায় ও ভবনের ছাদে ড্রাগন ফল চাষ করা সম্ভব। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারন কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ সোহরাব হোসেন জানান, ড্রাগন ফল চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করা হচ্ছে। আশাকরছি গাবতলী উপজেলায় ড্রাগন চাষ বাংলাদেশের মধ্যে জনপ্রিয় ও মডেল উপজেলা হবে। গাবতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাঃ আহসান হাবিব জানান, ড্রাগন একটি পুষ্টিগুন ও নতুন ফল। এ ফলের চাষ সম্প্রসারন হলে কৃষকরা বানিজ্যিভাবে আরো বেশী জমিতে চাষ করবে এবং গাবতলীতে ড্রাগন চাষের উজ্জল সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে বহু শিক্ষিত কৃষক স্বাবলম্বী হতে পারবে। কৃষক পরিবারের মুখে ফুটবে হাসি। উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা জুলফিকার আলী হায়দার জানান, জমিতে চারা রোপনের ১বছর পর ফল আসে। প্রতিবছরে একটি পূর্নবয়স্ক গাছে ৪০থেকে ৫০টি ফল পাওয়া যায়। ১বিঘা জমিতে ড্রাগন ফল চাষে ৯০হাজার টাকা খরচ হয়। ৯ফুট পরপর ২টি করে গর্তখুড়ে চারা লাগানো যায়। জৈব ও রাসায়নিক সার নিয়মিত দিতে হয়। ১বিঘা জমিতে ৩শ চারা রোপন করা সম্ভাব। উৎপাদন ব্যয় বাদ দিয়ে ১বছরে ১বিঘা জমি থেকে ৩লক্ষ টাকা লাভ করা সম্ভাব। বর্তমানে বাজারে ৫০থেকে ১শ টাকা ১টি চারা গাছ বিক্রি করা হচ্ছে। উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আরিফুর রহমান আরিফ জানান, ড্রাগন ফল চাষে আগ্রহী করতে কৃষকদের প্রশিক্ষণনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ড্রাগন ফল লাল টুকটুকে। ঔষধীগুন থাকায় উচ্চ রক্ত চাপ হ্রাস ও ডাইবেটিস রোগীদের জন্য উপকারী। ডাঃ নীল রতন দেব এমবিবিএস-বিসিএস (স্বাস্থ্য) জানান, বর্তমানে ড্রাগন ফল ঔষধী কাজে ব্যবহার হচ্ছে। ড্রাগন ফলে ভিটামিন সি, আয়রন, মিনারেল, ফাইবার ছাড়াও অ্যান্টি এক্সিডেন্ট রয়েছে যা শরীরকে সুস্থ্য ও সবল রাখতে সহায়তা করে।

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ ডটকম/২৮-১০-২০১৬ইং/ অর্থ 

Comments

comments

You might also like More from author

Leave A Reply

Your email address will not be published.