কিভাবে শত শত কোটি টাকা মেরে দিচ্ছে মোবাইল ফোন কম্পানিগুলো…!

সোহেল ইবনে ছিদ্দিক, স্টাফ রিপোর্টারঃ 

২০১৬ সালের বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রন কমিশন (বিটিআরসি) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী মোবাইল সিমের মোট গ্রাহকের সংখ্যা ১৩ কোটি ২২ লাখ ৯৫ হাজার ৮৬৭ জন। যার মধ্যে গ্রামিণফোনের গ্রাহক সংখ্যা ৫ কোটি ৬২ লাখ ৪ হাজার, বাংলালিংক গ্রাহক সংখ্যা ৩ কোটি ২৩ লাখ ৬৮ হাজার, রবির গ্রাহক সংখ্যা ২ কোটি ৭৭ লাখ ৯৫ হাজার, এয়ারটেল গ্রাহক সংখ্যা ১ কোটি ৭ লাখ ১০ হাজার। দেশের একমাত্র সিডিএম এ অপারেটর সিটিসেলের গ্রাহক সংখ্যা ১০ লাখ ৭ হাজার ৮৬৭ এবং রাষ্ট্রায়ত্ত মুঠোফোন টেলিটকের গ্রাহক সংখ্যা ৪২ লাখ ১১ হাজার।

এই সব মোবাইল  সিম কম্পানিগুলো  প্রতিনিয়ত জনগণকে প্রতারিত করছে নানান ভাবে। অথচ  এই কিষয়ে কারো কোন প্রতিক্রিয়া নেই। সিটিসেলের কাছে বাংলাদেশ সরকারের  পাওনা  পড়ে আছে ৪৭৭ কোটি ৫১ লাখ টাকা তিন্তুু গ্রহকদের কাছে কি একটি টাকাও পাবে সিটিসেল? বাকিতে কি কেউ কোনদিন মোবাইলে কথা বলতে পেরেছে?  তাহলে সরকারের কাছে টাকা বাকি থাকবে কেন?  বর্তমানে মোবাইল সিম কম্পানিগুলো ইমার্জেন্সি ব্যালেন্স হিসেবে ১০-১০০ টাকা পর্যন্ত অগ্রিম প্রদান করা হয় এবং টাকা রিচার্জ করার সাথে সাথেই তা ব্যালেন্স থেকে  কেটে নেয়া হয়। এখন অাবার এটার জন্য অালাদা চার্জ প্রযোজ্য করা হয়েছে। সরকার সিম কম্পানি গুলোর উপর অালাদা ভ্যাট চার্জ করার পূবেই সিম কম্পানিগুলো গ্রাহকদের উপর তা প্রয়োগ করে দেয়।

শুধু তাই নয় মোবাইলে টাকা রিচার্জ করার পর তা ব্যালেন্স ঠিক পাওয়া যায় না। যেমন ৩০ টাকা রিচার্জ করলে দেখা যায় মোবাইলে ব্যালেন্স অাছে ৩ টাকা কি ব্যপার বাকি টাকা কোথায়! লোড এর দোকানে গিয়ে দোকানির সাথে ঝগড়া করার পর দোকানি মোবাইলের মেসেজ চেক করে দেখিয়ে দেয় তার কোন দোষ নেই সে ঠিক টাকাই পাটিয়েছে কিন্তুু টাকা ব্যালেন্স এ নেই কেন তার জন্য কাস্টমার সার্ভিসে কল করুন কাস্টমার সার্ভিসে কল করলে বলে ……….ফোনে কল করার জন্য ধন্যবাদ অাপনার কলটি কাস্টমার প্রতিনিধির নিকট প্রেরণ করা হচ্ছে অনুগ্রহ করে কিছুক্ষন অপেক্ষা করুন অপেক্ষা করতে করতে ব্যালেন্স শেষ কি অার করার অাবার রিচার্জ করে তাড়াতাড়ি করে আবার কাস্টমার সেন্টারে  কল করা হল তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে এখন অার ব্যালেন্স চেক করা হয়নি দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর কাস্টমার প্রতিনিধির সাথে কথা বলার সুযোগ হল খুব মিষ্টি ভাষায় সম্ভোধন করে সমস্যা জানতে চাইল সমস্যা বলার পর কাস্টমার প্রতিনিধি বলছেন আপনার সমস্যা গুলো দেখছি স্যার একটু সময় দিবেন প্লিজ দয়া করে লাইনটি কাটবেন না সঙ্গেই থাকুন কিছুসময় পর বলছেন স্যার আপনি ইমার্জেন্সি ব্যালেন্স নিয়েছেন ২০ টাকা আর এর সাথে ২টাকা চার্জ কেটে নেয়া হয়েছে মোট ২২ টকা কেটে নেয়া হয়েছে তাছাড়া এখান থেকে দেখা যাচ্ছে আপনার মোবাইলে প্রিয়জন সার্ভিস,  প্রিয়মুখ সার্ভিস, প্রিয়গান সার্ভিস, অয়েলকাম টোন সার্ভিস, খেলাধুলা সার্ভিস, সময়সূচী সার্ভিস চালু করা আছে স্যার অথচ এইসব সার্ভিস চালু করবে দুরের কথা এসব সার্ভিস এর কথা শুনেওনি সে কখনো। মোবাইল ব্যবহারকারিদের মধ্যে এমনও লোক অাছে যারা নাম্বারটা ডায়েল করার জন্য অন্যের সাহায্য নেয় তারা চালু করবে এইসব সার্ভিস। কাস্টমার কেয়ার প্রতিনিধি বলছে আপনি কি এই সার্ভিস গুলো বন্ধ করে দিতে চাচ্ছেন, জ্বি জ্বি তাহলে আপনার মোবাইলে একটি মেসেজ পাটানো হয়েছে সেখানে বিস্তারিত লিখা অাছে  আপনি সেইভাবে চেষ্টা করুণ। আর কোন সমস্যা বলতে বলতে কুত কুত কুত করে মোবাইলের লাইনটা কেটে গেল। মানে আবার ব্যালেন্স শেষ। তারপর আবার টাকা রিচার্জ করে মেসেজটা করা হল।

ইন্টারনেটের নামে চলছে তাদের আরেক ধান্ধা।  ফ্রি ইন্টারনেটের নাম করে ব্যালেন্স থেকে টাকা কেটে নিচ্ছে। আবার কাস্টমার কেয়ারে কল করলে বুঝিয়ে দিচ্ছে তাদের যুক্তি দিয়ে আপনাকে ফেইসবুক ইউজ করার কথা বলা হয়েছে লাইক দিতে বলা হয়নি। আপনি…..  টা লাইক দিয়েছন, বা আপনি একটি পেইজ ওপেন রেখে আরেকটি অপেন করেছেন আরো নানান কিচ্ছা কাহিনী ঐ দিকদিয়া মোবাইলের টাকা শেষ হয়ে যাচ্ছে কাস্টমার কেয়ারে কথা বলতে বলতে। আপনার মোবাইলে যদি ব্যালেন্স ৫০০ টাকা বা তার বেশিও থাকে আর আপনি ভুল করেও কোন ইন্টারনেট প্যাকেজ ছাড়া ডাটা কানেক্ট করেছেন তাহলে দেখবেন ডাটা অফ করতে করতে আপনার মোবাইলের ব্যালেন্স প্রায় শেষ। কি অার করার কাস্টমার কেয়ারে ফোন দিলেতো আরো লস থাক আর মোবাইলে টাকাই ঢোকাবো না।  টিক এইভাবে প্রতিটি গ্রহকের কাছ থেকে বিভিন্ন সার্ভিস এর নামে, ইন্টার্নেট এর নামে সাধারণ জনগণের কছে থেকে লুট করে নিচ্ছে কত কোটি কোটি টাকা ভেবেছেন কখনো।  যদি ১৪ কোটি গ্রাহক হয় আর তাদের কাছ থেকে যদি প্রতি মাসে ২ টাকা করেও নেয় তহলেও মাসে ২৮ কোটি বছরে ৩৩৬ কোটি টাকা। তবুও মানুষ নিরবে সহ্য করে যাচ্ছে মোবাইল সিম কম্পানি গুলোর এই আর্থিক নির্যাতন। কিন্তুু যদি একটা লোকাল বাসের কন্টাক্টার বা একটা রিক্সাওয়ালা যদি ২-৪ টাকা বেশি ভাড়া চায় তাহলে আমরা সজোরে চর কসিয়ে দিতে পারি তাদের গালে। আসলে চরটা কাকে দেয়া উচিৎ?

পদ্মা সেতু নির্মাণেরর জন্য জনগণের কাছে সাহায্য চায় সরকার অথচ সিটিসেলের কাছে সরকারের টাকা পওনা পড়ে অাছে ৪৭৭ কোটি ৫১ লাখ টাকা অন্যান্য মোবাইল কম্পানি গুলো প্রতি বছরে জনগণকে ঠকিয়ে নিয়ে যাচ্ছে সহস্র কোটি টাকা যা দিয়ে দেশের টাকায় নির্মাণ করা যেতো পদ্মা সেতুর মত আরো অনেক সেতু, চালু করা যেতো আরো অনেক উন্নয়ন প্রকল্প।

 

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ ডটকম/১২-১১-২০১৬ইং/ অর্থ 

1 Comment

Comments are closed.