Donald Trump কি বাংলাদেশ,পাকিস্তান,ভারতের নির্বাচনী রাজনীতি থেকে কোন শিক্ষা গ্রহণ করেছিলেন? : অধ্যক্ষ শরীফ সাদী

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ ডেস্কঃ 

ভদ্রলোকের বয়স সত্তোর-ঊর্ধ্ব। বলা যায় না,হতেও পারে।আসতেও পারেন তিনি।এ অঞ্চলের রাজনীতি দেখে-শুনে-বুঝে যাওয়ার জন্য আসতেও পারেন।হ্যা,ট্রাম্পের কথা বলছি।তিনি এবার আমেরিকার নির্বাচনে যা করলেন এবং যা দেখালেন তা আমেরিকা কিংবা ইউরোপ-অষ্ট্রেলিয়ার জন্য অভাবনীয় অথবা বিস্ময়কর হলেও আমাদের এ অঞ্চল তথা পাক-ভারত-বাংলার মানুষের কাছে কোন বিস্ময় জাগানীয়া বিষয় নয়।আমরা অভ্যস্ত।ট্রাম্প সাহেব যে খেলা দেখালেন আমাদের নির্বাচনে এমন খেলা দেখে আমরা অভ্যস্ত।পাকিস্তানের জন্মলগ্ব থেকে আজোবধি পারভেজ মোশাররফ, নওয়াজ শরীফ,ইমরান খান সাহেবরা কেবল ক্ষমতায় টিকে থাকতে,ক্ষমতার সিংহাসনে বসতে কিংবা নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে ধর্মীয় উগ্রতাকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেন,কখনো কখনো ধর্মীয় সেন্টিমেন্টকে উষ্কে দেন।

আমরা দেখেছি আমাদের দেশে জাতীয় নির্বাচন এলেই একটি মহল বৃহত্তর মুসলিম জনগোষ্ঠীর সমর্থন পাওয়ার জন্য কীভাবে মরিয়া হয়ে লাগে।প্রতিপক্ষকে কীভাবে নাস্তিক-মুরতাদ বানানো যায়। দেখেছি তো, কী জঘণ্যভাবে বলা হয় অমুক দল দেশটি বিক্রি করে দেবে,সংবিধান থেকে বিসমিল্লাহ উঠিয়ে দেবে,দেশে ইসলাম রাখবে না।এভাবে নেগেটিভ পলিটিক্স করে ভোটারদের বৃহৎ অংশের সমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার নজির এখানে হামেশাই আছে।

ভারতে বাজপেয়ী-আদভানী-নরেন্দ্র মোদীদের রাজনীতি এ অঞ্চলের মানুষ দেখে-শুনে ক্লান্ত।সেখানে হিন্দু উগ্র জাত্যাভিমানকে পুঁজি করে এবং উষ্কে দিয়ে বিজেপি কেমনে নির্বাচনী বিজয় ছিনিয়ে আনে। মোদী গত নির্বাচনে যেভাবে উষ্কানীমূলক বক্তৃতা করেছেন,যেভাবে অভিবাসীদের তাড়িয়ে দেওয়ার কথা বলেছেন এবং এভাবে তিনি সফলও হয়েছেন।

ট্রাম্প সাহেব same-game খেলেছেন।শিক্ষাটা নিয়েছেন
আমাদের কাছ থেকে। তিনি উগ্র খৃস্টানিটি জাত্যাভিমানকে উষ্কে দিয়েছেন,সংখ্যালঘু অভিবাসীদের বিরুদ্ধে বলে বৃহত্তর জনগোষ্ঠী খৃষ্টান ও শেতাঙ্গদের সমর্থন আদায়ে সফল হয়েছেন।

শেষ কথা হলো,আর তুলতে পারবেন না;পতনোন্মুখ নিম্নগামী আমেরিকান অর্থনীতিকে উঠাতে পারবেন না।বিশ্বব্যাপী মার্কিনীদের সাম্রাজ্যবাদী আধিপত্যবাদী থাবা গুটিয়ে আসছে। ৩য় বিশ্বের অনুন্নত,স্বল্পোন্নত দেশগুলো ধীরে ধীরে পরনির্ভরতা কাটিয়ে উঠছে এবং আত্মনির্ভরশীল জাতীয় অর্থনীতি ও রাজনীতির বিকাশ ঘটাতে সক্ষম হয়েছে। তাই —–
“হাত গুটা মার্কিন, ফুরিয়ে গেছে তোর দিন”

 

 

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ ডটকম/১২-১১-২০১৬ইং/ অর্থ 

Comments

comments

You might also like More from author

Leave A Reply

Your email address will not be published.

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ