নিকলীর কারপাশাতে বাল্য বিবাহ ও যৌন হয়রানিকে লাল কার্ড

স্টাফ রিপোর্টার (আশরাফ আলী) কিশোরগঞ্জ :

কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার কারপাশা ইউনিয়নের শহীদ স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা গত ৬ ডিসেম্বর ২০১৬ খ্রি. তারিখ বাল্য বিবাহ ও যৌন হয়রানিকে আনুষ্ঠানিকভাবে লাল কার্ড দেখিয়েছে এবং তারা আর বাল্য বিবাহের শিকার না হওয়ার শপথ নিয়েছে।উপজেলা গভর্নেন্স প্রজেক্ট এর সহযোগিতায় বাল্য বিবাহ ও যৌন হয়রানি প্রতিরোধে আয়োজিত এক কর্মশালায় এ লাল কার্ড প্রদর্শন করে তারা।

unnamed-2

শহীদ স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত এ কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) তরফদার মো: আক্তার জামীল। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নিকলী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কারার সাইফুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে সূচনা বক্তব্য রাখেন ডিস্ট্রিক্ট ফ্যাসিলিটেটর মনির মজুমদার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নিকলী উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান রওশন আক্তার, কারপাশা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তাকি আনাম খান, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো: নুরুজ্জামান হাবিব, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শামসুন্নাহার তাসমিন, শহীদ স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয়ের স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো: হোসেন আলী প্রমুখ। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) প্রধান অতিথির বক্তৃতায় বলেন, সামাজিক ও অর্থনৈতিকসহ বিভিন্ন সূচকে যেখানে বাংলাদেশ ক্রমশই উন্নতি করছে সেখানে বাল্যবিবহের মত সামাজিক অবক্ষয় রোধে আমরা পিছিয়ে আছি।

https://mail-attachment.googleusercontent.com/attachment/u/0/?view=att&th=158d899d0b877856&attid=0.4&disp=inline&realattid=f_iweq4iua3&safe=1&zw&saddbat=ANGjdJ8SSVLU8hjj7JHwD4dU4LorT855TcWCxQTMFNgJyqtwlvzIdZQrKe-Er2OLlKf4vvQTQHe_DJkD-Q3XwwyIoQmPAScUa4p8St2aKqEpDLUfZ59WJ2mkpQacRRtXYQXVuId-9WBcyBC8-YyIlaUScQndc8ytcbTA4PLTbvEH2q2qcUUMzl9X_fkbIG6Lf7F9DaskqzzJTnIK903D3o_r2F-RAe-Jxpe3HLKYM_FmQFyMtgxt387SMEJkxc746oU93r4nXPb6cnNedikBBqLk7K_-AwfBM8ryoQH6q0iOTkw6QmvW2EsV1Ao1b35xK7e7x3VPCDbDjoE02Z2sRTfcTyABygfuXN9QQAw89Y82A-9ihzTKOX8Ndyb0RWS_OaXj2PhRKAj42y02D2sGug4PcE-4cINd1X7Uwc-O0fulYkxNICMcGcWz8rAvw-KbePJoX6zFg6ajP1dPvAtUXGSALSQ7vD_3axkA9YVcKLtSsMJq2cdyTOYd04oL2T0L_3sTfhukvusJ4F2BJDqLPcc2aErMcMoBtMKQxBUEm65URIV5VcxTse7l4uZE89IvZb9iyG5Dmvkssg3cdWIh44s5ZrfndqjocAniDLlFCfXRtYr-OoRgGmj0_KmDwFKM7E8fC1Wl0Kr5Yu0MmnHBiUHxfBaiSzissbkBeAPquA

তিনি বলেন, নবজাতকের মৃত্যুর হার কমানো, টিকাদানের হার বৃদ্ধিসহ শিশুর স্বাস্থ্য ও জীবনমানের নানা খাতে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি থাকলেও দক্ষিণ এশিয়ায় বাল্যবিবাহের হার সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশের। বাল্যবিবাহ কন্যাশিশু এবং তাঁর পরিবারকে একটি দারিদ্র্য চক্রের মধ্যে ঠেলে দেয়। অল্প বয়সে বিয়ে হলে মেয়েরা তাদের লেখাপড়া শেষ করতে পারে না এবং নিজেকে ও পরিবারকে দারিদ্র্য থেকে তুলে আনার অর্থনৈতিক সক্ষমতা অর্জন করে না।

unnamed-3

প্রতি এক বছর মাধ্যমিক স্কুলে থাকতে পারলে কর্মবাজারে তাঁর মজুরি ১৫-২৫ ভাগ বৃদ্ধির সম্ভাবনা থাকে। একজন মেয়ে আয় করলে তাঁর আয়ের ৯০ ভাগ সংসারে ব্যয় করে, পুরুষদের ক্ষেত্রে এ হার ৩০-৪০ ভাগ মাত্র। মেয়েদের বাল্যবিবাহ থেকে রক্ষা করার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, মাতৃত্বকালীন সুস্বাস্থ্য বজায় রাখা, এইচআইভি/এইডস এর মত মহামারীর বিরুদ্ধে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রাপ্তবয়সে সুস্থ সন্তান জন্মদান নিশ্চিত করা। তিন বলেন, শুধুমাত্র বিয়ের ক্ষেত্রে একমাত্র গ্রহণযোগ্য জন্ম সনদ হবে “ডিজিটাল জন্ম সনদ”।

https://mail-attachment.googleusercontent.com/attachment/u/0/?view=att&th=158d899d0b877856&attid=0.3&disp=inline&realattid=f_iweq4ito2&safe=1&zw&saddbat=ANGjdJ9ZTBby9hzTLJoyEdwTxbEApYRXsrgc44dcRrU8fh_Rla2k1TdnPZRXRboE5KAxo6_4LqLGXUekiaefM23aVJhXT-nRPNV7gZdoDwWMyB4WcYVJQ9IWWAqDGfUh5mjag0CFs_h_S1ZfxtxhxLFx7X5zDYB-6YrR9l5nZ9myGaCbDqyN6mk1O8ggV8V8uro5J62CfZC__jXGfoyH23DMLQOTj8XLYRu_xX1tMme7wovUj-6cTdxIttcdHZJ-i8h7U_d_LBu7QvXkk0cRZ9dTq-ooN6-WgZ20_RrwprS-guNAU-Pn0qEeLWEY8lER9crrxo-7wlLtDxgqoDhIoJX00uQPdvpShesYnAWPLWBpzQN1Ayt_ylOd01Z2KDOcEyCnKXmaOWi4ujfGRSAdUs9hcrgNun6gDsgyxD3DOz4CcPEVR-fhSInZQ3C6Js-h0tF_c_M48HkcyhCElUzCFxO0xL1dMaEsyPkIzXZuATsnzlN7mF3WU1kmdyCdLCL_q8YBUthy-FqfSm9hIydIce8q5KqBqwj6mszYzZsM1IMKUuNj_rTMLwziIYLd5iy9H4Hl-8HzAFfb0j8ePs8xe4MOD2Q8Q16vlGv1LUJwtSt5rg0pD436Ka1rogwHfsea8oITefUHegIC6HEAccswFGbS5QaWBo03P8zQx76ibg

বিয়ের ক্ষেত্রে জন্ম সনদের রোটারি পাবলিকের কোন এফিডেভিট গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি জানান, ২০১৪ সালে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক “কন্যা-শিশু সম্মেলনে”- মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বাল্য বিবাহ বন্ধের অঙ্গীকার করেছিলেন। সে অঙ্গীকার বাস্তবায়নে কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসন নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি বাল্যবিবাহ সংক্রান্ত আইন, সরকারের নির্দেশনা এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসনের জিরো টলারেন্স অবস্থানের বিষয়টি সকলকে অবহিত করেন এবং বাল্যবিবাহ নিরোধে সকলকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহবান জানান।

unnamed-1

বক্তব্য শেষে তিনি বাল্য বিবাহ এর বিরুদ্ধে শপথ বাক্য পাঠ করান। বাল্য বিবাহ এর বিরুদ্ধে লাল কার্ড প্রদর্শন অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকলের হাতে ছিল “বাল্য বিবাহকে লাল কার্ড“ সম্বলিত পোস্টকার্ড। অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিক্ষার্থীসহ সকলে বাল্য বিবাহকে না বলেন।

মুক্তিযোদ্ধার কণ্ঠ ডটকম/০৭-ডিসেম্বর-২০১৬ইং/নোমান

Comments

comments

You might also like More from author

Leave A Reply

Your email address will not be published.

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ