ব্রেনের সাবালক হয়ে ওঠার জন্য কোনও নির্দিষ্ট বয়স নেই–জানাল গবেষণা

নতুন প্রজন্ম ডেস্ক :

বয়স ‘পাকে’ ঠিকই, কিন্তু ঠিক কোন বয়সে আমাদের ব্রেন (মস্তিষ্ক) ‘পাকে’, তা কেউ জানেন না!

১৮ বছর বয়সে পা দিলেই আমরা সরকারি হিসেবে ‘সাবালক’ হয়ে উঠি। ভোট দেওয়ার অধিকার পাই।

পারি জনপ্রতিনিধি বেছে নেয়ার ব্যাপারে নিজেদের মতামত জানাতে। কিন্তু ১৮ বছর বয়সে পা দিলেই যে আমাদের ব্রেন সত্যি-সত্যিই একেবারে আক্ষরিক অর্থে, সাবালক হয়ে ওঠে, হালের গবেষণা তা বলছে না। বলছে, ব্রেনের বৃদ্ধি-বিকাশের ‘স্কেলে’ মাপতে গেলে পুরোপুরি সাবালক হয়ে ওঠার কোনও নির্দিষ্ট কোনো বয়স নেই। শরীরের বাড়-বৃদ্ধির সুনির্দিষ্ট বয়স থাকলেও, ব্রেনের সাবালক হয়ে ওঠার জন্য কোনও নির্দিষ্ট বয়স নেই। তা ২০, ২২, ২৪, ২৬ এমনকী, ৩০ বছর বয়স পর্যন্ত সময় নিতে পারে পুরোপুরি সাবালক হয়ে ওঠার জন্য।

নিউরো-সায়েন্টিস্টরা এখনো জানতে, বুঝতে পারেননি, বয়ঃসন্ধিকালটা ঠিক কখন, কোন বয়সে শেষ হয়ে যায়, আর ঠিক কোন বয়স থেকে শুরু হয়ে যায় আমাদের ব্রেনের সাবালক হয়ে ওঠার প্রক্রিয়া। মোটামুটি ৩০ বঠর বয়স পর্যন্ত আমাদের ব্রেন নিজেকে বদলে বদলে চলে। কখনও দ্রুত হারে, বেশি পরিমাণে, কখনও-বা ধীরে, তুলনায় একটু কম পরিমাণে।

আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান-জার্নাল ‘নেচার-নিউরোসায়েন্স’-এ প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্রে এমনটাই দাবি করা হয়েছে। মূল গবেষক হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইকোলজি বিভাগের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর লিয়া সমারভিলে বলেছেন, ‘এমন কোনও নির্দিষ্ট বয়স নেই আমাদের, যাতে পা দিলেই বলা যায়, ব্রেনটা পুরোপুরি সাবালক হয়ে গিয়েছে। তবে খুব নিরাপদে এটুকু অন্তত বলা যায় যে, ১৮ বছর বয়স পেরিয়ে গেলেই ব্রেনের পুরোপুরি সাবালক হয়ে ওঠার প্রক্রিয়াটা শুরু হয়ে যায়। ’

কেন ব্রেন থেকে বোঝা যায় না আমরা সাবালক হয়ে উঠতে পেরেছি কি না?

অধ্যাপক সমারভিলে বলেছেন, ‘যেহেতু আমাদের ব্রেনের বিভিন্ন অংশ বিভিন্ন সময়ে বিকশিত হতে শুরু করে। আর সেই বিকশিত হয়ে ওটার সময় ও গতিটাও ব্রেনের এক এক অংশের ক্ষেত্রে এক এক রকমের। কোথাও বেশি। কোথাও কম। ব্রেনের বিকশিত হয়ে ওঠার প্রক্রিয়াটা অনেকটা তরঙ্গের মতো। এক দিকে ঢেউ উঠছে তো অন্যদিকে সেই ঢেউ কিছুটা নেমে যাচ্ছে। তাই কী ভাবে দেখছি, কোন দিক থেকে দেখছি, মাপছি আর ব্রেনের কোন অংশটির বাড়-বৃদ্ধির ওপর নজর রাখছি, তার ওপরেই নির্ভর করে সব কিছু। আর যেহেতু ব্রেনের ‘সাবালকত্ব’ মাপার কোনও নিশ্চিত পদ্ধতি বা যন্ত্র নেই, তাই ঠিক কোন বয়সে পৌঁছে আমাদের ব্রেন এই সিগন্যাল দেবে যে, ‘বড় হয়ে গিয়েছ’, সেটাও বলা যায় না সঠিক ভাবে। ’

গবেষণাপত্রে লেখা হয়েছে, আমাদের ব্রেন মোটামুটি ভাবে দু’রকমের কলা দিয়ে গঠিত। গ্রে ম্যাটার আর হোয়াইট ম্যাটার। জীবনের প্রথম পর্বে গ্রে ম্যাটার খুব দ্রুত বাড়ে, বিকশিত হয়, ছড়িয়ে পড়ে। নার্ভগুলির মধ্যে ওই সময় যোগাযোগটা হয় খুব দ্রুত। তখন আমরা দ্রুত শিখতে পারি, মুখস্থ করলে তাড়াতাড়ি মুখস্থ হয়ে যায়। আর তা অনেক দিন মনেও রাখতে পারি। তার পর যখন আমাদের দেহ চার দিকে বেড়ে ওঠে, তখন ব্রেন একটু একটু করে গ্রে ম্যাটারের সংখ্যা কমিয়ে ফেলতে শুরু করে। বাড়াতে শুরু করে হোয়াইট ম্যাটারের সংখ্যা। তার ফলে ব্রেনের এক অংশ থেকে অন্য অংশে সিগন্যালগুলি দ্রুত যাতায়াত করে, দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে ব্রেনের এক কিনারা থেকে অন্য কিনারায়। তাতে অবশ্য ব্রেনের আয়তনের কোনও হেরফের হয় না। ১৩ বছর বয়সে পৌঁছনোর পর থেকেই এক শতাংশ গ্রে ম্যাটার কমিয়ে ফেলে ব্রেন। আর তার জায়গায় এক শতাংশ বেশি হোয়াইট ম্যাটার ব্রেন বানিয়ে ফেলে। তবে মোটামুটি ভাবে ব্রেনের বড়সড় পরিবর্তনগুলি হয়ে য়ায় ২০/২২ বা ২৪ বছর বয়সের মধ্যেই। তবে তা সেষ হতে ৩০ বা ৩২ বছরও হয়ে যেতে পারে। এমনকী, তা বেড়ে হতে পারে ৩৫ বা ৪০ বছরও। তবে পুরুষদের চেয়ে মহিলাদের ব্রেন সাবালক হয়ে উঠতে শুরু করে একটু কম বয়স থেকে। তবে তারও কোনও সুনির্দিষ্ট বয়স নেই।

সূত্র: আনন্দবাজার

মুক্তিযোদ্ধার কণ্ঠ ডটকম/২৩-ডিসেম্বর-২০১৬ইং/নোমান

Comments

comments

You might also like More from author

Leave A Reply

Your email address will not be published.

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ