রায়পুরে নারিকেল ও ছোবা বিক্রি করে স্বাবলম্বী হয়েছে কৃষকেরা

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ ,
ডিসেম্বর ২৫, ২০১৬ ২:৫১ অপরাহ্ণ

মনির হোসেন রবিন, লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধিঃ 

নারিকেল শুপারিক্ষেত জেলা লক্ষ্মীপুর। অনেকে আবার বলে লক্ষ্মীপুর নারিকেল শুপারির রাজধানী। আগে অনেকে নারিকেল থেকে ছোবা ছাড়ানোর পর তা ফেলে দিতো। কিন্তু এখন ওই পরিত্যক্ত ছোবা দিয়ে তৈরী হচ্ছে নানা রকমের প্রসাধনী সামগ্রী। এর মধ্যে রয়েছে জাজিম,সোফা ও চেয়ারের গদির মত প্রয়োজনীয় প্রসাধনী সামগ্রী। ছোবা রপ্তানী করে জীবন ও জীবিকা চলছে লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর উপজেলার হায়দারগঞ্জ বাজার পাশবর্তী ৮/১০টি পরিবারের।

তবে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে কাঁচা ও শুকনো নারিকেল সংগ্রহ করে ছোবা ছাড়িয়ে মেশিনের সাহায্যে মাড়াই করে ৪০-৫০ কেজি আকারের বেল্ট বেঁধে রপ্তানি করা হয় রাজধানী সহ দেশের বিভিন্ন জেলায়। তাছাড়া বিভিন্ন স্থান থেকে খুচরা ও পাইকারী ক্রেতারা এসে এগুলো ক্রয় করে নিয়ে যায়। মহাজনের সাথে কথা বলে জানা যায় মহাজন নিজে ও ব্যপারীদের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে কাঁচা ও শুকনো নারিকেল সংগ্রহ করে। নারিকেলের ছোবা ছাড়ানো শ্রমিকদের সাথে কথা বলে জানা যায় এক হাজার নারিকেলের ছোবা ছাড়াতে তারা মজুরী পায় ৫০০-৬০০ টাকা। ছোবা ছাড়ানো শেষে মেশিনের সাহায্যে সেগুলো মাড়াই করে রোদে শুকিয়ে প্রস্তুত করা হয় জাজিম , সোফা ইত্যাদি তৈরির জন্য। পরে সেগুলো বাজার জাত করার জন্য বেল্ট আকারে বাধা হয়। ছোবা থেকে ছাড়ানো নারিকেল গুলো তৈল মেইলে বিক্রি করা হয়।

নারিকেল থেকে ছোবা ছাড়ানো শ্রমিক আবুল কালাম ‘মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ’কে জানান,তিনি ১৫ বছরের অধিক সময় ধরে এই কাজ করে আসছেন। তিনি এই কাজ করে পরিবার পরিজন নিয়ে ভালো আছেন। তিনি আরো জানান এই কাজ পুরো বছর থাকে না তবে পুরো বছর থাকলে অনেক ভালো হতো। অপর শ্রমিক কাউছার জানান ৫ বছর ধরে এই কাজ করে আসছি। প্রতিদিন কতগুলো নারিকেলের ছোবা ছাড়াতেন পরেন এমন প্রশ্নে তিনি জানান প্রতিদিন ১৮’শ থেকে ২ হাজার নারিকেলের ছোবা ছাড়াতে পারেন। এতে তার আয় হয় প্রায় ১২ শত টাকা। মহাজন আঃ রহীম জানায় ১০ বছরের অধিক সময় ধরে তিনি এই ব্যবসা করে আসছেন। দেশের ভিভিন্ন স্থান থেকে নারিকেল সংগ্রহ করে তা থেকে ছোবা বের করেন। সেগুলো মাড়াই করে শুকিয়ে বেল্ট বেধে রাজধানী সহ দেশের ভিভিন্ন জেলায় রপ্তানি করেন। তিনি আরো জানান নারিকেলের ছোবা সারা বছর চলে না বছরে ছয় মাস এর সিজন থাকে এ সময় ভালো চলে এবং শ্রমিকদের ব্যস্ততা বেড়ে যায়।৭/৮ জন শ্রমিক সারা বছর কাঝ করে। নারিকেল সংগ্রহ থেকে ছোবা বাজার জাত করন পযন্ত কাজ করে। মালিক ও মহাজনরা শ্রমিকদের মাসিক কিংবা চুক্তি ভিত্তিক প্ররিশ্রমিক দিয়ে থাকেন।

 

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ ডটকম/২৫-১২-২০১৬ইং/ অর্থ 

Leave A Reply

Your email address will not be published.