জীবন যুদ্ধে জয়ী অষ্টগ্রামের ‘রতিবালা দাস’

মন্তোষ চক্রবর্তী, অষ্টগ্রাম (কিশোরগঞ্জ): 

বিত্তহীন ছিন্নমূল বাচার পথরুদ্ধ এক নারী চেষ্টা আত্ম প্রত্যয় ও কর্ম সাথী করে স্বাবলম্বী হয়ে উঠার এক দৃষ্টান্ত রতিমালা দাস। এলজিএইডির হিলিপ, উপজেলা কৃষি কার্যালয়ের বিভিন্ন প্রশিক্ষন, দক্ষতা, কর্মচাঞ্চল্য ও সুনামের অধিকারী মালা পুত্র সন্তান নিয়ে এখন সুখেই দিনাদিপাত করছেন। প্রত্যন্ত অঞ্চল হাওড় বেষ্টিত অষ্টগ্রামে জন্ম গ্রহণ করে সকল পরাশক্তিকে পরাজিত করে আন্তর্জাতীক নারী দিবসের স্বাবলম্বি হিসাবে জাতীয় পুরস্কার অর্জন করেছেন। তার স্বামী জয়ানন্দ দাসের মানষিক রোগের চিকিৎসা করাতে গিয়ে বিক্রি করতে হয় জমিজমা সব কিছু। কিন্তু সে স্বামীও একসময়ে নিরুদ্দেষ হয়ে আজও ফেরেনি। একমাত্র সন্তান নিয়ে শ্বশুরালয়ে নানা নির্যাতন এমনকি দিনের পর দিন অনাহার, অনিদ্রা সহ সকল পরাশক্তিকে পরাজিত করে রতিবালা এখন ব্যাংক ব্যালেন্স সহ সর্বক্ষেত্রে স্বনির্ভর, স্বাবলম্বি। একমাত্র পুত্র রাজিব এখন লেখা পড়া করছে।

অষ্টগ্রাম উপজেলার পূর্বঅষ্টগ্রাম ইউনিয়নের দাস পাড়ার এক দর্রিদ পরিবারের সন্তান রতিবালা দাস। সাংসারিক অস্বচ্ছলতার কারনে রতিবালা যখন দশম শ্রেনীর ছাত্রী তখন পার্শবর্তী সদর ইউনিয়নের জয়ানন্দ দাসের সাথে তার বিয়ে দেয়া হয়। বিয়ের কিছুদিন পরেই স্বামীর মানষিক রোগ ধরা পড়ে। ইতিমধ্যেই তার গর্ভে এক পুত্র সন্তান জন্ম গ্রহণ করে। জমি জমা সব বিক্রি করে, এমনকি দরিদ্র পিতার সহায়তা নিয়েও ঢাকা সহ বিভিন্ন স্থানে চলে স্বামীর চিকিৎসা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত জয়ানন্দ হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে পড়ে। সে অদ্যবধি নিখোঁজ রয়েছে। এ সুযোগে রতিবালার উপর চলে শ্বশুরালয়ের লোকজনের নানা নির্যাতন। শিশু সন্তান কোলে নিয়ে নির্যাতন, অনাহার আর অর্ধাহারে অতিষ্ট হয়ে শেষ পর্যন্ত দরিদ্র পিতার নিকট আশ্রয় গ্রহণ করে। পিতার পক্ষে তার ভরন পোষন কষ্ট সাধ্য হয়ে উঠে। রতিবালা শেষ পর্যন্ত কৃষি মজুর হিসেবে কাজ শুরু করে এবং অতি কষ্টে এসএস সি পাশ করে। ২০১৪ সালে এল জি ই ডি কর্তৃক বাস্তবায়িত হিলিপ প্রকল্পের আওতায় ১৫ দিন প্যারাভেট প্রশিক্ষন গ্রহণ করেন এবং প্রশিক্ষনের পর স্থানীয় এনজিও পপির মাঠকর্মী হিসেবে যোগদান করেন।। বেতন মাত্র ১৯৫০ টাকা। অতিকষ্টে সংসার চালিয়ে প্যারাভেট কর্মী হিসেবে এলাকার বিভিন্ন্ গবাদী পশু ও হাসঁ মুরগীর টিকা দিতে থাকেন্ এবং এলাকার পশু ডাক্তার হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। রতিবালার ভাগ্যের চাকা ঘূরে দাড়ায়। প্রাইভেট পশু চিকিৎসায় রতিবালার মাসিক আয় ৫ হাজার টাকার উর্ধে উঠে। এ বাড়তি আয় আর পপির মাসিক বেতনে পুত্র ও মায়ের সংসার চালিয়ে বাড়তি আয় হতে থাকে। এরমধ্যে নিজস্ব উদ্যোগে গড়ে তুলেন একটি মুরগীর খামার। সঞ্চিত অর্থে একটি সেলাই মিশিন, একটি বকনা থেকে গাভী হয়ে যায়। কিছু জমি বর্গারেখে নিজ খরচে ফসল ফলায় । রতিবালা এখন লক্ষাধিক টাকার মালিক।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলাজিইড) সদর দপ্তরে অনুষ্টিতব্য আন্তর্জাতিক নারী দিবস ২০১৭ উদযাপন উপলক্ষে সেক্টর ভিত্তিক শ্রেষ্ঠ আত্মনির্ভবশীল নারীদের সম্মাননায় হিলিপের রতিবালা পানি সম্মদ উ্ন্নয়ন সেক্টর থেকে জাতীয় ভাবে প্রথমস্থান অধিকার করে।

 

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ ডটকম/০৮-০৩-২০১৭ইং/ অর্থ 

Comments

comments

You might also like More from author

Leave A Reply

Your email address will not be published.