রাজধানীর ব্যস্ততম রাস্তার পাশে দূর্ঘটনার পানে দাঁড়িয়ে আছে অবুঝ শিশু

সোহেল ইবনে ছিদ্দিক, স্টাফ রিপোর্টার (ঢাকা): 

ঢাকার একটি অতি ব্যস্ততম এলাকা ফার্মগেট। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষের চলাচল এই ফার্মগেটে। ফার্মগেটের এক পাশে রয়েছে একটি ছোট্ট পার্ক। পার্কটির চারপাশ দিয়ে দিনরাত চলাচল করে শতশত গাড়ি। গাড়ির ধোয়া আর ধুলোবালিতে পার্কের ভেতরের পরিবেশ একেবারে নাজেহাল অবস্থা। গাছগুলো শুকিয়ে গেছে, বড় বড় অনেকগুলো গাছ মরে গেছে। তবুও সাপ্তাহিক ছুটিরদিন ও প্রতিদিন বিকেলে প্রচুর লোক আসে এই পার্কে।

আশেপাশে কোন খেলার মাঠ না থাকায় এই পার্কেই একসাথে অনেক মানুষ দলে দলে বিভক্ত হয়ে খেলাধুলা করে, দেখে বোঝাই যায় না কে বল করছে, কে বেট করছে বা কে ফিল্ডিং দিচ্ছে তবু খেলেই যাচ্ছে। কি আর করার কয়েকদিন আগে আমিও গিয়েছিলাম সেই পার্কে। পাশদিয়ে হাটছিলাম হঠাৎ চোখে পড়ল একটি দৃশ্য। ১০-১২ মাস বয়সী একটি শিশু রাস্তার পাশে রাখা একটি আইসক্রিমের ভ্যানের সামনে দাড়িয়ে খেলছে।

আইসক্রিম ভ্যান এর উপরে এলোমিনিয়ামের প্রলেপ থাকায় স্বচ্ছ আয়নার মত শিশুটার ছবির প্রতিবিম্ব তৈরি হচ্ছে, আমি অনেকখন দাড়িয়ে দেখলাম, শিশুটি নিজের প্রতিবিম্বের সাথে নিজে খেলছে। ওর খেলাটা আমার কাছে অসাধারন লাগছিল তাই আমি দাড়িয়ে দেখেই যাচ্ছিলাম।
কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হল শিশুটির আশেপাশে তাকে দেখার মত কেউ ছিল না, ওর মা বাবা বা ওর কোন আত্বীয়স্বজনও ছিল না। অথচ পাশের রাস্তাদিয়ে দ্রুুতগতিতে গাড়ি চলছিল। যদি কোন সময় শিশুটি নীচে নামে তবে মুহুর্তের মধ্যেই ঘটে যেতে পারে যে কোন ধরনের দূর্ঘটনা।
কে নেবে এই দুর্ঘটনার দায়…! বাবার কোন ঠিক ঠিকানা নাই, মা জীবন আর জীবিকার সন্ধানে হয়ত ঘুরছে কোথাও। কিন্তু এই অবুঝ শিশুটি বুঝে গেছে তার ঠিকানা আর সে ঠিকই খুজে নিয়েছে তার নিত্যদিনের খেলার সাথিটিকে। তাই সে ওখানেই খেলছে। আমি অনেকক্ষণ দাড়িয়ে দেখলাম, শিশুটি রাস্তার নীচে আর নামেনি। তার কিছুক্ষন পর দেখলাম একটা মহিলা এসে ওকে নিয়ে গেল, কথা বলার সুযোগও পেলাম না।
নি জেকে নিয়ে অনেক ভাবি অনেক চিন্তা করি। নিজের পাওয়া না পাওয়া নিয়ে অনেক কিছু বলি কিন্তু ঐ মুহূর্তে নিজেকেও অনেক স্বার্থপর মনে হয়েছে। মনে হয়েছে আমাকে আল্লাহ ওর তুলনায় অনেক বেশি দিয়ে দিয়েছে। আমার থেকে কিছু নিয়ে যদি ওকে দিত তবে হয়ত নিজের দায় কিছুটা এড়াতে পারতাম।
মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ ডটকম/০৮-০৩-২০১৭ইং/ অর্থ 

Comments

comments

You might also like More from author

Leave A Reply

Your email address will not be published.

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ