নিকলীর ক্ষুদে বিজ্ঞানীদের অভিনব আবিস্কার

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ রির্পোট।।

নিকলী উপজেলার দামপাড়া ইউনিয়নের উত্তর দামপাড়া সাহেবের হাটির উদ্ভাবক দুই ভাই বেশ কয়েকটি সময়োপযোগী যন্ত্র তৈরি করে এলাকায় আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে চোর ধরার যন্ত্র, ব্লু-টুথের সাহায্যে ফ্যান চালানো, ব্লু-টুথ ও গানের সাহায্যে ডানে-বামে নৌকার নিয়ন্ত্রণসহ আরো কিছু। নেহায়েত খেলার ছলেই তারা এগুলো করেছেন। স্বপ্ন দেখছেন আরো নতুন নতুন কিছু উদ্ভাবনী কাজে এগিয়ে যাওয়ার।

নিকলী উপজেলার দামপাড়া ইউনিয়নের দুই ক্ষুদে বিজ্ঞানী। দুই ভাই। মো. হারিছ ও মো. পারভেজ। বাবার নাম মো. মিন্নাত আলী। পেশায় কৃষিজীবী ও শ্রমজীবী। মা মোছা. বানেছা; গৃহিণী। ৫ ভাই ও ৪ বোন।

মোঃ হারিছ দামপাড়া কারার মাহতাব উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ে ৮ম শ্রেণীতে এবং অন্যজন মোঃ পারভেজ নিকলী মুক্তিযোদ্ধা আদর্শ কলেজে কমার্স গ্রুপ থেকে ২০১৭ অনুষ্ঠিত এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবে। তাদের উদ্ভাবিত যন্ত্রগুলো বিভিন্ন বন্ধুসভা ও সর্বশেষ নিকলী উপজেলা বিজ্ঞান মেলায় পরীক্ষা করা হয়েছে।

তাদের উদ্ভাবিত যন্ত্রের একটি হলো মোবাইলের ব্লু-টুথের মাধ্যমে ফ্রিজ, টিভি, বৈদ্যুতিক পাখা, বৈদ্যুতিক বাল্ব ইত্যাদি ইলেক্ট্রনিক ও ইলেকট্রিক সামগ্রী যে কোনো স্থান থেকে অন-অফ করা। এই প্রক্রিয়ায় ইলেক্ট্রিক পণ্যটির সাথে যে মোবাইলটির সংযোগ দেয়া হবে এর মাধ্যমে যখন খুশি অন-অফ করা যাবে।

দ্বিতীয়টি হলো চুরি রোধে অতি কার্যকর একটি ডিভাইস। ঘরের দরজা, আলমারি বা গুরুত্বপূর্ণ কোথাও উদ্ভাবিত যন্ত্রটি স্থাপন করা হলে অযাচিতভাবে কেউ খোলার চেষ্টা করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে এটি বেজে উঠবে। সাথে সাথে যন্ত্রটি নির্দিষ্ট মোবাইলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কল দেবে; যাতে মালিক সতর্কতাসহ দ্রুততার সাথে চোর আটকাতে ব্যবস্থা নিতে সক্ষম হবেন।

আরো যে প্রকল্পগুলো প্রক্রিয়াধীন : ট্যাংকিতে পানির পরিমাণ ঘরে বসেই জানা, রিমোট কন্ট্রোলার খেলাগুলো মোবাইলের ব্লু-টুথের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণসহ আরো কিছু নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে সহায়ক পদ্ধতি।

তাদের আবিস্কার নিয়ে কথা হয় থানা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের সাথে। তিনি জানান, নিকলী বিজ্ঞান মেলায় যৌথভাবে প্রথম হয়েছে মুক্তিযোদ্ধা আদর্শ কলেজ ও দামপাড়া কারার মাহতাব উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়। তবে তিনি কলেজ ও বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর নাম বলতে পারেননি। তিনি তাদের এই অভিনব আবিস্কারে খুবই অভিভূত এবং তাদের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন।

তিনি আরও জানান, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী ভূমি কর্মকর্তা উক্ত বিজ্ঞান মেলা পরিদর্শন করেন ও সকলের সমম্বয়ে গঠিত জুরিবোর্ড তাদের যৌথভাবে প্রথম হিসাবে ঘোষণা করেন।

এছাড়াও তাদের আবিস্কার নিয়ে কথা হয় দামপাড়া কারার মাহতাব উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন (দুলাল)-এর সাথে। তিনি জানান, বড়ভাই পারভেজও এই স্কুলেরই ছাত্র ছিল। ছোট ভাই হারিছ বর্তমানে এই বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণীতে পড়ছে। তিনি একটি বিষয় নিশ্চিতভাবেই জানান, যে দু’টি আবিস্কারের জন্য তাদের যৌথভাবে প্রথম ঘোষণা করা হয় সে দু’টি আবিস্কারই ছোটভাই মোঃ হারিছের। বড়ভাই পারভেজ ও ছোটভাই হারিছ দু’জন মিলে অনেক ধরনের আবিষ্কার করেছে এবং তিনি বিদ্যালয়ে এসব যন্ত্রপাতি পরীক্ষা করেও দেখেন। তারা বিদ্যালয়ে বিনয়ী ও ভদ্র ছেলে হিসেবে পরিচিত। তিনি তাদের এই কাজগুলোর ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখার জন্য সরকার ও সমাজের বিত্তবানদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সামান্য পৃষ্ঠপোষকতা পেলে তারা আরো বড় ধরনের আবিষ্কার করতে পারে যা আমাদের ব্যক্তি, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে কাজে লাগতে পারে।

জানা যায়, এসব বিষয়ে উদ্ভাবক দুই ভাই কোনো ধরনের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেনি। নিজে নিজেই এগুলো তৈরি করেছে। বিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ, সহপাঠি, প্রতিবেদক ও পাড়া প্রতিবেশী অনেকেই তাদের এই উদ্ভাবনী কাজে উৎসাহ জুগিয়েছেন ও জোগাচ্ছেন।

আরো অনেক যন্ত্র আবিস্কারের কাজ চলমান রয়েছে। প্রতিনিধির সাথে কথোপকথনে ক্ষুদে বিজ্ঞানী ভ্রাতৃদ্বয় জানান, আরো কয়েকটি যন্ত্র তৈরির কাজ প্রক্রিয়াধীন। এমন উদ্ভাবনী কাজে এগিয়ে যাওয়ার জন্য আমাদের পৃষ্ঠপোষকতা দরকার। তারা আরো জানান, আমাদের প্রতিটি ডিভাইস তৈরিতে খরচ হয় ১১০০ টাকা থেকে ৩৫০০ টাকা পর্যন্ত।

উল্লেখ্য, কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বিজ্ঞান মেলায় হারিছ ও পারভেজ তৃতীয় হয়। কিশোরগঞ্জ পুরাতন স্টেডিয়ামের অনুষ্ঠানে পুরস্কার প্রদান করেন কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসক।

ছবি ও তথ্য সংগ্রহ : আজমল আহসান ও সবুজ 

 

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ ডটকম/১৯-০৩-২০১৭ইং/ অর্থ 

Comments

comments

You might also like More from author

Leave A Reply

Your email address will not be published.

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ