পাহাড়ী ঢল ও প্রবল বর্ষনে কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলের ইরিবোরো জমির কাচাঁপাকা ধান তলিয়ে যাচ্ছে

আমিনুল হক সাদী, নিজস্ব প্রতিবেদক: 

প্রবল বর্ষনে কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলের হাজার হাজার একর ইরিবোরো জমির কাচাঁপাকা ধান তলিয়ে যাচ্ছে। এতে করে কৃষকরা উদ্বিগ্ধ হয়ে পড়েছেন।

জানা গেছে গত কয়েক দিনের বর্ষনে ও পাহাড়ী ঢলে জেলার হাওর উপজেলা অষ্টগ্রামে,ইটনা,মিঠামইনে কয়েক হাজার একর জমি পানির নীচে তলিয়ে গেছে। এর মধ্যে অষ্ট্রগ্রামেই ২৫ হাজার একর জমির কাচাঁপাকা ধান তলিয়ে গেছে। হাওরাঞ্চলের কয়েকটি বাঁধ ভেঙ্গে বোর জমিতে পানি প্রবেশ করেছে। এতে হাজার হাজার কৃষক পড়েছে বিপাকে। বোর জমি চোখের সামনেই পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। কৃষি বিভাগ জানিয়েছে জেলার অষ্ট্রগ্রাম,মিঠামইন,ইটনা,করিমগঞ্জ ও নিকলীর হাওরে ৯ হাজার ২ শত ৬৫ হেক্টর জমি সম্পুর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এর চেয়ে বেশি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে কৃষকরা জনিয়েছে।

পানির নিচ থেকে কৃষকেরা ডুবিয়ে ডুবিয়ে কাচাঁপাকা ধান কেটে আনছে। এই ক্ষতির ফলে অষ্টগ্রাম সদর, পূর্ব অষ্টগ্রাম, কলমা, আদমপুর, আব্দুল্লাপুর, খয়েরপুর আব্দুল্লাপুর, কাস্তল, বাংগালপাড় ইউনিয়ন, ইটনা উপজেলার বরিবাড়ি, রায়টুটি, এলেংজুড়ি, বাদলার ভান্ডার বাধ,খুনা তলার বাধ,থানেশ্বর,কুর্শির বাধ ,ধনপুর ও মৃগা ইউনিয়নের ঝুকিপুর্ন জিওলের বাঁধ, তেরাইল্লার বাঁধ, কাটইর দীনেশপুরের কাটাকালির বাঁধ, মৃগার বাধ,বাউন্দিগা, কলাবিল, নরবিল ও কালিপুরের বাধ ঝুকিপুর্ন রয়েছে। এছাড়াও নিকলী, করিমগঞ্জ ও মিঠামইনের অনেক জমি তলিয়ে গেছে । এতে করে মাঝারী কৃষক, বর্গাচাষীই বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।

সোমবার ক্ষতিগ্রস্ত হাওরাঞ্চলের পরিদর্শনে আসেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ঢাকা অ লের অতিরিক্ত পরিচালক ড.এম এ মুঈদ। তিনি অষ্ট্রগ্রামের হাওরের বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় তার সাথে ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদ্পতরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মো.সফিকুল ইসলামসহ উপজেলা কৃষিকর্মকর্তাগন।
হাওড়ে হেমন্তে একমাত্র ফসল বোরো উৎপাদন ছাড়া বর্ষাসহ ৭-৮ মাস বর্ষার পানিতে জল মগ্ন থাকে। তবু উৎপাদিত ইরিবোরো ধানের ২০ শতাংশ স্থানীয় চাহিদা পুরণ করে ৮০ ভাগ উন্নতমানের ধান দেশের ভিবিন্ন শহর বন্দর বাজারে বিক্রিসহ জাতীয় খাদ্য ভান্ডারে যোগান হয়ে থাকে। হাওর অঞ্চলটি দেশের অন্যান্য অঞ্চল থেকে নিচু এমনকি কোনো কোনো সমূদ্রের তলদেশ হইতে নিচু রয়েছে। এই অঞ্চলে রয়েছে প্রচুর বিল বাদার ও হাওর। অগনিত সুইচগেইট কালভার্ট অপরিকল্পিত বাঁধের সমাহার, প্রকৃতির রৌদ্র রসে এই অঞ্চলে কোন কোন বছর রোপণের সময় অর্থ্যাৎ কার্তিক অগ্রহায়নের মাসের পানির আটকে থাকার কারনে সময়মত কৃষকেরা রোপন করতে পারে না। আবার কোন বছর চৈত্র বৈশাখ মাসেই অকাল বন্যা, অতিবৃষ্টি, শীলবৃষ্টি ও বাঁধ ভেঙ্গে প্রচুর ফসল বিনষ্ট সহ জনজীবন বিপন্ন করে দেয়। গত মঙ্গলবার থেকে এ অঞ্চলে ক্রমাগত বর্ষনের এই অঞ্ছলের মেঘনা, ধলেশ্বরী, বৈঠাখালী, করাতিয়া কলকলিয়া, ঘোরাউত্রা, বলাকা ইত্যাদি নদীতে ব্যাপক পানি বৃদ্ধি পায়। এছাড়াও বিল-মাকসা, ধোপাবিল, আন্দামান্দা, পদবিল, কৈরাইলের ইত্যাদি বিল বাদার গুলোর পানি অস্বাভাবিক ভাবে বৃদ্ধি পায়। ফলে নদীর তীরবর্তী বিল বাদার ও চরা লে ইরি বোরো ধানি ক্ষেতে শত শত একর কাঁচাপাঁকা ধান তলিয়ে মারাত্নক ক্ষতি সৃষ্টি করে। এ ব্যাপারে আব্দুল্লাপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়াম্যান আঃ রশিদ, কলমার যুবলীগ নেতা ও কৃষক রামচরন দাস পূর্ব অষ্টগ্রাম ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মোঃ কাছিদ মিয়া, বাংগালপাড়া বিশিষ্ট কৃষক বিদ্যুৎ রায় জানান এই বর্ষনে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এই উপজেলার বিল-মাকসা, ধোবাবিল, বিল বল্লি, গাইযালা বেরি বিল ইত্যাদি বড় হাওড় আব্দুল্লাপুরের হাওড়, সমারচর কালীপুরের হাওড়, চরপ্রতাব, কাওরাইল, ইকরদিয়ার চর ইত্যাদি বিল ও চর এবং মেঘনা, করাতিয়া কলকলিয়া, বৈঠাখালি ইত্যাদি নদীঘূরে দেখা গেছে প্রায় দশ হাজার কাঁচা-পাকা ধানের জমি তলিয়ে গেছে। অনেক জমিতে কৃষকেরা পানিতে ডুবিয়ে ডুবিয়ে কাঁচা-পাঁকা ধান কেটে আনছে বলে দেখাও যায়। কৃষক কৃষানী এমনকি সংশ্লিষ্ট জমির মালিক পরিবারের যুবক-যুবতী শিশু কিশোরেরা জমির পাড়ে বিষন্ন ভাবে দাড়িয়ে আছে।

 

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ ডটকম/০৩-০৪-২০১৭ইং/ অর্থ 

Leave A Reply

Your email address will not be published.