চারিদিকে যেন সবুজের সমারোহ : ইছামতি নদী’র বুকে ইরি-বোরো ধান চাষ

আল আমিন মন্ডল, গাবতলী (বগুড়া) প্রতিনিধি :

বগুড়ার গাবতলীতে ঐতিহ্যবাহী ইছামতি নদীতে এখন পানি থাকার কথা। এক সময়ে চলতো পালতোলা নৌকা। জেলেরা গান গাইতো। জাল দিয়ে ধরত মাছ। কৃষকেরা নদী থেকে ডোঙ্গা দিয়ে পানি তুলে জমিতে সেচ দিত। সেদিনে দেখা যেত মাছরাঙ্গা’সহ নানা প্রজাতির পাখি। কালের বির্বতনে এসব দৃর্শ্য আর চোখে পড়ে না। নদীর বুক মাটিতে ভরাট হয়ে গেছে। ফলে সৃষ্টি হয়েছে ফসলের মাঠ। আর সেই নদীর বুকে এখন ইরিবোরো ধান চাষ করা হচ্ছে।

এছাড়াও কৃষকেরা গম, ভূট্টা ও ডাল চাষ করছে। সেই ইরি বোরো ধান ক্ষেত পরিচযায় ব্যস্ত কৃষক পরিবার। কৃষকরা এখন দিনরাঁতে মাঠে ধান ক্ষেতে পানি, সার, কীটনাশক ও নিড়ানী দিতে ব্যস্ত সময় কাঁঠাচ্ছেন।

কৃষি অধিদপ্তর সুত্র জানায়, এ মৌসুমে উপজেলাতে ইরি বোরো ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে ১৮হাজার ১শ ৫০হেক্টর জমিতে। এছাড়াও অতিরিক্ত আরো ঐতিহ্যবাহী ইছামতি নদীতে জেগে উঠা জমিতে প্রায় ১শ হেক্টর বেশী জমিতে ধান চাষ করা হয়েছে। কৃষি বিভাগ আশা করছেন উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে। তবে দিনমজুর সংকট হওয়ায় কৃষকরা পুরোদমে ধানের চারাগাছ’সহ আগাছা পরিস্কার করছে। কাগইল কৈঢোপ গ্রামের কৃষক রাখিবুল হাসান জানান, ধান গাছে সময়মত পানি পাওয়ায় এখন গাছ সবুজবর্ন ধারন করেছে। চারিদিকে যেন সবুজের সমারাহ। যেদিকে তাঁকাই দৃষ্টি যেন জুড়িয়ে যায়।

গাবতলী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আঃ জাঃ মুঃ আহসান শহীদ সরকার জানান, ধান গাছের রোগবালাই দমনে কৃষকদের পরামর্শ ও সার্বিক সহযোগিতা করা হচ্ছে। এছাড়াও কৃষক ধানের বাম্পার ফলনের জন্য ক্ষতিকারক পোকা নিধঁনে আলোক ফাঁদ ও পার্চিং করছে।

উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা জুলফিকার আলী হায়দার জানান, এবছরে ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে।এছাড়াও উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাগন মাঠে কৃষকদের নিয়ে কাজ করছেন।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোসাঃ আয়েশা খাতুন জানান, ইছামতি নদীতে পানি না থাকায় ফসল ফলানো হচ্ছে। তবে নদী সংস্কার’সহ পুনঃখনন করা একান্ত প্রয়োজন।

উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা জাহেদুর রহমান জাহিদ, জাহাঙ্গীর আলম, এনামুল হক, জান্নাতুন মহল তুলি, ডিএস তনশ্রী ও সৌরভ হোসেন জানান, সারের সংকট নেই। ফলে এবছরে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশী জমিতে কৃষক ধান চাষ করছে। এছাড়াও মাঠে আমরা কৃষকদের নিয়ে কাজ করছি।

মুক্তিযোদ্ধার কণ্ঠ ডটকম/০৬-এপ্রিল-২০১৭ইং/নোমান

Comments

comments

You might also like More from author

Leave A Reply

Your email address will not be published.

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ