কয়েক দিন পর ঘরে উঠেছে সোনার ফসল সয়াবিন, হাঁসি কৃষকের মুখে

মনির হোসেন রবিন, লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি :

মেঘনা উপকূলবর্তী লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর উপজেলার বিস্তীর্ণ চরা লে এবারও সয়াবিনের চাষ হয়েছে। এখানকার পাঁচটি বড় চরে এখন যতদূরচোখ যায়সয়াবিনের সবুজ চারা যেন হাতছানি দিয়ে ডাকে। এতে দারুণ উচ্ছ্বসিত স্থানীয় কৃষকেরা।

ধান ও নারকেল-সুপারির পাশাপাশি চতুর্থ প্রধান অর্থকরী ফসল হিসেবে রায়পুরে সয়াবিনের চাষাবাদ দিন দিন বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে, যা ১১ বছর আগে শুরু হয়।

কম পুঁজিতে বেশি লাভ: বর্তমানে রায়পুর উপজেলার চারটি ইউনিয়ন ও পাঁচটি চরে সয়াবিনের চাষ হয়। স্থানীয় কৃষকেরা মেঘনা নদীতে জেগে ওঠা চরইন্দুরিয়া, চরজালিয়া, চরঘাসিয়া, চরকাছিয়া ও কানিবগার চরের হাজার হাজার একর জমিতে সয়াবিন চাষ করছেন। এসব চরের মাটি দোআঁশ জাতীয় হওয়ায় একবার লাঙ্গল চালালেই তা সয়াবিন চাষের উপযোগী হয়ে ওঠে। লাভও ভালো হয়। সে জন্য কৃষকেরা দিন দিন সয়াবিন চাষে ঝুঁকছেন।

কৃষক ও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, জানুয়ারি- ফেব্রুয়ারি মাসই হলো সয়াবিন আবাদের সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। সয়াবিন খেতে খুব একটা সারও দিতে হয় না। আবার নিড়ানি দিয়ে আগাছাও পরিষ্কার করতে হয় না। গাছ বড় হলে এক-দুবার কীটনাশক দিলেই চলে, এই যা খরচ। সব মিলিয়ে চারা গজানোর ১২০ দিনের মধ্যে ফসল ঘরে আসে। সয়াবিনের মাঠে কৃষকের হাসি। কৃষি বিভাগের সূত্র মতে এবার রায়পুরে মোট সাড়ে চার হাজার হেক্টর জমিতে সয়াবিন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে। তবে আবাদ হয় আরও ১৮ হেক্টর বেশি জমিতে। প্রতিবছর রায়পুর উপজেলার পশ্চিমা লের পাঁচটি ইউনিয়নে প্রায় ২৫০ কোটি টাকার সয়াবিন কেনাবেচা হয়। এ জন্য এটিকে কৃষকেরা ‘সোনার ফসল’ বলে থাকেন। কৃষকেরা আগামী ১৫-২০ এর মধ্যে ফসল ঘরে তুলতে শুরু করবেন। গড়ে উঠেছে বাজার। সয়াবিনকে কেন্দ্র করে উপজেলার হায়দরগঞ্জ বাজারের চেহারা গত ১১ বছরে বদলে গেছে। ছোট এই বাজারটিতে ইতিমধ্যে সয়াবিনের চারটি চাতাল ও ৩৫-৪০টি পাইকারি দোকান গড়ে উঠেছে। এ ছাড়া পার্শ্ববর্তী খাসেরহাট ও মোল্লারহাটেও আছে এমন ২০টি পাইকারি দোকান। স্থানীয় কৃষি বিভাগ ও ব্যবসায়ীরা জানান, দেশে উৎপাদিত মোট সয়াবিনের ৯০ শতাংশই বিপণন হয় এই বাজারে।

হায়দরগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী সাইজুদ্দিন মোল্লা জানান, দেশের খ্যাতনামা সয়াবিন তেল ও পোল্টি খাদ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর অধিকাংশই এখান থেকে সয়াবিন সংগ্রহ করে থাকে।

 

মুক্তিযোদ্ধার কণ্ঠ ডটকম/১১-এপ্রিল-২০১৭ইং/নোমান

Comments

comments

You might also like More from author

Leave A Reply

Your email address will not be published.

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ