করিমগঞ্জে ফিসারি দখলের চেষ্টা : প্রতিবাদে প্রতিপক্ষের আঘাতে শিক্ষকসহ গুরুতর আহত ৪

আমিনুল হক সাদী, নিজস্ব প্রতিবেদক: 

জেলার করিমগঞ্জে এক মুক্তিযোদ্ধার ফিসারী দখলের চেষ্টার প্রতিবাদে প্রতিপক্ষের আঘাতে ৪ জন আহত হয়েছে। জানা গেছে, উপজেলার কুর্শাখালি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক সিরাজ উদ্দিন ও তার তিন ছেলে গুরুতর আহত হয়ে বর্তমানে কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে ভর্তি অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছে।

শিক্ষক সিরাজ উদ্দিন মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠকে জানান, করিমগঞ্জের সাঁতারপুর গ্রামে প্রায় আড়াই একরের একটি ফিসারি রয়েছে তার। এতে নজর পড়ে একই এলাকার মৃত আতিউর রহমান মন্তাজের ছেলে তাজুল ইসলাম ও সাইফুর ইসলামের। ফলে এ নিয়ে ভূয়া কাগজপত্র দিয়ে মোকদ্দমা করে সর্বোচ্চ আদালত পর্যন্ত হেরে যায় তারা। তারপরও শহরের ভাড়াটিয়া মাস্তান নিয়ে তারা নানাভাবে অত্যাচার করে আসছিলো ওই শিক্ষক পরিবারকে। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে তাজুল ও সাইফুলের নেতৃত্বে ২০/২৫ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে মুক্তিযোদ্ধার ওই ফিসারিতে অতর্কিতে সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে ফিসারীর গার্ডসেড ভাংচুর করে ফিসারির পাড়ের শতাধিক গাছ কেটে ফেলে এবং ফিসারিতে জাল ফেলে প্রায় দুইলক্ষ টাকা মূল্যমানের বিভিন্ন প্রজাতির মাছ নিয়ে যায়। এতে শিক্ষক সিরাজ ও তার ছেলেরা বাধা দিলে তাদেরকে দা দিয়ে কুপিয়ে ও আঘাত করে মারাত্নক জখম করে। সন্ত্রাসীদের আঘাতে সিরাজ উদ্দিনের একটি পা ভেঙ্গে যায় ও তার তিন ছেলে মাজহারুল ইসলাম (৩৮), কামরুল ইসলাম (৩৫) শফিকুল ইসলাম (২৫) এর মাথায় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতপ্রাপ্ত হন। পরে স্থানীয় জনতা তাদেরকে উদ্ধার করে জেলা হাসপাতালে ভর্তি করে। বর্তমানে তারা হাসপাতালে আশংকাজনক অবস্থায় রয়েছে।

এ ব্যাপারে করিমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মজিবুর রহমান মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠকে জানান, উভয় পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন যাবৎ মামলা চলছে। জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরেই এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে তিনি জানান। এ সংবাদ লিখা পর্যন্ত মামলার প্রস্তুতি চলছিল।

 

 

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ ডটকম/২২-০৪-২০১৭ইং/ অর্থ 

Comments

comments

You might also like More from author

Leave A Reply

Your email address will not be published.

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ