আগাম বন্যায় হাওরাঞ্চলবাসীর বিপর্যয় : আলহাজ্ব মোঃ মেহের উদ্দিন

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ ডেস্কঃ 

আমি বিগত ইং ১০/০৪/২০১৭ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ১৫/০৪/২০১৭ খ্রিষ্টাব্দ তারিখ পর্যন্ত মোট ৬ দিন ইটনা উপজেলার উত্তরে আড়ালিয়া গ্রাম ও দক্ষিণে বড়হাতকবিলা গ্রাম এবং পূর্বে ইটনা সদর, বেতেগা, সিলুন্দিয়া গ্রাম ও পশ্চিমে এন.সহিলা, বাদলা গ্রাম এই সীমানার ভিতর বোর ধান ফসলের জমি অতিবৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে শতভাগ তলিয়ে যাওয়া স্বচক্ষে দেখে এসে কিশোরগঞ্জের স্থানীয় পত্রিকা শতাব্দির কণ্ঠ, মুক্তিযোদ্ধার কণ্ঠ ও আমার বাংলাদেশ পত্রিকায় একটি প্রতিবেদন লিখেছিলাম। এই সীমানার ভিতরে কোন গ্রাম নেই, শুধু পানি আর পানি। এই বিরাট হাওরের ভিতর দিয়ে ইঞ্জিন চালিত ছোট বড় নৌকা অবাদে চলাফেরা করছে। কৃষক এক ছটাক ধানও ঘরে উঠাতে পারে নাই।

ইটনা উপজেলার পশ্চিমাংশে প্রবাহিত ধনু নদীর পশ্চিমাংশে বাদলা ইউনিয়নের থানেশ্বর বর্শীকুড়া, শিমলা, শান্তিপুর গ্রাম, রায়টুটি ইউনিয়নের রায়টুটি, পঁচাশিয়া, কানলা, সোয়াইর গ্রাম চৌগাংগা ইউনিয়নের মাওরা, কিষ্টপুর, ঘরভাঙ্গা কিষ্টপুর, চন্দ্রপুর গ্রাম ও বড়িবাড়ী ইউনিয়নের পাঁচকাহনিয়া গ্রাম অবস্থিত। বিগত ১৯/০৪/২০১৭ তারিখে শান্তিপুর গ্রামের নাডুরি খালের বাঁধ ও ২১/০৪/২০১৭ তারিখে থানেশ্বর গ্রামের হিজলী খালের বাঁধ ভেঙ্গে থানেশ্বর, শিমলা, বর্শীকুড়া গ্রামের একমাত্র পশ্চিমের হাওর ও রায়টুটি, পঁচাশিয়া, কানলা গ্রামের পূর্বের হাওর পানিতে তলিয়ে গেছে। চৌগাংগা শহীদ স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও শিমলা গ্রামের বাসিন্দা মোঃ খলিলুর রহমান জানিছেন এই হাওরে উপরোক্ত নাডুরি ও হিজলী খালের বাঁধ ভেঙ্গে ৫ হাজার একর ধানের জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। কোন কৃষকই এক শতাংশ জমিও কাটতে পারে নাই। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, থানেশ্বর, শিমলা, বর্শিকুড়া, শান্তিপুর, রায়টুটি, পঁচাশিয়া, কানলা, সোয়াইর, গজাড়িয়া ও বর্মা গ্রামের প্রায় ৮ হাজার কৃষক পরিবার। কুর্শী গ্রামের বান খালের বাঁধ ভেঙ্গে কুর্শীর হাওরের ৬শত একর ফসলের জমি তলিয়ে গেছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কুর্শী, দেড়বান্দি গ্রামের প্রায় এক হাজার কৃষক পরিবার। গত ১৯/০৪/২০১৭ তারিখে পাঁচকাহনিয়া গ্রামের মর্দা বিলের বাঁধ ভেঙ্গে প্রায় ছয়শত একরের ধানের জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে গ্রায় পাঁচশত কৃষক পরিবার। এখন ইটনা উপজেলায় এতে কোথায়ও ধান ফসলি জমি নাই ও ফসল রক্ষার বাঁধ নাই। ইটনার সকল হাওরই পানিতে তলিয়ে গেছে। সারা ইটনা উপজেলা পানিতে একাকার হয়ে গেছে। চারদিকে শুধু পানি আর পানি। ইটনা একটি সাগরে পরিণত হয়েছে। গ্রাম গুলিকে কুঁচুরি পানার মত পানিতে ভাসতে দেখা যাচ্ছে। কোন কৃষকের ঘরে এক মণ ধানও নাই। ইটনা উপজেলার সকল কৃষক পরিবারই সর্ব শান্ত হয়ে পড়েছে। সংকট দেখা দিয়েছে যেমন মানুষের খাদ্যের তেমনি সংকট দেখা দিয়েছে গো-খাদ্যেরও। পানির দামেও গবাদি পশু গুলি বিক্রি করতে পারছে না। এখন শুধু কৃষকের কান্নায় ইটনা আকাশ বাতাস ভারি হয়েছে। এখন তাদের চিন্তা কি খাবে, কি দিয়ে ছেলে মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ যোগাবে, কি দিয়ে গবাদি পশুগুলি বাঁচাবে। ইটনাবাসীর কষ্ট লাগবের উদ্দেশ্যে গত ২২ এপ্রিল জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২০০ শত কৃষক পরিবারকে নগদ ১০০০ হাজার টাকা ও ১০ কেজি করে টাউল দিয়াছেন। ইহা অত্যন্ত প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। ইটনাতে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন প্রায় ১,৩২,৯৪৮ জন কৃষক-কৃষাণি, কিন্তু সরকার সাহায্য দিয়াছেন মাত্র ২০০ জন কৃষককে। ইহাতে শতকরা হার .১৫% হওয়ায় ইটনাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

ইটনা উপজেলার মত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মিঠামইন ও অষ্টগ্রাম উপজেলার কৃষকরাও। এই তিন উপজেলার প্রায় সাড়ে চার লক্ষ কৃষক পরিবারের বর্তমান সরকার প্রধানের নিকট দাবী অত্র এলাকাকে দূর্গত এলাকা হিসেবে ঘোষণা করুন। আগামী ফসল উঠার আগে অর্থাৎ আগামী চৈত্র মাস পর্যন্ত তাদেরকে বিনা মূল্যে চাউল সরবরাহ সহ প্রয়োজনীয় খাদ্যের ব্যবস্থা করুন এবং তাদেরকে প্রাণে বাঁচান। কৃষিঋণ, এনজিও ঋণ, মহাজনি ঋণ সহ সকল প্রকার ঋণ মওকুফের ব্যবস্থা করুন। শিক্ষার্থীদের বিনা বেতনে লেখাপড়ার ব্যবস্থা করুন। বিনা সুদে পুনরায় কৃষি ঋণ দিয়ে ও আগামী মৌসুমে কৃষি কাজে প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি দিয়ে ফসল উৎপাদনের সুব্যবস্থা করুন। সকল জলমহালের ইজারা প্রথা বাতিল করে হাওরে অবাদে মাছ ধরার সুযোগ দেওয়ার ব্যবস্থা করুন। মহান আল্লাহ, হাওয়া লের মানুষের প্রতি সহায় হোন।

 

লেখক পরিচিতি:

সাধারণ সম্পাদক, ইটনা সমিতি, কিশোরগঞ্জ।

প্রধান সমন্বয়, হাওরাঞ্চলবাসী, কিশোরগঞ্জ।

 

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ ডটকম/২৪-০৪-২০১৭ইং/ অর্থ 

Comments

comments

You might also like More from author

Leave A Reply

Your email address will not be published.

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ