হাওরের পর আগাম বৃষ্টির পানিতে ভেসে যাচ্ছে কিশোরগঞ্জ সদরের ধানী জমি

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ ,
এপ্রিল ২৪, ২০১৭ ৪:৪৬ অপরাহ্ণ

আমিনুল হক সাদী, নিজস্ব প্রতিবেদক: 

কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ভাস্করখিলা বিল আগাম বৃষ্টির কারনে পানিতে ভেসে যাচ্ছে প্রায় দুই শত হেক্টর জমি। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে কোন জমিতে ধানের মকুল ধরেছে মাত্র, কোন জমির ধান সবুজ রং আবার কোন জমির ধান সোনালী রঙের আবরন হয়েছে। সব মিলিয়ে ধান কাটার মত উপযুক্ত সময় এখন হয়নি। কৃষকের কান্না ভেজা মুখ নিয়ে কথা বলতে পারছেনা কারও সাথে।

তবুও কান্না-কান্না ভাব নিয়ে কথা বলেন তারা, আল্লাহ যদি আর এক সপ্তাহ সময় দিতেন আমাদের মত অধম কৃষকদের তাহলে হয়ত কিছু ধান আমরা ঘরে তুলতে পারতাম। এই ফসলেই হচ্ছে আমাদের সারা বছরের কামাই, এই ফসলেই হচ্ছে আমাদের একমাত্র অবলম্বন, এই ফসল দিয়ে আমরা সারা বছর ছেলে মেয়ের পড়া লেখার খরচ সহ নানা রকম চাহিদা পূর্ণ করি এবং জীবন চালাই।

ভাটোযাপাড়া গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক জাহাঙ্গীর আলম,তোফঅজ্জল হোসেন মানিক,নয়াপাড়ার আউয়াল,আবু বকর সিদ্দিক,গলাপাড়ার ফিরোজ শাই,আ.রহমান বলেন,আমাদের ভাস্করখিলা বিলে একমাত্র বোর ফসল আগাম বন্যায় তলিয়ে যাচ্ছে। ধান এখনও পুরোপুরি পাকেনি। আধা কাচা পাকা ধান কিছু কাটলেও রোদ না থাকায় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কিছু জমিতে এক মুষ্টি ধানও কাটতে পারি নাই।এভাবে চলতে থাকলে আমাদের ভাগ্যে কি হয় আল্লাহয়ই জানে।

স্থানীয় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো.আলাউদ্দিন মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠকে বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তত করছি। এ বিলে প্রায় ২ শত হেক্টর জমিতে বোর ধান আবাদ করা হয়েছিল। এর মধ্যে আমার ব্লকেই ৫০ হেক্টর জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এদিকে দানাপাটুলি ইউনিয়নের হাওরেও রশিদাবাদ ইউনিয়নের জলাবদ্ধতায় ধানিজমি তলিয়ে গেছে বলেও জানা গেছে।

খবর পেয়ে কিশোরগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) তরফদার মোঃ আক্তার জামীল, কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার মোঃ আব্দুল্লাহ আল মাসউদ, সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মামুন আল মাসুদ খান তলিয়ে যাওয়া জমি পরিদর্শন করেছেন।

 

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ ডটকম/২৪-০৪-২০১৭ইং/ অর্থ 

Leave A Reply

Your email address will not be published.

সর্বশেষ পাওয়া