৩০ বছরের ইতিহাসে দেশে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত

অবহাওয়া রিপোর্ট :

গ্রীষ্মের বৈশাখে যেখানে অসহনীয় তাপপ্রবাহ থাকার কথা, সেখানে এখন সমগ্র দেশে বর্ষারমতো অবস্থা বিরাজ করছে। ভারীবর্ষণ, ঢল ও জোয়ারে ভেসে যাচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। লঘুচাপের একটি বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও এর সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে, যার বর্ধিতাংশ বা ট্রাফ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে এবং উত্তর বঙ্গোপসাগর এলাকায় বায়ুচাপের তারতম্যের আধিক্য বিরাজ করছে। এই উভয় কারণেই মৌসুমি বায়ুমালা তথা বর্ষা আগমনের অনেক আগেই বজ্রসহ বর্ষণ, ঢল ও দমকা থেকে ঝড়ো হাওয়ায় পুরোদমে বর্ষাকালীন অবস্থা বিরাজ করছে। গতকালও (সোমবার) ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের প্রায়ই এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি বর্ষণ, কোথাও কোথাও ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। গতকাল দেশের সর্বোচ্চ বর্ষণ রেকর্ড করা হয়েছে পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটিতে ১১৮ মিলিমিটার। ঢাকায় ছিল ৪১ মি.মি.।

এদিকে বাংলাদেশে এবারের এপ্রিল (চৈত্র-বৈশাখ) তথা কাঠফাটা গরমের মাসে বিগত ৩০ বছরের ইতিহাসে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়া অধিদফতর সূত্রে আরও জানা গেছে, এর আগের মাসেও (মার্চে) স্বাভাবিকের তুলনায় সারাদেশে ১৫২ শতাংশ বেশি বৃষ্টিপাত হয়। চলতি এপ্রিল মাসে এ যাবত (২৩ তারিখ, রোববার পর্যন্ত) স্বাভাবিকে তুলনায় সমগ্র দেশে ১১৯ শতাংশ বেশি বৃষ্টি ঝরেছে। এমনকি মাসের বাকি সময়টাতে আর কোনো বৃষ্টিপাত না হলেও এ মাসে স্বাভাবিকের তুলনায় ৬৮ শতাংশ বেশি বৃষ্টির রেকর্ড হয়ে থাকবে। বাংলাদেশে এপ্রিল মাসে এর আগে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছিল ১৯৮৭ সালে, যা ছিল স্বাভাবিকের চেয়ে ৭৬ শতাংশই বেশি। তবে এবার বর্ষণের ৩০ বছরের রেকর্ড অতিক্রম হতে পারে।

গত ৩৭ বছরে বাংলাদেশে মোট ৮ বার এপ্রিল মাসে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। এরমধ্যে ১৯৮১ সালের এপ্রিলে স্বাভাবিকের তুলনায় ১৬৮ শতাংশ বেশি বৃষ্টি ঝরেছিল।

দেশে এপ্রিল মাসে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয় ৫ হাজার ২৮৬ মিলিমিটার। আবহাওয়া বিভাগ জানায়, গতকাল থেকে দেশের অনেক এলাকায় বিশেষত দক্ষিণাঞ্চলে বৃষ্টির মাত্রা কমে আসে। তবে সিলেটসহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বৃষ্টি কমতে আরও কয়েকদিন লেগে যেতে পারে। হঠাৎ এই অস্বাভাবিকহারে বৃষ্টিপাতের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আবহাওয়া বিভাগ সূত্র জানায়, বাংলাদেশ এবং এর সংলগ্ন ভারতের পশ্চিমবঙ্গে পশ্চিমা লঘুচাপ দীর্ঘদিন যাবত সক্রিয় থাকায় অকালে বৃষ্টিপাত এবার বেশি হচ্ছে। গত মার্চ মাসেও একই কারণে বেশি বৃষ্টি ঝরেছে।

এদিকে আজকের (মঙ্গলবার) আবহাওয়া পূর্বাভাসে জানা গেছে, ময়মনসিংহ, সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায়, রংপুর, ঢাকা ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রাজশাহী বিভাগের দুয়েক জায়গায় অস্থায়ী দমকা থেকে ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টিপাত হতে পারে। সেই সাথে দেশের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা ১ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে। পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টায় তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেতে পারে। বর্ধিত ৫ দিনে আবহাওয়ার সামান্য পরিবর্তন হতে পারে।

উত্তর বঙ্গোপসাগর এলাকায় বায়ুচাপের তারতম্যের আধিক্য বিরাজ করছে। উত্তর বঙ্গোপসাগর, বাংলাদেশের উপক‚লীয় এলাকা এবং সমুদ্র বন্দরসমূহের উপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরসমূহকে ৩নং স্থানীয় সতর্ক সঙ্কেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারসমূহকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত উপক‚লের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

মুক্তিযোদ্ধার কণ্ঠ ডটকম/৫-এপ্রিল-২০১৭ইং/নোমান

Comments

comments

You might also like More from author

Leave A Reply

Your email address will not be published.

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ