বাবা আমার উপর প্রায়’ই নির্যাতন চালাতো

স্টাফ রিপোর্টারঃ 

আন্টিরা বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে আমাকে নিয়ে যাওয়া হয় ময়মনসিংহের একটি পতিতালয়ে। তখন আমার বয়স ১১ বছর। মেয়েটিকে বলে,” আজকে তুই বেড়াতে যা,বেড়ায়া টেরায়া এক- দুই বছর পরে তোর আন্টিরা কাছ থেকে চলে আসিস। তে চল তরে আরেকজনে দিয়া আসবো। আমার শরীল খারাপ তাই যেতে পারব না। তারপর আমাকে আরেক লোকের কাছে দিেয় দেন আমার বাবা । পরে ঐখানে গেলাম,এই পরিবেশটা যে খারাপ তা আগেও জানতাম না। ” পরে থেকে আমি কান্নাকাটি শুরু করলাম, মানুষ নিয়ে ঘড়ে ঢুকাইতেছে /বেরকরতেছে। পরে আমি যখন হেস্ত নেস্ত করতেছি তখন ঐখানের মহিলা আমাকে ইনজেকশন দিল। “ঐখানে ছিলাম ৩ বছর।

ঠিক এইভাবেই কথা বলছিল দেহ ব্যাবসায় বাধ্য হওয়া প্রতিবন্ধী আয়েশা আক্তার (ছদ্মনাম)। কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ার বাকসারিয়ার চর গ্রামের বাবুল মিয়ার মেয়ে প্রতিবন্ধী আয়েশা আক্তার (ছদ্মনাম)।

মেয়েটি প্রথমে এতসব বিষয়ে কথা বলতে রাজি না হলেও পরে বিশেষ ব্যাবস্থায় কথা বলতে রাজি হয়। উপরের বর্ননাটা তার বয়স যখন ১১ বছর তখনই মেহেদী ব্যাবসায় বাধ্য করেন তার বাবা বাবুল মিয়া। তিন বছর পরে পালিয়ে বাড়িতে আসার পরে তার উপর শুরু হয় অমানবিক নির্যাতন।তাকে এখন পর্যন্ত তিন যায়গায় বিক্রি করা হয়। প্রথমে ময়মনসিংহ , রাজশাহী পরে ঢাকায় বিক্রি করা হয়। তার মাকে পাঠানো হয়েছে বিদেশে।

এর মাঝে ময়মনসিংহ,রাজশাহী ও ঢাকার বিক্রির মাঝামাঝিতে বাড়িতে থাকাকালীন নির্যাতন হত তার বাবার হাতে। রাজী না হলে চলত মারধর ও।এমনকি তার বাবা তাকে বলত তুই আমার মেয়েও না। তার বাবার কাছ থেকে বাচার জন্য সে ঐখানেরই পরিবেশটাই ভাল মনে করত।

মেয়েটি বলে,বাবার অমানবিক নির্যাতনের কথাটা আমি প্রথম প্রথম দাদু,কাকীদের বলেছি। কিন্তু তারা আমার বাবাকে কিছু বলেনি। তারপর থেকে কেউ কোন বিচার না করায় বাবা এভাবেই নির্যাতন চালাত আমার উপর। আর মাঝে মাঝে বাড়িতে বিভিন্ন খারাপ মহিলা বাড়িতে আনত। আর তাদের বাধা দিলেই আমাকে মারধর করত। অবশেষ বিক্রি হয়ে যাওয়ার যায়গা ঢাকার উত্তরা থেকে বাড়িতে আসে নাজমা ২৩শে এপ্রিল।

এর আগে তার বাবা বাবুল মিয়া ঢাকায় বিক্রি করে দিয়ে এলাকায় বলেছিল তার মেয়ে মারা গেছে ও তার মেয়ের লাশ এলাকায় আনবেন না।

বাড়িতে আসার পরে তাকে তার বাবা ……. প্রস্তাব দেয়। সে রাজী না হওয়ায় মরিচগাছের খুটি দিনে অমানবিক নির্যাতন চালায় তার বাবা বাবুল মিয়া। নির্যাতনের খত নিয়ে চলে যায় তার নানু বাড়ি এইকই উপজেলার বিশ্বনাথপুর গ্রামে। আমাদের সাথে সরেজমিনে কথা হয় তার নানুবাড়িতে। তার নানীও অসচ্ছল। ইউনিয়ন পরিষদের অধিনে ৪০ দিনের মাটি কাটার কাজ করেন তিনি।

আয়েশা আক্তারের (ছদ্মনাম) এই অভিযোগ গুলোর সত্যতা যাচাইয়ে তার বাবার নিকট গেলে,সে সাংবাদিকদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরন করেন। এবং সব ঘটনা অস্বিকার করেন।

ঐদিন রাতে প্রতিবেদকের নানা ও কাকার কাছে ” প্রতিবেদককে দেখে নিবেন বলেও সাসান ও তার কোন এসপি আছে তাকে দিয়ে কাজ করাবেন বলে হুমকি দেন ”

এই বিষয়ে ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোঃ চানমিয়া (মাষ্টার) কে বিষয়গুলো অবিহিত করলে তার একটা ব্যাবস্থা নিবেন বলেও জানান। তিনি আরও বলেন,আমি যেহেতু বিষয়টি জেনেছি আমি বাবুল মিয়ার সাথে কথা বলব।

প্রতিবন্ধী আয়েশা আক্তার (ছদ্মনাম) স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে চায়। সে তার জীবনের নিশ্চয়তা চায়।

ধারাবাহিক প্রতিবেদনের ১ম পর্ব…।। চলবে…

 

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ ডটকম/০৭-০৫-২০১৭ইং/ অর্থ 

Comments

comments

You might also like More from author

Leave A Reply

Your email address will not be published.