ভাঙা গলার স্বর সারাতে লবণপানির কুলকুচিতে লাভ হয়?

স্বাস্থ্য ডেস্ক :

স্বরযন্ত্র প্রদাহ বা ল্যারিনজাইটিস এবং গলাব্যথাকে অনেকে একই ধরনের সমস্যা বলে মনে করেন। গলাব্যথার চিকিৎসায় লবণ পানি দিয়ে কুলকুচি করার প্রচলন অনেক পুরোনো। আর গলার যেকোনো সমস্যা হলেই দেখা যায় গলায় কুলকুচির ব্যবহার। কিন্তু কুলকুচি সব ধরনের গলার অসুস্থতায় কাজ দেয় না।

স্বরযন্ত্র বা ল্যারিংসে প্রদাহ হলে গলার স্বর ভেঙে বা বসে যায়। স্বরযন্ত্র ও ভোকাল কর্ডের প্রদাহজনিত অসুস্থতা থেকেই গলার স্বর ভেঙে যাওয়ার উপসর্গ প্রকাশ পায়। গলার স্বর বসে যাওয়া বা ভেঙে যাওয়ার ক্ষেত্রে লবণপানির কুলকুচির সময় ব্যবহৃত লবণপানি গলবিল বা ফ্যারিংস ল্যারিংসের চেয়ে কিছুটা উঁচুতে অবস্থান করে। কুলকুচির পানি সাধারণভাবে ল্যারিংস পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে না। অসাবধানতাবশত পানি কখনো ল্যারিংস পর্যন্ত পৌঁছালে সেখান থেকে সেটি ফুসফুসে ঢুকে পড়ার ঝুঁকি থাকে। আর এই ঝুঁকি এড়ানোর জন্য শরীর নিজেই প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেয়। পানি কোনো কারণে ল্যারিংসে পৌঁছালেই তাকে ফুসফুসে ঢুকতে দেওয়া থেকে বিরত রাখার জন্য কাশির উদ্রেগ হয়। এতে অবাঞ্ছিত পানি কাশির মাধ্যমে ফুসফুসে প্রবেশের পথে বাধা পায় এবং বেরিয়ে আসে। যেহেতু কুলকুচির পানি ল্যারিংস বা স্বরযন্ত্র পর্যন্ত যেতে পারে না এবং যাওয়াটা ভালো নয়, সে ক্ষেত্রে কুলকুচি গলার স্বর ভেঙে যাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো কাজে আসে না। তবে গলবিল বা ফ্যারিংসের প্রদাহে লবণপানি কুলকুচি কিছুটা উপকারে আসে। কারণ, লবণপানি ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধিতে উপযোগী নয়। এতে ব্যাকটেরিয়াজনিত গলাব্যথায় লবণপানির কুলকুচি ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধির প্রক্রিয়াকে অবদমিত করে। গরম পানির ভাঁপ দীর্ঘস্থায়ী ঠান্ডাজনিত নাকের সমস্যায় কিছুটা উপশম আনে। গরম পানিতে ম্যানথল দিয়ে বাষ্পটুকু শ্বাসের সঙ্গে টানলে গলার স্বরভঙ্গের উন্নতি হতে পারে।

তবে গলার স্বর ভেঙে যাওয়ার ক্ষেত্রে লবণপানির কুলকুচি কোনো উপশম আনে না। সাধারণ ইনফেকশন থেকে শুরু করা ক্যানসার পর্যন্ত অনেক কারণে গলার স্বর ভাঙে। সুতরাং গলার স্বর ভেঙে গেলে কমপক্ষে ১০ দিন কথা বলা বন্ধ করে দিয়ে নাক- কান- গলা বিশেষজ্ঞের পরামর্শমতো চিকিৎসা নেওয়াই হচ্ছে সঠিক কাজ।

মুক্তিযোদ্ধার কণ্ঠ ডটকম/৭-মে-২০১৭ইং/নোমান

Comments

comments

You might also like More from author

Leave A Reply

Your email address will not be published.

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ