নাটকীয় ছিনতাই ঘটনা ফাঁস : সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার জট খুলছে

জাহিদুল ইসলাম, ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধিঃ

ধর্মের কল বাতাসে নড়ে, সত্যের জয় সর্বদা। মিথ্যার ঢোল বাজে ঢাকঢোল। মিথ্যা মিলিয়ে যায় চির অন্ধকারে। সত্য জ্বলে চাঁদের আলোয়। এ রকম একটি সাজানো ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে ডিমলায়। যা এলাকাবাসীর মাঝে চরম ক্ষোভের স ার হয়েছে। সম্প্রতি নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় মিথ্যা সাজানো নাটকীয় ছিনতাইয়ের ঘটনা দেখিয়ে জাহেদুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি রিপোর্টার্স ইউনিটির সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে।

এ ঘটনায় জেলা জুড়ে সাংবাদিক মহলসহ সর্বস্তরে তোলপাড় শুরু হয়েছে। ঘটনার সূত্র ধরে অনুসন্ধান চালালে কথিত এই সাংবাদিকদের নাটকীয় ঘটনার তথ্য ধীরে ধীরে ফাঁস হয়ে পড়ছে। ছিনতাইয়ের মামলার আরজি মতে, মামলার বাদী জাহেদুল ইসলাম উল্লেখ করেন ঘটনার দিন জনৈক্য অসুস্থ্য সামিমের বাড়ীতে রাত ১১ টায় যায় এবং রাত ১২ টার দিকে ফেরার সময় তিনি ছিনতাইকারীদের কবলে পড়েন।

এ সময় ছিনতাইকারী ছিলেন রিপোর্টার্স ইউনিটির ৮জন সাংবাদিক ও মিহলা বিষয়ক সম্পাদক ডিমলা বিজয় টিভির প্রতিনিধি হামিদা আক্তারের স্বামী । অজ্ঞাত আরো ৫/৬ জন। ছিনতাইকারীর কবলে পড়া সাংবাদিকের সাথে ছিলো অপর কথিত সাংবাদিক আলীমুল ইসলাম। ডিমলা হাসপাতাল থেকে মাত্র ৫’শ গজ দুরে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মৃত দিলীপ বাবুর বাড়ীর পাশ্বেই পাকা রাস্তায়। এসময় আহত হন শুধু মাত্র জাহেদুল।

এই ঘটনাস্থল থেকে হাসপতাল যেতে সময় লাগে মাত্র ৩-৫মিনিট। কিন্তু ছিনতাই ঘটনার প্রায় এক ঘন্টা পর বাদী প্রচন্ড আঘাত প্রাপ্ত হয়ে হাসপাতালের নথি অনুযায়ী ঘটনার দিন (৪ মে) দিনগত রাত ১২.৫০ মিনিটে চিকিৎসার ভর্তি হন। মাত্র ৩-৫ মিনিটের রাস্তা এত সময় কোথায় অতিবাহিত করলো ? বিষয়টি ভাবিয়ে তুলেছে এলাকাবাসীকে। আঘাত প্রাপ্ত বাদী ঐ রাতে হাসপাতালে মাত্র ১০/১৫ মিনিট অবস্থান করে হাসপাতালের দায়িত্বরত চিকিৎসক ও কাউকে না জানিয়ে পালিয়ে যায়।

যা পরের দিন (৫’মে) সকালে হাসপাতালের কতর্ব্যরত চিকিৎসক রোগীকে না পেয়ে পলাতক দিখিয়ে রোগীর চিকিৎসা পত্রে স্বাক্ষর করেন। পরে এভাবে পর পর তিনটি রাউন্ডেই চিকিৎসক রোগীকে (আহত জাহেদুল) না পেয়ে পলাতক দেখিয়ে নথিজাত করেন। চিকিৎসা পত্রে দেখা তেমন কোন ঔষধ লিখননি ডাক্তার। সামান্য ব্যাথার জন্য শুধমাত্র প্যারাসিটামল ট্রাবলেট রোগীকে প্রদান করেন। এদিকে ঘটনার দুইদিন পর ৬ মে বিভিন্ন সংবাদপত্র ও নিউজ পোর্টাল-এ প্রকাশিত খবরে জানা যায়, ছিনতাইয়ে ঘটনায় আহত জাহেদুল গুরুতর আহত অবস্থায় রেফার নিয়ে নীলফামারী আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। কিন্ত খোঁজ খবর নিয়ে দেখা গেল , বাদী ঘটনার পরের দিন ৫ মে হইতে ৭ মে পর্যন্ত (৩ দিন) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি প্রশিক্ষনে নীলফামারী জেলা শিক্ষা অফিসের আয়োজনে নীলফামারীতেই সকাল ৯.৩০মিনিটি বিকাল-৪.৩০ মিনিট পর্যন্ত প্রশিক্ষনে অংশগ্রহন করেন।

এ ব্যাপারে নীলফামারী জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার শফিকুল ইসলাম সরাসরি বলেন, তিনি (জাহেদুল) ডিমলা উপজেলার পশ্চিম ছাতনাই বালিকা বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। ঐ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের ছাড়পত্র জমা দিয়ে তিনি প্রশিক্ষনে অংশগ্রহন করেন। তিনি আরো বলেন, আমি ব্যক্তিগত ভাবে ঐ শিক্ষককে চিনি, তাই বলছি তিনি ৩ দিনইে প্রশিক্ষনে উপস্থিত ছিলেন আমি নিজেই দেখেছি এবং নিশ্চিত করে বলছি। এ ঘটনায় এলাকাবাসী অনেকেই জানান, আমরা আলিমুর ও সাজানো ছিনতাইয়েরর কবলে পড়া জাহেদুলকে ঘটনাস্থলের রাস্তায় কোনদিন চলাচল করতেও দেখিনি। ঘটনার দিন কেন এত গভীর রাতে তারা ঘটনাস্থলের রাস্তায় ছিলেন তা আমরা বলতে পারবো না।

এ সময় বেশ কিছু এলাকাকাবাসী নাম প্রকাশে অনৈচ্ছুক শর্তে বলেন, ঘটনাটি পরিকল্পিত ও নাটকীয়। প্রশাসনের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে তদন্ত করা হউক। এতে প্রকৃত ঘটনা বেড়িয়ে আসবে। এবং মিথ্যা বানোয়াট ও সাজানো এ নাটকীয় ঘটনার সত্যতা উৎঘাটন করে ষড়যন্ত্রের সাথে লিপ্ত সকলকে আইনের আওতায় এনে তাদের বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নিতে এলাকাবাসী ও জেলা ও উপজেলায় কর্মরত সাংবাদিকবৃন্দ জোড় দাবী জানিয়েছেন।

 

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ ডটকম/০৯-০৫-২০১৭ইং/ অর্থ 

 

Comments

comments

You might also like More from author

Leave A Reply

Your email address will not be published.

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ