বাগুড়ী বেলতলা আমের সম্রাজ্য এখন নিষিদ্ধ বিষ ও মাদকের সম্রাজ্যে পরিণত

মোঃ আবু বকর ছিদ্দিক, শার্শা (যশোর) প্রতিনিধি :

বৃহত্তম যশোরের বৃহৎ আমের পাইকারী বাজার যশোরের শার্শা উপজেলার বাগুড়ী বেলতলা আমের সম্রাজ্যটি এখন আমদানি নিষিদ্ধ বিষ ও মাদকের সম্রাজ্যে পরিণত হয়েছে। এই বাজারে আছে ২শতাধিক আমের আড়ৎ। এক একটি আমের আড়তের আছে এক বা একাধিক বড় বড় আম প্রসেসিং সেন্টার যে গুলো আমের গুদাম হিসাবে পরিচিত। প্রত্যেক এই মৌসুমে বাজারের আশেপাশের বাড়ি গুলো নিদিষ্ঠ ভাড়া নিয়ে থাকে এখানকার আড়তদাররা শুধুমাত্র আম স্প্রে করার জন্য। তাই এ বাড়ি গুলোও প্রসেসিং সেন্টার হিসাবে কাজ করে। এখানকার ২শতাধিক আমের আড়ৎ ও প্রসেসিং সেন্টার গুলোতে সরকার নিষিদ্ধ বিষাক্ত কার্বাইড, রাইস মিথানল, সালফেট, ফরমালিন, হাইড্রোজেন লিকুইড সহ নানা রকম বিষাক্ত রাসায়নিক কেমিক্যাল একত্রে সংমিশ্রনে বিশেষ এক ধরনের তরল পদার্থ লক্ষ লক্ষ মণ আমে  স্প্রে মেশিন দিয়ে  স্প্রে করা হচ্ছে।

এরপর এইসব আম বৈদ্যুতিক পাখার বাতাসে শুকিয়ে ক্যারেটে করে প্যাকেটজাত করে পাঠানো হচ্ছে ঢাকা, চট্রগ্রাম, খুলনা, বরিশাল সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। নিষিদ্ধ এসব বিষ জাতীয় কেমিক্যাল মানব দেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এই সংমিশ্রনটি দিয়ে স্প্রে করা হলে অপরিপক্ক আম তাড়াতাড়ি পেকে যায়, দেখতে খুব সুন্দর রঙের হয় এবং কয়েক মাস অতিবাহিত হয়ে গেলেও ঐ আম পোকা লাগেনা এবং পচে না। পচনশীল আমে এ কেমিক্যাল সংমিশ্রন স্প্রে করার পর হয়ে ওঠে অপচনশীল খাদ্য দ্রব্য।

চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কেমিক্যাল গুলোর একত্রে সংমিশ্রণ এতটাই ভয়ংকর ও বিপদজনক যে তা মানব দেহের হার্ট, লিভার, পাকস্থালী, কিডনি যে কোন সময় অকার্যকর হয়ে বিকল হয়ে যেতে পারে। তাছাড়া দীর্ঘ মেয়াদী সমস্যা ত্বক নষ্ঠ, ডায়েরিয়া, আমাশয়, ঘুম কমে যাওয়া সহ নানাবিধও রোগের জন্ম হতে পারে। এ স্প্রে করা আম খেলে শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়ে শূণ্যের কোঠায় নেমে আসে। এ আম বেশী পরিমাণে খেলে বিষক্রিয়ায় মৃত্য পর্যন্ত হতে পারে। স্প্রে করা এ আম বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের জন্য মারাত্বক ক্ষতিকর।এ স্প্রে সিন্ডিকেটটা স্থানীয় আম ব্যবসায়ীদের কথিত সভাপতি শাজাহান আলী নেতৃত্বে পরিচালিত হয়।

তাছাড়া গোপন অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রত্যেক আমের এই মৌসুমটার অপেক্ষায় থাকে সিমান্ত ঘেষা এ অ লের মাদক কারবরিরা। আমের মৌসুম শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভারত থেকে নিষিদ্ধ ফেন্সিডিল এনে এরা মজুদ করে রাখে। এক শ্রেণীর অসাধু আড়ৎদার ও ঢাকা, চট্রগ্রাম, খুলনা, বরিশাল থেকে এখানে আসা আমের ব্যাপারিদের সহায়তায় আমের ক্যারেটের মধ্যে ফেন্সিডিল সাজিয়ে আম বোঝাই ট্রাকে করে হাজার হাজার বোতল ফেন্সিডিল ঢাকা, খুলনা, চট্রগ্রাম, বরিশাল সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মাদক ব্যবসায়ীদের হাতে চলে যাচ্ছে। আম পচনশীল খাদ্য দ্রব্য হওয়ায় পুলিশ চেকিংয়ের ঝামেলা মোটেই না থাকায় বিনা বাধায় দেদারছে চলে যাচ্ছে এই মাদক দ্রব্য। ঢাকা, চট্রগ্রাম, খুলনা, বরিশাল থেকে এখানে আসা আমের ব্যাপারিদের একটি অসাধু চক্র অধিক লাভের আশায় জড়িয়ে পড়ছে এই মাদক ব্যবসায়। প্রশাসনের দৃষ্টি এড়িয়ে আমের ব্যাপারি ও মাদক ব্যবসায়ীরা মিলে এ কাজ করছে বলে জানা গেছে। এ ব্যাপারে প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ, ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা সহ প্রশাসনের কঠোর নজরদারি করার দাবি জানিয়েছে সচেতন মহল।

এ ব্যাপারে আম বাজারের  কথিত সভাপতি সিন্ডিকেট হোতা শাহাজান আলীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা, সিভিল প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থা গুলোকে মোটা অংকের অর্থ দিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করছি। আমাদের বিরুদ্ধে লিখে কোন কিছুৃই হবে না। আপনারা যত খুশি পত্রিকায় লিখুন, টিভিতে দেখান আমাদের কিচ্ছু হবে না বরং আমাদের পরিচিতি বাড়বে।

মুক্তিযোদ্ধার কণ্ঠ ডটকম/৭-মে-২০১৭ইং/নোমান

Comments

comments

You might also like More from author

Leave A Reply

Your email address will not be published.

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ