দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে শিশুশ্রম

মোহাম্মদ রাজিব মিয়া, নরসিংদী :

শিশুদেরকে বেতন, মুনাফা বা বিনাবেতনে কোন পারিবারিক খামার, উদ্যোগ বা সংস্থায় কাজের জন্য নিয়োগ করা শিশু শ্রমের আওতায় পড়ে। এটিকে শোষণমূলক হিসেবে বিবেচনা করা হয় এবং অনেক দেশই এটিকে অবৈধ ঘোষণা করেছে।

এক হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশে শিশুশ্রমিকের সংখ্যা ৫-১৪ বছর বয়সী মোট শিশু জনসংখ্যার ১৯%, ছেলেশিশুদের ক্ষেত্রে এই হার ২১.৯% এবং মেয়ে শিশুদের ক্ষেত্রে তা ১৬.১%। অর্থনীতির খাত অনুযায়ী শিশুশ্রমিকদের বণ্টনের চিত্র হচ্ছে: কৃষি ৩৫%, শিল্প ৮%, পরিবহণ ২%, অন্যান্য সেবা ১০% এবং গার্হস্থ্যকর্ম ১৫%। কিন্তু পরিবহন খাতে শিশুশ্রমের ক্ষেত্রে লিঙ্গ বৈষম্য ব্যাপক। অর্থ্যাৎ যেখানে ০.১% মেয়ে শ্রমিক সেখানে ছেলে শ্রমিক হলো ৩%। তবে শিশুশ্রম নিয়োগের প্রায় ৯৫%-ই ঘটে অনানুষ্ঠানিক খাতে। এদের জন্য সাপ্তাহিক গড় কর্মঘণ্টা আনুমানিক ৪৫ এবং মাসিক বেতন ৫০০ টাকার নিচে। মেয়ে শিশুশ্রমিকের মাসিক বেতন ছেলে শিশুশ্রমিকের তুলনায় গড়ে প্রায় ১০০ টাকা কম। বাংলাদেশের আনুমানিক ২০% পরিবারে ৫-১৪ বছরের কর্মজীবী শিশু রয়েছে। এই সংখ্যা শহুরে পরিবারগুলির জন্য ১৭% এবং গ্রামীণ পরিবারের জন্য ২৩।

শিশুশ্রমিক হিসেবে কাজ করতে গিয়ে শিশুরা প্রতিনিয়তই নিগ্রহেরও শিকার হচ্ছে৷ গৃহকর্মীদের উপর নির্যাতনের ভয়াবহ চিত্র আমরা সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কয়েকবার দেখেছি৷ বাংলাদেশে কিছু মানুষ সম্ভবত শিশুদের নির্যাতন করে একরকম পৈচাশিক আনন্দ লাভ করেন৷ সর্বশেষ এক ক্রিকেটার এবং তাঁর স্ত্রীর হাতে নির্যাতনের শিকার এক গৃহকর্মীর ছবি দেখে আমার তাই মনে হয়েছে৷ আমরা সেই নির্যাতন দেখেছি বলে আঁতকে উঠছি, কিন্তু এ রকম হয়ত আরো অনেক গৃহকর্মী প্রতিনিয়ত নির্যাতনের শিকার হয়ে বেড়ে উঠছে, যাদের দেখার কেউ নেই৷ শিশুশ্রম বন্ধ না হলে এমন নির্যাতন বন্ধ হবে না বলেই আমার ধারণা।

মুক্তিযোদ্ধার কণ্ঠ ডটকম/২৮-মে-২০১৭ইং/নোমান

Comments

comments

You might also like More from author

Leave A Reply

Your email address will not be published.

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ