প্রকৃতির বিরুপ প্রভাবে চরম বিপন্ন হাওড় অঞ্চলের জনজীবন

মন্তোষ চক্রবর্তী, অষ্টগ্রাম (কিশোরগঞ্জ): 

দিবারাত্রি তীব্র দাবদাহ ঝড় বৃষ্টি বর্ষন, বজ্রপাত ইত্যাদি প্রকৃতির রুদ্ররোষে হাওড় অঞ্চলে জনজীবন চরম বিপন্ন হয়ে পড়েছে। বজ্রপাতে মৃত্যু. নৌ-ডুবিতে মৃত্যু, ফসলহানি, বসত ঘর উড়িয়ে নেওয়া, কর্মসংস্থান অচল, দাবদাহে নিদ্রাহীনতা ইত্যাদি কারণে এই অঞ্চলের শিশু কিশোর থেকে বয়বৃদ্ধ নানাভাবে অসুুস্থ করে তুলছে। মাসাধিক প্রকৃতির এই বিরুপ প্রবাহ বিদ্যমান থাকায় রাস্তা ঘাট ব্যাপক ক্ষতি উন্নয়ন বাধাগ্রস্থ, হাট-বাজার ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতাসহ প্রতিটি অবকাঠামোতে মানুষের মধ্যে আতৎক উৎকন্ঠা বাড়ছে। ঘর থেকে বেড় হতে মানুষ ভয় পাচ্ছে, কে কখন লাশ হয়ে ফিরবে তা কেউ জানে না। এই ব্যাপারে সরকারি বা বেসরকারি ভাবে কোন প্রকার প্রতিকার বা সচেতনা বৃদ্ধির কোন উদ্যোগ দেখা যায় না।

কিশোরগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সংযোগ স্থল বিস্তীর্ন এই হাওড় অঞ্চলে গত মে মাসের প্রথম থেকে অদ্যাবধি প্রকৃতির এই বিরুপ প্রভাব চলছে। দিবারাত্রি তীব্র দাবদাহ সকাল বিকাল অথবা রাত্রিতে বজ্রপাত, ঘূণিঝড় অব্যাহত রয়েছে। এছাড়াও এ অ লের একমাত্র ফসল বোরো ধান কেটে আনার পূর্ব মূহুর্তে পাহাড়ী ঢল আর অকাল বন্যায় তলিয়ে বিনষ্ট হয়ে গেছে। বাাঁচার তাকিদে এই অ লের মানুষ ঘলে থালা ঝুলিয়ে শহরে বন্দরে চলে যাচ্ছে। ধান কাটতে গিয়ে ক্ষেত মজুরের মৃত্যু জমি দেখতে গিয়ে নৌকা ডুবিতে কৃষকের মৃত্যু তলিয়ে যাওয়া জমি দেখতে গিয়ে ক্ষেতে হার্টফিল করে কৃষকের মৃত্যু। ধান বাড়িতে আনতে গিয়ে মরা লাশে পরিণত, মাছ ধরতে গিয়ে জেলের মৃৃত্যু এইগুলো প্রতিনিয়ত চলছে। মৃত্যুর হার বেড়েছে। এ অঞ্চলে যেন চলছে লাশের মিছিল। অঞ্চলের ৮০ ভাগ মানুষ কৃষি কাজসহ নানা কাজে মজুরি বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। এর মধ্যে এভাবে মৃত্যুর মিছিলে আতংক উৎকন্ঠায় মানুষ যেন অচল হয়ে গেছে। এছাড়াও প্রতিদন ঝড় কখনও ঘূর্নিঝড়, বৃষ্টি বর্ষণে বসত ঘরের চালা উড়িয়ে নেওয়া গাছের নিচে পড়ে অথবা ঘরের নিচে পড়ে আহত হওয়া ইত্যাদি যেমন বাড়ছে তেমনি বাড়ছে বর্ষণে কাঁচা রাস্তা ঘাটের ব্যাপক ক্ষতি। ক্ষতিগ্রস্থ ও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে সরকারের টিআর কাবিখা ইত্যাদি মাটি কাটার কাজ।

হবিগঞ্জের বানিয়াচং লাখাই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল নাসিরনগর কিশোরগঞ্জ জেলার ইটনা, মিঠামইন, অষ্টগ্রাম, ইত্যাদি উপজেলা ঘুরে এবং খোঁজখবর নিয়ে জানা গেছে প্রকৃতির এই বিরুপ প্রভাব সর্বত্র বিদ্যমান। এই অঞ্চলের একাধিক ব্যক্তি জানান প্রতিদিন শতবার বজ্রপাতের ঘটনা এই অঞ্চলের মানুষকে ভাবিয়ে তুলছে। তাছাড়া ঘূর্ণিঝড় তীব্র দাবদাহ ইত্যাদি কারণে এ অঞ্চলের মানুষ বেঁচে থাকা কঠিন হয়ে গেছে।

হবিগঞ্জের অবসর প্রাপ্ত শিক্ষক মতি মিয়া চৌধুরী জানান আমি অনেক দেখেছি। এভাবে পরিবেশ বিপর্যয় ও দুর্যোগে মৃত্যুর হার আতংক উৎকন্ঠা বাড়বে তা আগে ভাবিনি। এখন ভাবছি এ দৈব দূর্বিপাকে সরকার বা ধরিত্রী সম্মেলনের সদস্য দেশগুলো হাওড় অঞ্চলের জন্য কি করতে পারে? এই অবস্থা বিদ্যমান থাকলে মানুষের বসতি এই অঞ্চলে থাকবে কিনা তা সন্দেহ হয়। উপজেলা গুলিতে একটি করে জলবায়ু দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি রয়েছে। কোন কোন উপজেলায় ইউনিয়ন পর্যায়েও কমিটি রয়েছে। কিন্তু এগুলোর কোন কার্যক্রম পরিলক্ষিত হয় না। কোন কোন উপজেলায় এসব কমিটির মাসিক সভাও হয় না। এব্যাপারে গণ সচেতনা বৃদ্ধিতে তেমন কনো কাজ দেখা যায়না। দুই একটি এনজিও এব্যাপারে প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা করলেও কিছু কাজ করার পরেই বন্ধ হয়ে গেছে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে হাওড় অঞ্চলের জনজীবন রক্ষায় জরুরী পদক্ষেপ প্রয়োজন বলে অভিজ্ঞদের ভাষ্য।

 

মুক্তিযোদ্ধার কণ্ঠ ডটকম/১৬-০৬-২০১৭ইং/ অর্থ 

Comments

comments

You might also like More from author

Leave A Reply

Your email address will not be published.

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ