প্রবাসের ঈদ…

মোঃ দ্বীন ইসলাম খাঁন, কাতার থেকে ।। 
যেদিন নিজ মাতৃভূমি ত্যাগ করে প্রবাস নামের কর্মস্থ্যলে পাড়ি জমিয়েছি নিজের ভবিষ্যত টাকে সুন্দর করে গুছিয়ে সাজানোর জন্য, পরিবারের সকলের মুখে একটু খানি হাসি ফুটানোর জন্য নিজ জন্মভূমি টাকে ছাড়ড়তে হয়েছে জিবিকার তাগিদে সেদিনই বুঝে আমার জীবনে হয়ত আর সুখের দেখা পাবনা,  সেই সুত্রে এগিয়ে যাচ্ছে জীবন, এগিয়ে দিন, আর সেই সাথে একটা একটা করে সব কিছুই হারিয়ে জীবনের পাতা থেকে, সময়ের সাময়িকতায় নিজের ভালবাসার মানুষটাও ধীরে ধীরে দূরে চলে গেছে দূরে বহুরে।
সেদিন বিমানের ভেতরে বসেই ভাবতে ভাবতে কবে যে ফ্লাইটটি কাতারের মাটিতে এসে থমকে গেল বুজতেই পারিনি, এসে দেখি কত সুন্দর দেশটি কত কিছু দেখার মত কয়েক দিন যেতে না যেতেই এদিক ওদিক বেড়ানো বন্ধু বান্ধবের সাথে যোগাযোগ আরো নানান কিছু কিন্তু এই দেশটা কত নিষ্ঠুর তা দেশে থাকা কোন মানুষ বুঝে না,  আজ প্রবাসে সব কিছুই বিলিয়ে দিয়েছি নিজের কাছে কিছুই রাখিনি শুধু মাত্র দেশের কথা ভেবে, আসছে ঈদ করতে হবে পরিবার পরিজন কে ছেড়ে, এই যন্ত্রনা কতটা কষ্টের তা হয়ত আমার মত প্রবাসীরা কেবল বুজবে, দেশের মানুষ ভাবে বিদেশে আসলেই বুঝি টাকা পাওয়া যায় কিন্তু কেউ বুঝেনা বিদেশটা কত কষ্টের কতটা যন্ত্রণার,  দেশ থেকে ভাই বলে একটা নতুন মোবাইল ফোন হলে ভালই হতো, বোন বলে একটা স্বর্ণের চেইন হলেই আমি খুশি কিন্তু আমি কি করে তাদের বুঝাবো আমি যে কতটা কষ্টের মাঝে দিন যাপন করছি, প্রতিটা মূহর্তে মনে পড়ে দেশে ফেলে আসা সব স্মৃতি যখন মনে কড়া নাড়া দেয় স্মৃতি গোলি তখন কলিজাটা ফেটে যায়, পরিশেষে মায়ের কাছে যখন জানতে চায় মা তুমি কিছু চাও তোমার ছেলের কাছে সকলেরই তো কিছু কিছু চাহিদা আমাকে বলেছে কিন্তু মাতো কিছু চাইতে পারেনা মা শুধু বলে খোকা তোকে ছাড়া বাড়িটা কেমন খালি খালি লাগে, আমি শুধু চায় তুই ভাল থাক সব সময়, আজ সেই মাকে ছেড়ে প্রবাসে ঈদ করতে হবে কিন্তু এই ঈদ কি আমার জন্য খুশি বয়ে আনবে নাকি দুঃখ বয়ে আনবে এই কথার উত্তর আমার কাছে জানা নেই, হয়তো প্রত্যেকটা প্রবাসীর কাছে আমার প্রশ্ন রইলো। ভাবতে ভাবতে আরো মনে পড়ে গেল….. ঈদের খুশি তে বাবা কেনাকাটা করে দিতেন, চায়লে দশ হাজার পাচঁ হাজার টাকাও সেলামী দিতেন আর আজ সেলামীতো দূরের কথা সালাম দেয়ারও কেউ নেই এই প্রবাস নামের জেল খানায় হয়ত এটায় নিয়তী। আজ কষ্টে বুক ফেটে যাচ্ছে পরিবারের সবার জন্য, দেশে থাকা কালীন সময়ে ছোট বোন টা যখন এসে বলতো ভাইয়া কিছু টাকা দাও না থাকলে কত বাহানা করতাম আর আজ বাহানা করার মত কেউ নেই আমার কাছে,  নিজেকে নিজের কাছে কতটা অভাগ্যবান মনে হচ্ছে তা প্রকাশ করার ভাষা আমার নেই, পরিশেষে শুদু বলবো ভাল আছি প্রবাসের জেলখানায়, সবই আচে এখানে শুধু মা নেই বাবা নেই ভাই নেইবোন নেই নেই তাদের আদরের সেই হাত গোলি যা দিয়ে প্রতিদিন কত না আদর করতো আমায় আজ আমি প্রবাসী ঐ দূর প্রবাসী।

 

মুক্তিযোদ্ধার কণ্ঠ ডটকম/২৩-০৬-২০১৭ইং/ অর্থ  

Comments

comments

You might also like More from author

Leave A Reply

Your email address will not be published.

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ