আল্লাহর সন্তুষ্টিই ঈদের প্রকৃত খুশি!

মো একরামুল হক, ইসলামিক ডেস্ক :

`জীবনে যাদের হররোজ রোজা ক্ষুধায় আসেনি নিদ, আধমরা সেই কৃষকের ঘরে আবার এলো কি ঈদ!!’–কাজী নজরুল ইসলাম

ঈদ আনন্দ উৎসব। পূর্ণ একটি মাস সিয়াম সাধনার পর আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের প্রতি কৃতজ্ঞতায় অভিষিক্ত মুমিন আত্মার আবেগ বিধূর এক বেহেশতী অনুভূতির মহা সওগাত ঈদুল ফিতর। এ মধুর মুহূর্তটিতে একজন মুমিনের হূদয় যেমন সিয়ামের লব্ধ সপবিত্রতায় আলোক উদ্ভাসিত হয়ে ওঠে, তেমনি সদ্য সমাপ্ত মাহে রমজানের বিদায়ে হয়ে ওঠে দুঃখ ভারাক্রান্ত। একটি মাসে সিয়াম সাধনায় রহমত, মাগফিরাত লাভ করার মতো যোগ্য সাধনা হলো কিনা, যতটুকু হয়েছে তাও আবার গ্রহণ যোগ্য হয়েছে কিনা, ইবাদতের এক মৌসুমী মাহে রমজান আবার ভাগ্যে জুটবে কিনা, ইত্যাকার ভাবনায় মুমিন অন্তর হয়ে ওঠে বিষাদময়।

আর এই বিষাদকাতর অবস্থাতেই অশ্রু বিগলিত হয়ে জায়নামাজ সিক্ত করে প্রতিটি মুমিন মাহে রমজানকে জানায় ‘আলবিদা’। এরপরই আসে হিসাব নিকাশ মিলানোর পালা। ‘আস-সাওমু লি, ওয়া আনা উযযাবিহী’, অর্থাৎ রোজা আমারই জন্য এবং আমিই এর প্রতিদান দিবো-এই ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে এক মাস সিয়াম সাধনার বদলা মুজুরী নেওয়ার মোবারক আনন্দঘন মূহূর্ত হচ্ছে ঈদুল ফিতর। ধনী-গরীব নির্বিশেষে ঈদ জামাতে এক হয়ে দু’হাত উঠিয়ে প্রভুর পক্ষ থেকে আত্ম পরিতৃপ্তির সাথে পুরস্কার গ্রহণ করে সবাই। দীর্ঘ এক মাসের সিয়াম, সংযম, তিলাওয়াত, যাকাত, সাদকা, প্রভৃতি পেশ করার প্রতিদানে গ্রহণ করে নেয়া হয় রাব্বুল’ আলামীনের অপার সন্তুষ্টি। আর এরই নাম হলো ঈদ, এটাই হলো মুমিনের প্রকৃত আনন্দ উত্সব। এটাই হলো আনন্দের অনুভূতি প্রকাশ করার শরীয়ত সম্মত প্রক্রিয়া।

বস্তুত এই শরীয়ত আদর্শ জীবনের সর্ব ক্ষেত্রে বাস্তবায়িত করতে শপথ নবায়ন করার বার্ষিক অনুষ্ঠান হলো ঈদ উত্সব। তাই যুগপত্ এই ঈদের প্রভাতে প্রতিটি মুমিনের মুখেই ফুটে ওঠে তৃপ্তির হাসি।

মুক্তিযোদ্ধার কণ্ঠ ডটকম/২৫জুন২০১৭ইং/নোমান

Comments

comments

You might also like More from author

Leave A Reply

Your email address will not be published.

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ