অষ্টগ্রামের জেলেপল্লী ইকুরদিয়ার শহস্রাধিক নারী-পুরুষ আতংক উৎকন্ঠায় দিনাদিপাত করছে

ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি (অষ্টগ্রাম) কিশোরগঞ্জ :

হাওর উপজেলা অষ্টগ্রামের ইকুরদিয়া জেলে পল্লীর শহস্রাধিক মানুষ দুই সপ্তাহে ধরে চরম আতংক উৎকন্ঠায় দিনাদি পাত করছেন। রাজনৈতিক প্রভাবশালী এক অমৎস্যজীবি নেতা ও তার গুন্ডা বাহিনী মাছ ধরতে গেলে মারধর , জাল ছিনিয়ে নেওয়া দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে গ্রামে হামলা চালাবার প্রস্তুতি ও হুমকী ইত্যাদি কারণে এ গ্রামের নারী পুরুষ মানবেতর দিনাদি পাত করছেন। এ ব্যাপারে জাতীয় সংসদ সদস্য, উপজেলা প্রশাসনে অবহিত করা হয়েছে। যেকোন সময়ে এ গ্রামে জীবনহানি, অগ্নি সংযোগ সহ মারাত্মক দূর্ঘটনার সম্ভাবনা বিরাজ করছে।

স্থানীয় এলাকাবাসী ও প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, কলমা ইউনিয়নের ১২ একক ৩১ শতাংশ আয়তনের হুলগাই নামে একটি বিল রয়েছে। বিলটি কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসন ও অষ্টগ্রাম উপজেলা প্রশাসন হইতে রাজস্ব আদায়ের মাধ্যমে প্রতি বছর ইজারা বন্দবস্ত দেয়া হইত। বর্তমানে অষ্টগ্রাম উপজেলায় হাওড় অ ল জীবনমান উন্নয়ন প্রকল্প (হিলিপ) দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবন উন্নয়নে কিছু কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। উক্ত হুলগাই বিলটি ভুমি মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের চুক্তিতে হিলিপের দায়িত্বে কলমা ইউনিয়নে শরীফপুর গ্রামে দরিদ্রদের জীবন উন্নয়নে ব্যবস্থাপনায় একটি সমিতি গঠন করে, তাদের দায়িত্বে রাজস্ব বাবদ দুই লক্ষ উননব্বই হাজার টাকা রাজস্ব দেওয়ার চুক্তিতে বিলটি লিজ দেয়। যদিও পূর্ববর্তী ৩ বছরের রাজস্ব ছিল আট লক্ষ পঞ্চান্ন হাজার। বিলটি লিজ নেওয়ার পর হইতে কলমা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও শরীফপুর গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা সাবেক ইউপি মেম্বার শহীদুল ইসলামের নেতৃত্বে তার কিছু লাঠিয়াল ও সন্ত্রাসী লোকজন উক্ত হুলগাই বিলের ইজারাদার হিসেবে এলাকায় পরিচিতি সৃষ্টি করে এবং বিলের সীমানার ৩/৪ মাইল দূরে সিঙ্গারচর ইকুরদিয়ার বাতান ইত্যাদি এলাকায় ইকুরদিয়া গ্রামের লোকজনের নিজস্ব জমির ভাসান পানিতে মাছ ধরতে দিচ্ছে না। অথচ ইকুরদিয়া গ্রামের জেলেরা বংশানুক্রমিক জেলে হিসেবে দীর্ঘদিন যাবত তাদের এ জমিজমাতে মাছ ধরা আসছিল। গত সোমবার নেতা ও তার লাঠিয়াল বাহিনী মিলি ৩০/৩৫টি নৌকা দু শতাধিক লোক ফল, বর্ষা, বল্লম, দা, ফলা ইত্যাদি দেশীয় অস্ত্রে নিয়ে সিঙ্গারচর ও ইকুরদিয়া বাতানসহ গুটা এলাকা টহল করতে থাকে এবং ইকুরদিয়া গ্রামের জেলে স্বপন দাস (২২), যুতি দাস (৩৫), পরেশ দাস (৪৫), সুফল দাস (২৭), দিজেন্দ্র দাস (৪৭) কে মারধর করে জাল নিয়ে যায় এবং অন্যান্য জেলেরা পালিয়ে বাঁচে। আহত জেলেরা অষ্টগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসার পর বাড়িতে চলে যায়।

ঘটনার সাথে সাথে উক্ত অস্ত্রধারি বাহিনী ইকুরদিয়া জেলেপল্লীতে হামলা চালাবার উদ্যোগ নেয়। খবর পেয়ে পূর্ব অষ্টগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ কাছেদ মিয়া ও অষ্টগ্রাম থানার এ এস আই ওমর ফারুক সহ পুলিশ দল ঘটনার স্থলে পৌছালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আসে। এসব ঘটনা পূর্ব অষ্টগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ কাছেদ মিয়া ও ইকুরদিয়া গ্রামের হরিমন দাস, রবীন্দ্র দাস, পিন্টু দাস, সুশেন দাস সহ অসংখ্য জেলে জানান এ ধরনের ঘটনা ১৫দিন ধরে প্রতিনিয়ত ঘটছে। এসব সন্ত্রাসীরা যেকোন সময়ে ইকুরদিয়া জেলে পল্লীতে আক্রমন চালাবার উদ্যোগ নিচ্ছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সংসদ সদস্যদের জানানো হচ্ছে বলে তারা জানান। সর্বশেষ সোমবারের ঘটনার পর ৩ শতাধিক জেলে উপজেলা পরিষদে উপস্থিত হয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবু তাহের সাঈদকে অবহিত করেন। এ ব্যাপারে মঙ্গলবার উভয়পক্ষকে উপজেলা পরিষদে উপস্থিত করে হুলগাই বিলির সীমানা নির্ধারনে জরুরী ব্যবস্থা নেয়া হবে এবং উত্তেজনা বন্দের নির্দেশ প্রদান করেন। এ ব্যাপারে অভিযুক্ত কলমা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও শরীফপুর গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা সাবেক ইউপি মেম্বার শহীদুল ইসলামকে মোবাইল ফোনে ঘটনা অস্বীকার করেন।

হাওড় অঞ্চল জীবনমান উন্নয়ন প্রকল্প (হিলিপ) উপজেলা সমন্বয়ক নয়ন কুমার সরকার জানান যারা দাঙ্গা হাঙ্গামা করেছে তাদের নেতা কলমা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও শরীফপুর গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা সাবেক ইউপি মেম্বার শহীদুল ইসলাম সহ কেউ আমাদের সমিতির সদস্য নয়। সীমানা নির্ধারন না করার কারণ জানতে চাইলে উনি জানান অকাল বন্যা পরবর্তিতে পানি বেড়ে যাওয়ার কারণে সীমানা নির্ধারন করা সম্ভব হয়নি। তবে পানি চলে গেলে পিলারের মাধ্যমে সীমান নির্ধারন করা হবে।  এ ব্যাপারে অষ্টগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ কামরুল ইসলাম মোল্যা জানান পরিবেশ এখন শান্ত রয়েছে।

মুক্তিযোদ্ধার কণ্ঠ ডটকম/০৫-জুলাই-২০১৭ইং/নোমান

Comments

comments

You might also like More from author

Leave A Reply

Your email address will not be published.

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ