সন্ধ্যা নামলেই ‘সংসদের সামনে’ যুবক-যুবতীর অনৈতিক কাজ!

জান্নাতুল জাকির প্রিন্স ভূঁইয়া, নিজস্ব প্রতিনিধি :

রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ গেটে বিকেল হলেই জমে উঠে তরুণ-তরুণীদের আড্ডা। ফুচকা, আইসক্রীম,বাদাম আর গান সব মিলিয়ে বিনোদন কেন্দ্রে পরিণত হয় এ এলাকাটি।খামার বাড়ী থেকে শুরু করে আড়ং পর্যন্ত। অন্যদিকে বিজয় স্মরণি মোড় থেকে শুরু করে গণভবনের পিছন পর্যন্ত জুটি বেঁধে বসে থাকতে দেখা যায় কপোত-কপোতীদের। কেউ আসে ছবি তুলতে কেউ গিটার-তবলা নিয়ে আসে গান গাইতে।

তবে সন্ধ্যা নামলেই বদলে যায় জনবহুল এ স্থানটির চিত্র। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা থাকা সত্ত্বেও দেখা মিলে পতিতাদের। কোন প্রকার ভয়ভীতি ছাড়াই চলে নারী কেনাবেচা। দর-দাম ঠিক করে চলে যান বাসায় কিংবা কোন হোটেলে। আবার অনেকে এখানেই বসেই নানান কৌশলে সেড়ে নেন নিজেদের কাজ।এরই সাথে দেখা মিলে মাদকের আড্ডা। তরুণ-তরুণী উভয়কে একসাথে দেখা যায় মাদক সেবন করতে।
এর থেকেও ভয়ঙ্কর চিত্রের দেখা মিলে সন্ধ্যা গড়িয়ে যখন রাত নামে।সন্ধ্যা শেষে রাতে শুরু হয় কথিত প্রেমিক-প্রেমিকার অনৈতিক কর্মকান্ড। সংসদের দিকে মুখ করে বসে তারা।এরপরই শুরু হয় অসামাজিক কার্যকলাপ। প্রায়ই এসব অনৈতিক কর্মকান্ড দেখে হতভম্ব হন পথচারীরা। সামনা সামনি কিছু না বলতে পারলে মুখে কিছু বলতে বলতে চলে যান নিজ গব্যন্তে।
সাধারণ মানুষ যারা এখানে পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসেন।এসব দেখে বিব্রত বোধ করতে হয় তাদের। তেমনই একজন জাহাঙ্গীর আলম দুই সন্তান আর স্ত্রীকে নিয়ে ঘুরতে এসেছিলেন সংসদের সামনে কিন্তু পতিতা আর যুবক-যুবতীদের এ সব কর্মকান্ডে দু:খ প্রকাশ করে বলেন, ‌‌’আমরা মাঝে মাঝে পরিবার নিয়ে এখানে আসি একটু রিলাক্স হতে, কিন্তু দু:খ জনক বিষয় এখানে এসে খুবই বিব্রত পরিস্থিতে পড়তে হয়।
নর্দান বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন শিক্ষার্থী রুদিতা তাসনিম বলেন, প্রতিদিনই এই পথ দিয়ে চলতে হয় আমাকে। চলার পথে মাঝে মাঝে একটু বসি সংসদের সামনে কিন্তু প্রেমিক যুগলদের অস্বাভাবিক আচরণ গুলো চেয়ে দেখা ছাড়া আর কিছুই করার থাকে না। আমাদের নৈতিকতার চরম অবক্ষয় হয়েছে। এর জন্য আগামী প্রজন্মকে চরম মূল্য দিতে হবে। আমাদের সুস্থ সমজটা এ সব নোংরা কারণে অসুস্থ হয়ে পড়েছে।
ওই এলাকায় দায়িত্বরত কয়েক জন পুলিশ কর্মকতার সাথে কথা বললে তারা জানান, আমরা প্রায় এদের তুলে দেই। দীর্ঘক্ষণ বসতে দেই না। কিন্তু আমরা তুলে দেওয়ার সাথে সাথে পুনরায় বসে পড়ে। এসব কাজ বন্ধ করতে হলে উপর মহলকে আরও কঠোর হতে হবে।
এ বিষয়ে শেরে বাংলা নগর থানার দায়িত্বরত ওসিকে ফোন করে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি মিটিংয়ে আছেন বলে ফোন কেটে দেন।

 

 

মুক্তিযোদ্ধার কণ্ঠ ডটকম/২০-জুলাই২০১৭ইং/নোমান

Comments

comments

You might also like More from author

Leave A Reply

Your email address will not be published.