কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীরমুক্তিযোদ্ধা মো.জিল্লুর রহমানকে ফোনে সপরিবারে হত্যার হুমকি

আমিনুল হক সাদী, নিজস্ব প্রতিবেদক :

কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. জিল্লুর রহমানকে মোবাইল ফোনে সপরিবারে হত্যার হুমকি দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এ বিষয়ে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মো.জিল্লুর রহমানের পরিবার উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। তবে এ হুমকিতে তিনি ভীত নন। তিনি জানান, একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে জীবন বাজি রেখে আত্মঘাতি স্কোয়াডে অংশ নিয়েও মরিনি।

জানা গেছে গত ১৯শে জুলাই রাতে তাকে দু দফা মোবাইল ফোনে হত্যার হুমকি দেয়া হয়। এছাড়া তার গাড়িতে হামলা করা হবে বলেও হুমকি দেয়া হয়। এ ব্যাপারে অ্যাডভোকেট মো. জিল্লুর রহমান বৃহস্পতিবার কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় একটি জিডি (নং-১২৬৫) করেছেন।

জিডিতে উল্লেখ করা হয়, কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের ওয়ালী নেওয়াজ খান কলেজের সমাজকর্ম বিভাগে ২ জন প্রভাষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেয়া হলে ২০১৫ সালের জুলাই মাসে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মো. জিল্লুর রহমানের পুত্রবধূ শাহীনূর নাহার হাসি এ পদের জন্য আবেদন করেন। কিন্তু কলেজ পরিচালনা কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন কমিটি নিয়ম না মেনে ২০১৬ সালের ডিসেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহে ২ জনের পরিবর্তে ৫ জন প্রভাষক নিয়োগ দেন। কিন্তু জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মো. জিল্লুর রহমানের পুত্রবধূ শাহীনূর নাহার হাসি পরীক্ষায় প্রথম হলেও তাকে বাদ দেয়া হয়। অনিয়মের অভিযোগ এনে শাহীনূর নাহার হাসি শিক্ষা সচিবের কাছে অভিযোগ করেন। ময়মনসিংহ অ লের পরিচালক শিক্ষাকে এই অভিযোগটি তদন্তের নির্দেশ দেয়া হয়। ময়মনসিংহ অ লের পরিচালক শিক্ষা ১৯শে জুলাই তদন্তের জন্য কলেজ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন। কলেজ কর্তৃপক্ষ অভিযোগকারীকে না জানিয়ে গোপনে তদন্তের চেষ্টা করেন। কিন্তু তদন্তকারী কর্মকর্তা অভিযোগকারীর বক্তব্য না শুনে তদন্ত শেষ করতে অস্বীকৃতি জানান এবং দরখাস্তকারীর পক্ষে কাগজপত্র দাখিল করার জন্য পরবর্তি সময় নির্দেশনা দিয়ে চলে যান।

১৯শে জুলাই রাত ৯টা ৫৯ মিনিটে ০১৯১৬ ৭৪৬৯৭৬ নাম্বার থেকে জেলা পরিষদের চেয়ারমান অ্যাডভোকেট মো. জিল্লুর রহমানের ০১৭১৬ ০১৮৬৭৮ নাম্বারে একটি ফোন আসে। ফোন রিসিভ করার পর অজ্ঞাত পরিচয়ের দুর্বৃত্ত তাকে বলে যে আগামী কালের মধ্যে তোর পুত্রবধূ অভিযোগ প্রত্যাহার করে না নিয়ে তোকে এবং তোর পরিবারকে হত্যা করা হবে। কালকে রাস্তায় বেরোলে গাড়ি ভাঙচুর করে তোকে মেরে ফেলা হবে।

অ্যাডভোকেট মো. জিল্লুর রহমান ফোন রেখে দেয়ার কিছুক্ষণ পর রাত ১০টা ১৬ মিনিটে আরেকটি নাম্বার থেকে আবারও তার কাছে ফোন করা হয়। আগের বার ফোন রেখে দেওয়ায় জিল্লুর রহমানকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করা হয়। অভিযোগ প্রত্যাহার করে না নিলে জিল্লুর রহমান ও তার পুত্রবধূকে প্রকাশ্যে তুলে নিয়ে যাওয়া হবে বলেও হুমকি দেয়া হয়। হুমকিদাতা এ সময় মোবাইল ফোনে রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদকে কটাক্ষ করে বলে, ভাবিসনা তোর বাবা আব্দুল হামিদ রাষ্ট্রপতি তোকে রক্ষা করবে।

জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মো. জিল্লুর রহমান জানান, রাতেই বিষয়টি জেলা পুলিশ সুপারকে জানানো হয়। পরে থানায় জিডি করি।

কিশোরগঞ্জ মডেল থানার ওসি খোন্দকার শওকত জাহান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

 

 

মুক্তিযোদ্ধার কণ্ঠ ডটকম/২২-জুলাই২০১৭ইং/নোমান

Comments

comments

You might also like More from author

Leave A Reply

Your email address will not be published.