তাড়াইলে মসজিদ পূণঃনির্মাণ ও উন্নয়ন কাজে বাধা

এলাকায় উত্তেজনা : পুলিশ মোতায়েন

আমিনুল হক সাদী, নিজস্ব প্রতিবেদক :

দেড়শত বছরের পুরনো জরাজীর্ন মসজিদ স্থানান্তর ও পূণঃনির্মাণকে কেন্দ্র করে কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার ধলা ইউনিয়নের উত্তর ধলা গ্রামে দু’পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ, মামলা দায়ের ও এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

ঝুঁকিপূর্ণ পুরনো মসজিদ ভাঙ্গাকে বাবরী মসজিদ ভাঙ্গার সাথে তুলনা করে একটি পক্ষ অপপ্রচারে লিপ্ত। এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে ধর্মীয় সংঘাত সৃষ্টির পায়তারাও হচ্ছে।

স্থানীয় এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, প্রভাবশালী একটি পরিবারের পারিবারিক দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ১৫০ বছরের পুরাতন জরাজীর্ন দ্বিতল বিশিষ্ট ওই মসজিদটির বিভিন্ন জায়গায় ফাটল দেখা দেওয়ায় এবং বৃষ্টির পানি পড়ায় মুসুল্লীদের মাঝে মসজিদটি ধ্বসে পড়ে বড় ধরণের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এমন আশঙ্কায় গ্রামবাসী মসজিদটি পূণঃনির্মাণের জন্য মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি, ২০০৫ এ ইসলামী ব্যাংকিংয়ে এ্যাওয়ার্ড প্রাপ্ত ব্যক্তিত্ব ও ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান এম আযীযুল হকের দ্বারস্থ হন।

তিনি পরবর্তীতে স্থানীয় পাঁচটি মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, মসজিদ পরিচালনা কমিটি ও আলেম উলামাসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সাথে আলোচনা করে কোটি টাকা ব্যয়ে তিন তলা বিশিষ্ট মসজিদ পূণঃনির্মাণের পরিকল্পনা করেন। কিন্তু এতো বিশাল মসজিদ উক্ত স্থানে করলে এলাকাবাসীর ঈদের নামাজের জায়গার সমস্যা হবে বিধায় তিনি মসজিদ কমিটি ও এলাকাবাসীর সম্মতিতে প্রায় ১০০ ফুট দূরে নিজের ক্রয় করা জায়গায় মসজিদটি নির্মাণ করে দেন।

পুরনো মসজিদটি যে জায়গায় ছিল সেটি ছিল ঈদগাহের জায়গা। তাই পূর্বোক্ত জায়গায় এলাকাবাসীর অনুরোধে ঈদগাহ মাঠটিকে সম্প্রসারণ করে সম্পূর্ণ নিজ খরচে একটি অত্যাধুনিক ও প্রসস্থ ঈদগাহ তৈরির পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। ১৫ লাখ টাকা ব্যয় ধরে ইতিমধ্যে যার নকশাও তৈরি করা হয়েছে। এই ঈদগাহ সম্প্রসারণের কাজের জন্যই মসজিদটিকে স্থানান্তর করা হচ্ছে।

আর এই কাজটাকে তাড়াইল উপজেলা কর্তৃক প্রকাশিত যুদ্ধাপরাধী তালিকার (৬নং) অভিযুক্ত ব্যক্তি এডভোকেট জাহিরুল হক ও তার ভাই বজলুল হকের নেতৃত্বে এলাকার স্বার্থন্বেষী গুটি কয়েক ব্যক্তি ও একটি দুষ্ট চক্র বাবরী মসজিদ ভাঙ্গার আদলে মসজিদ ভাঙ্গা হচ্ছে বলে চালিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে।

সরেজমিন পরিদর্শনে ও অভিযোগ থেকে জানা গেছে, তাড়াইল থানার এসআই জাহাঙ্গীর আলমের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম নব নির্মিত মসজিদ ও পুরনো মসজিদের মধ্যস্থলে মোতায়েন রয়েছে। নতুন মসজিদে তাবলীগ জামাতের বয়ান চলছে। পুরনো মসজিদের ভাঙ্গা অংশ দেখে বুঝা যায় খুবই দুর্বল হয়ে গেছে এর অবকাঠামো। ওই বিল্ডিংয়ের ছাদ ছাড়া কোথাও কোনো রড নেই। যে কারণে তার অস্থিত্বকে ধরে রাখা অসম্ভব। তাড়াইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এএসপি সার্কেল মসজিদ এলাকা পরিদর্শন করেছেন বলেও জানা গেছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মসজিদ কমিটির সেক্রেটারী ও খতীব প্রভাষক মাওলানা নাজমুল ইসলাম বলেন, আমি গত ১০ বছর যাবত এই মসজিদে জুময়ার নামাজ এবং এই ঈদগাহে ঈদ জামাত পড়াচ্ছি। যারা এ ধরনের স্পর্শকাতর সংবাদ ছড়িয়ে সমাজে ফিতনা সৃষ্টি ও একটি মুসলিম দেশের সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে চায় তাদেরকে আইনের আওতায় এনে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি।

মসজিদ পরিচালনা কমিটির সদস্য আশরাফুল আলম চৌধুরী জানান, মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, ম্যানিজিং কমিটি, মুসল্লী সব কিছু আগের মতোই আছে। জরাজীর্ন ও ঝুঁকিপূর্ণ পুরনো মসজিদটিকে ম্যানিজিং কমিটি পরিত্যাক্ত ঘোষণা করেছে। তাই সর্ব সম্মতিক্রমেই এটি স্থানান্তর করা হয়েছে। এলাকার বিতর্কিত ব্যক্তি এবং যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত এডভোকেট জাহিরুল হক ও তার ভাই বজলুল হক অহেতুক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছেন। অথচ এরা এখানকার মুসল্লী নন। বিতর্কিত কর্মকান্ডের কারণে গত ২০/২২ বছর আগে থেকেই এরা এলাকা ছাড়া।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মো. আসাদুজ্জামান মবিন বলেন, মসজিদ নির্মাণের মতো শুভ কাজে যারা বাধা প্রদান করে এবং মিথ্যা অপবাদ ছড়ায় তারা মুসলমানদের শত্রু দেশের শত্রু। এলাকার শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ও নির্বিঘ্নে মুসল্লীদের নামাজ আদায় ঠিক রাখতে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা কামনা করছি।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. আজিজুল হক ভূঞা মোতাহার বলেন, ইদানীং ফেসবুকে বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। উত্তর ধলার দ্বিতল বিশিষ্ট এই মসজিদটির পাশ দিয়ে প্রায়ই আমার যাতায়াত হয়। আমার বাড়ি থেকে প্রায় ৫০০ গজ পশ্চিমে মসজিদটি। কিছু দুস্কৃতিকারী ও মহান মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতাকারী অপশক্তি দেশ ও জাতিকে বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্যে ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে এক ধরনের মিথ্যা ও ভিত্তিহীন সংবাদ প্রচার করে যাচ্ছে। আমার বিশ্বাস আযীযুল হক সাহেবের মতো একজন ব্যক্তির মহত কাজটির বিরোধিতা এবং এলাকায় বিশৃঙ্খল পরিবেশ তৈরি করাই তাদের উদ্দেশ্য। কাজেই আমি এই গর্হিত কাজের সুস্পষ্ট নিন্দা জানাই।

এরকম জাহেলিয়াত ইসলামের ইতিহাসে আর একটিও খুজে পাওয়া যাবে না। মহান আল্লাহর ঘর পবিত্র কাবাকেও তো কয়েকবার ভেঙ্গে সংস্কার করা হয়েছে। তাড়াইল উপজেলা পরিষদ মসজিদটিও তো স্থানান্তর করা হয়েছে। আমার গ্রামের মসজিদটিও স্থানান্তর হয়েছে। এমন উদাহারণ টেনে তিনি আলেম উলামাসহ এলাকার সম্মানিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান।

 

মুক্তিযোদ্ধার কণ্ঠ ডটকম/২৬-জুলাই২০১৭ইং/নোমান

Comments

comments

You might also like More from author

Comments are closed.

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ