অষ্টগ্রামে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ শিশু নারী-পুরুষসহ আহত অর্ধশতাধিক

১০ জনের অবস্থা সংকটাপন্ন

ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি, অষ্টগ্রাম (কিশোরগঞ্জ)।।

কিশোরগঞ্জের হাওড় উপজেলা অষ্টগ্রামের আদমপুর কৈরাইল গ্রামে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক রক্তক্ষয়ী সংঘষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে নারী, শিশু সহ অর্ধ শতাধিক লোক আহত হয়েছেন। এছাড়াও বাড়ি-ঘর লুটপাট সহ নানা নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। প্রায় দেড় ঘন্টা এ সংঘর্ষে আব্দুল্লাপুর পুলিশ ফাঁড়ি ও অষ্টগ্রাম থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আসে। আহতদের অষ্টগ্রামে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও হবিগঞ্জ জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সংকটাপন্ন ১০ জন কিশোরগঞ্জ জেলা হাসপাতাল ও হবিগঞ্জ জেলা হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

এলাকাবাসী পুলিশ ও আহত রোগীদের সূত্রে জানাগেছে গত বুধবার দুপুরে আদমপুর ইউনিয়নে কৈরাইল আখড়ায় শিশু কিশোরেরা ফুটবল খেলছিল। এ সময়ে দুজন কিশোরের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। এই ঘটনা কেন্দ্র করে উভয় দলের লোকজন দা, বর্শা, হলংঙ্গা, টেডা ইত্যাদি দেশীীয় অস্ত্রে-সস্ত্রে সজ্জিত হয়ে একদল অন্য দলের উপর আক্রমন চালায়। ফলে কেহ সামনা সামনি কেহ বাড়িতে থেকে আহত হতে থাকে। এ ইউনিয়নের সাবেক দুই চেয়ারম্যানের মধ্যে গত ইউ.পি নির্বাচন থেকেই বিরোধ চলে আসছে এবং সমর্থকরে বাজার লুট, বাজারে অগ্নিসংযোগ মারামারি এমনকি খুনের মত ঘটনা কিছুদিন পর পরই চালিয়ে যাচ্ছে। মামলা মোকদ্দমা এদের নিত্য দিনের ঘটনা। এ ঘটনাতে ও দু’পক্ষের ০২ জন শক্তিশালী সমর্থক জড়িত বলে একাধিক সূত্রের ভাষ্য। পরে আহত রোগীদের মধ্যে এক মারাত্মক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। উভয় পক্ষের আহতদের বাড়ি আদমপুর ইউনিয়নের কৈরাইল নয়াবাড়ি এক পক্ষের রোগী ২৬ জন রোগী অষ্টগ্রাম উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে আসেন। অপরপক্ষে রোগী হবিগঞ্জ বিভিন্ন হাসপাতাল ও জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামীলীগ নেতা আঃ মন্নাফ জানান তার পক্ষের সহিদ মিয়া (৩৫), সরাজ মিয়া (৪৫), শহীদ (৩০) সহ ৩০ জন আহত হয়েছেন।

এদের হবিগঞ্জ বিভিন্ন হাসপাতাল ও জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং এই ঘটনা অপর পক্ষের চেয়ারম্যান ফজলুল করিম বাদলের একজন শক্তিশালী সমর্থক পরিকল্পিত ভাবে সৃষ্টি করেছে। অপর পক্ষের লোকজন যাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে সংকটাপন্ন এমরান (২২), পিতা – ফজলু মিয়া, সুলমান (৩৫), পিতা – আশিক আলী, বিপ্লব (১৮), পিতা – সালাউদ্দিন, আক্কাছ আলী (৪৫), পিতা – আমিন, আহছান (৩৫), পিতা – জহুর কে কিশোরগঞ্জ জেলা হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। অষ্টগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে অন্যান্য আহতদের মধ্যে যারা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এরা হচ্ছেন ফারুক (৫০), বাচ্চু (৫০), রাশেদ (২৮), সফর আলী (২২), সাইদুর (২৩), সেনুরা বেগম (৩৫), করম আলী (২৫), হারিছ (৩৫), কামাল (৩৫), নওসার (২২), আলকাছ (৫৫), এরশাদ (৬০), সোহাগ (১২), উজ্জল (২৭), তোফাজ্জল (২৫), হাদিস (৩৮), আইন উদ্দিন (২৫), সালা উদ্দিন (৫০), সুলেমান (৩০), বিপ্লব (১৮), হারিছ (৩০) এই ঘটনায় আদমপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ফজলুল করিম বাদল ও একাধিক আহত রোগীর ভাষ্য মারামারিতে প্রতিপক্ষের লোকজন বন্ধুক ব্যবহার করেছেন এবং ছড়া গুলিতে বেশ কিছু রোগী আহত হয়েছে। অষ্টগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপস্থিত মেডিকেল অফিসার ডাঃ অনুপম কুমার দাস জানান গুলিতে আহত রোগী হাসপাতালে রয়েছেন।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত আব্দুল্লাপুর পুলিশ ফাঁড়ি সাব-ইন্সপেক্টর হানিফ সরকার ও অষ্টগ্রাম থানা পুলিশ এএসআই ওমার ফারুক মিয়া জানান ছোটদের খেলাধুলা থেকেই এই ঘটনা সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। অষ্টগ্রাম থানা রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোন অভিযোগ আসেনি।

 

মুক্তিযোদ্ধার কণ্ঠ ডটকম/২৭-জুলাই২০১৭ইং/নোমান

Comments

comments

You might also like More from author

Comments are closed.

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ