চলতি অর্থবছরে ৪ হাজার ১০০ কোটি মার্কিন ডলার রফতানি লক্ষ্যমাত্রা

অর্থনৈতিক রিপোর্ট :

চলতি অর্থবছরের (২০১৭-১৮) জন্য পণ্য ও (আইটিসহ) সেবাখাত মিলিয়ে রফতানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ হাজার ১০০ কোটি ডলার। এর মধ্যে পণ্য খাতে ৩ হাজার ৭৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আর সেবাখাতের রফতানি লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে সাড়ে ৩ কোটি মর্কিন ডলার। রফতানি আয়ের এই লক্ষ্যমাত্রা গত অর্থবছরের তুলনায় ১ দশমিক ৩৫ শতাংশ বেশি। রফতানি আয়ের এই লক্ষ্যমাত্রায় এ বছর প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ৭ দশমিক ৮৭ শতাংশ। রবিবার সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় এ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়।

এ সময় বাণিজ্য সচিব শুভাশীষ বসু, শিল্প সচিব মোহাম্মদ আবদুল্লাহ, ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবসিসিআইয়ের সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিনসহ রফতানিযোগ্য পণ্য খাতের ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় জানানো হয়, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে রফতানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৩ হাজার ৭০০ কোটি ডলার। সেই হিসাবে এবার এই লক্ষ্যমাত্রা বেড়েছে ১ দশমিক ৩৫ শতাংশ। এই লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে রফতানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হয়েছে ৩ হাজার ৪৮৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

সভায় জানানো হয়, এবার প্রধান রফতানি পণ্য তৈরি পোশাক শিল্প খাত থেকে ৩ হাজার ১৬০ কোটি ডলার আসবে বলে ধরা হয়েছে, যা মোট রফতানি লক্ষ্যমাত্রার প্রয় ৮১ শতাংশ। এ বছর চামড়া খাতে রফতানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৩৮০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। রাজধানীর অদূরে সাভারের নতুন চামড়া নগরীতে গ্যাসসহ বিদ্যমান সামান্য কিছু সমসা নিরসন করা গেলে রফতানির এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কঠিন কিছু নয় বলে জানান সভায় উপস্থিত এ খাতের ব্যবসায়ীরা।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আশা করছি এই টার্গেটে আমরা পৌঁছাতে পারব। গত ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৩৪ দশমিক ৮৩৫ বিলিয়ন ডলার মূল্যের রফতানি আয় হয়েছে। সেবাখাতে ৩৫০ কোটি ডলার মিলিয়ে চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের জন্য মোট ৪ হাজার ১০০ কোটি ডলার রফতানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।’ তিনি জানান, ‘২০২১ সালে আইটি খাতে বাংলাদেশ রফতানি আয় করবে ৫ হাজার কোটি ডলার।’

সদ্য সমাপ্ত ২০১৬-১৭ অর্থবছর রফতানি লক্ষ্যমাত্রা কেন অর্জিত হয়নি, জানতে চাইলে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী ইউরো ও পাউন্ডের মুল্য কমে যাওয়া এবং বাংলাদেশে উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় রফতানির লক্ষ্য অর্জন করেনি।’

সাংবাদিকদের অন্য এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘রানা প্লাজা ধসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশের বিনিয়োগকারীরা কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করে কারখানার অবকাঠামো উন্নয়ন করেছে।  ফলে এই মুহূর্তে বাংলাদেশের ২৭০টি কারখানার মালিক তাদের কারখানাগুলোকে গ্রিন কারখানা করেছে। কিন্তু এত কিছুর পরেও আমাদের বিনিয়োগকারীরা তাদের কারখানায় উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য পায়নি।

সভায় উপস্থিত এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেছেন, ‘আমাদের বন্দর সমস্যা চলছে। আশা করছি এ সমস্যা মিটে যাবে। কিন্তু এই সময়ের মধ্যে যদি বয়াররা অন্যত্র চলে যায়, তাহলে আমাদেও ক্ষতি হয়ে যাবে। যদিও মঙ্গলবার অর্থমন্ত্রী ও নৌ পরিবহন মন্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে বন্দর সমস্যা নিরসনে আমরা চট্টগ্রাম যাচ্ছি।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের গ্যাস সমস্যা আছে। নতুন গ্যাস ক্ষেত্র আবিষ্কারের আগে এলএনজিকে উৎসাহিত করা হচ্ছে। শুধু ইউরো বা পাউন্ডেরই নয়, পাকিস্তান ভিয়েতনামের মুদ্রারও দরপতন হয়েছে। কিন্তু এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের টাকার অবস্থান অত্যন্ত শক্তিশালী রয়েছে, যা অত্যন্ত শুভ সংবাদ। তিনি বলেন, ‘ব্যবসা বাণিজ্যে আমরা ভালো করেছি, আরও ভালো করতে হবে।’

এ সময় বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাণিজ্য বাড়াতে আমরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্ট (এফটিএ) করব। শ্রীলঙ্কার সঙ্গে এ বছরই হবে এ চুক্তি, আর তুরস্কের সঙ্গেও এফটিএ করার বিষয়ে আলোচনা  চলছে।’

মুক্তিযোদ্ধার কণ্ঠ ডটকম/৩১-জুলাই২০১৭ইং/নোমান

Comments

comments

You might also like More from author

Comments are closed.

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ