আমন ধানের বীজতলা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কটিয়াদীর কৃষকরা

মোঃছিদ্দিক মিয়া, কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি :

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার পৌরসভাসহ ৯টি ইউনিয়নের কৃষকেরা আমনের বীজতলা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।কটিয়াদী উপজেলায় ৫০-৫৫ হাজার কৃষক ব্যস্ত এখন হাইব্রিড-১০, উফসি-৭৩০,স্থানীয়-৪০ হেক্টর মোট ৭৮০ হেক্টর এবং আদর্শ বীজতলা -১৫০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন নিয়ে। এবারের চলতি বর্ষা মৌসুমে ঈদের পর থেকেই দু সপ্তাহ ধরে মাঠে ঘাটে রোপা আমন বীজতলা আর জমি প্রস্তুতে ব্যস্ত থাকতে দেখা যাচ্ছে এই অঞ্চলের কৃষকদের। এই বছর চলতি মৌসুমের শুরু থেকে কম বেশি প্রায় প্রতিনিয়ত বৃষ্টি হচ্ছে এবং আষাঢ়ের শুরু থেকে দেখা মিলেছে আষাঢ়ের ভারি বর্ষণের। তাই এই অঞ্চলের কৃষকরা বর্তমানে ব্যস্থ হয়ে উঠেছে বর্ষা মৌসুমের ধান লাগানোর জন্য বীজতলা ও জমি তৈরিতে। এবার শুরু থেকে কম বৃষ্টিপাত হওয়ার আষাঢ় থেকে শুরু করে শ্রাবণের শুরু পর্যন্ত লক্ষ রেখে বীজতলাই ধানের বীজ বপনের কাজ চলছে। ইতিমধ্যে অনেকে জমিতে ধান লাগানোর কাজে ব্যস্ত। কটিয়াদী উপজেলা কৃষি বিভাগ জানায় ইতিমধ্যে ৮০ শতাংশ বীজতলা তৈরি। আর লাগানো শুরু হয়েছে ২০ শতাংশ।

কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আগাম জাতের আমন ও বিনা-৭ জাতের ধান উচ্চ ফলনশীল জাতের ধান আবাদের জন্য বীজতলা তৈরি করছেন। এবার তারা কৃষি বিভাগের পরামর্শে আদর্শ ও ভাসমান বীজতলা তৈরি করছেন বলে জানান।

উপজেলার চান্দঁপুর ইউপির মানিকখালী  গ্রামের কৃষকরা জানান, গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে জমিতে পানি জমা হওয়ায় এবং বন্যা হওয়ায় উপযুক্ত বীজতলার জমি না থাকার কারনে আমনের ভাসমান বীজতলা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা।

উপজেলার জালালপুর গ্রামের কৃষকরা জানান, আমন বীজতলা তৈরিতে ব্যস্ত থাকলেও আমরা শঙ্কিত। গত কয়েক দিনের মত টানা বৃষ্টিপাত হলে বীজতলা নষ্ট হয়ে আমাদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ বিষয়ে কটিয়াদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ হুমায়ুন কবীর জানান, এবার উপজেলার বোপা আমন প্রায় ১২ হাজার ৪শত ৮৫ হেক্টর জমিতে রোপা আমনের আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে । কৃষক সংখ্যা রয়েছে ৫০-৫৫ হাজার।রোপা আমনের ভালো ফলনের লক্ষ্যে কৃষকদের আদর্শ বীজতলা তৈরি, সঠিক বয়সের চারা রোপণ, সুষম সার প্রয়োগ ও পার্চিং পদ্ধতি সম্পর্কে কৃষকদের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে এবং উদ্বুদ্ধকরণ সভা করা হচ্ছে।

মুক্তিযোদ্ধার কণ্ঠ ডটকম/০২-আগস্ট২০১৭ইং/নোমান

Comments

comments

You might also like More from author

Comments are closed.

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ