কিশোরগঞ্জে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীর ধর্ষণ মামলা

মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ।।

কিশোরগঞ্জে ধর্ষণের দায়ে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন এক ছাত্রী।।

২ আগস্ট বুধবার দুপুরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল কিশোরগঞ্জ আদালতে ওই ছাত্রী বাদি হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. আওলাদ হোসেন ভূঁইয়া মামলাটির শুনানি শেষে কিশোরগঞ্জ মডেল থানাকে এফআইআর গণ্য করে আদালতে প্রতিবেদন পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মঈন উদ্দিন সাবেরী

মামলার বিবরণ সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত করিমগঞ্জ উপজেলার টামনী কোনাপাড়া গ্রামের মৃত মোস্তফা-ই-কাদেরের ছেলে এবং তাড়াইল উপজেলার তালজাঙ্গা আর সি রায় উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মঈন উদ্দিন সাবেরী ও ছাত্রী একই গ্রামে বাস করেন।মেয়েটি ওই বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করা কালীন প্রধান শিক্ষক সাবেরী তাকে প্রায়ই কু-প্রস্তাব দিয়ে আসতো। তাতে ছাত্রী কোনদিনই তার প্রস্তাবে রাজি হয়নি। ওই স্কুল থেকে গত বছর এসএসসি পাস করে মেয়েটি কিশোরগঞ্জ গুরুদয়াল কলেজে ভর্তি হয়।

মা-বাবা বিদেশ থাকায় ছাত্রীটি শহরে একটি ম্যাচে থেকে পড়াশোনা চালিয়ে আসছে। আর প্রধান শিক্ষকও কিশোরগঞ্জ শহরের নীলগঞ্জ রোড এলাকায় একটি বাসায় ভাড়া থাকেন। ছাত্রীর ম্যাচের সন্ধান পাবার পর প্রধান শিক্ষক প্রায়ই তার ম্যাচে আসা-যাওয়া ও খোঁজখবর রাখতো। এমনকি তার বাসায় যাওয়ার প্রস্তাব দিতো মেয়েটিকে।

ঘটনার দিন (২১ জুলাই, শুক্রবার) প্রধান শিক্ষক ছাত্রীকে বলে যে, শিক্ষকের স্ত্রী তাকে তার বাসায় যেতে বলেছে। এমন মিথ্যা কথা বলে মেয়েটিকে শিক্ষকের বাসায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। ছাত্রীও সরল বিশ্বাসে প্রধান শিক্ষকের বাসায় গেলে তাকে বাসায় একা পেয়ে সাবেরী তাকে জড়িয়ে ধরে। একপর্যায়ে শিক্ষক ছাত্রীটিকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে।

এ ঘটনায় মেয়েটির আত্মীয়-স্বজনরা এলাকার মাতুব্বরদের কাছে বিচার চায়। কিন্তু স্থানীয় মাতাব্বররা মোটা অংকের টাকায় খায় বলে অভিযোগ কর হয়। পরে থানায় মামলা করতে গেলে সেখানেও সে ব্যর্থ হয়। কোন উপায় না পেয়ে বুধবার  (২ আগস্ট) কিশোরগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতে প্রধান শিক্ষককে আসামি করে মেয়েটি একটি ধর্ষণ মামলা করেন।

বাদি পক্ষের আইনজীবি মো. আতিকুল রহমান রুবেল বলেন, মেয়েটি সুষ্ঠু বিচারের আশায় আদালতে আশ্রয় নিয়েছে। আমার বিশ্বাস মেয়েটি আদালতের মাধ্যমে ন্যায় বিচার পাবে।

সাবেক স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সদস্য আব্দুল সুবান ও মেহেদি হাসান সেনা বলেন, আমরা বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য থাকাকালীন আরও কয়েকটি এ ধরণের ঘটনা ঘটিয়েছেন তিনি। এ সব ঘটনা এলাকা ও স্কুলের ইজ্জতের স্বার্থে তখনও মাতুব্বররা ধামাচাপা দিয়েছেন। পূর্বে করিমগঞ্জ গুজাদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়েও এমন ঘটনার কারণে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনেক শালিস-দরবার হয়েছে।

এ ব্যাপারে তালজাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সেলিম খান জানান, ঘটনাটি আমি শুনেছি। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক ও লজ্জাজনক। আর এ ঘটনার পর থেকে অভিবাবকরা বার বার আমাকে ফোন দিয়ে বলছে তাদের সন্তানদের এ স্কুলে নিরাপত্তা কোথায়? তাদের সন্তাদেরকে এ স্কুল থেকে নিয়ে অন্য কোথাও ভর্তি করবে বলে জানান। এ ঘটনার পর থেকে অভিভাবকরা তাদের মেয়েদের নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে তিনি জানান।

এ বিষয়ে তালজাঙ্গা আর সি রায় উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মঈন উদ্দিন সাবেরী তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, সমাজে আমার মান-সম্মান নষ্ট করতে আমার প্রতিপক্ষ আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ এনে মেয়েটিকে দিয়ে মিথ্যা মামলা করিয়েছেন।

 

 

মুক্তিযোদ্ধার কণ্ঠ ডটকম/০৩-০৮-২০১৭ইং/ অর্থ 

Comments

comments

You might also like More from author

Comments are closed.

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ