বোল্টের রাজত্ব ছিনিয়ে নিল গ্যাটলিন!

Muktijoddhar Kantho , Muktijoddhar Kantho
আগস্ট ৬, ২০১৭ ১০:০৭ পূর্বাহ্ণ

স্পোর্টস রিপোর্ট :

এমন শেষ কেউ কি ভেবেছিল! ‘দুর্বার’ ‘অদম্য’ উসাইন বোল্ট হেসেখেলে ফিনিশিং লাইন পার হবেন, এর পর বজ্রবিদ্যুতের সেই চিরচেনা উদযাপন করবেন। কিন্তু ক্যারিয়ারের শেষ দৌড়ে এসে হতবাক হতে হলো স্প্রিন্ট ভক্তদের। গত ৯ বছর ধরে ১০০ মিটারে সবাইকে একের পর এক বিস্ময় উপহার দেওয়া বোল্ট শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট হারালেন। তাকে পেছনে ফেলে বিশ্ব অ্যাথলেটিকস চ্যাম্পিয়নশিপসে দ্রুততম মানব হলেন জাস্টিন গ্যাটলিন। আর বোল্টের একক রাজত্ব শেষ হলো তৃতীয় স্থানে থেকে।

১০০ মিটারের সেমিফাইনালেই এমন কিছুর ইঙ্গিত মিলেছিল। অলিম্পিক ও বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপসের সেমিফাইনালে কখনও না হারা বোল্ট এদিন হেরে যান আমেরিকার ক্রিস্টিয়ান কোলম্যানের কাছে। অবশ্য ৯.৯৮ সেকেন্ডে দ্বিতীয় হওয়ার পরও ফাইনাল নিশ্চিত করেন জ্যামাইকান তারকা। তার চেয়ে দশমিক ০১ সেকেন্ড সময় বেশি নিয়ে প্রথম হন কোলম্যান (৯.৯৭)। ফাইনালেও একই সময়ের ব্যবধানে বোল্টকে পেছনে ফেলেছেন তিনি।

তবে কোলম্যান স্বর্ণ জিততে পারেননি। তাকে ও বোল্টকে পেছনে ফেলে প্রথম হয়েছেন গ্যাটলিন। গত তিনটি বৈশ্বিক ইভেন্টের ১০০ মিটারে জ্যামাইকান স্প্রিন্টারের ছায়া হয়ে থাকা গ্যাটলিন ৯.৯২ সেকেন্ড সময় নিয়ে স্বর্ণ জিতেছেন। কোলম্যান দ্বিতীয় হয়েছেন ৯.৯৪ সেকেন্ডে, আর ৯.৯৫ সেকেন্ডে ব্রোঞ্জ পেয়েছেন বোল্ট।

রাজ্যের হতাশা নিয়ে গ্যাটলিনকে শুভেচ্ছা জানালেন বোল্ট

দৌড়ের আগেই গ্যাটলিনকে শুনতে হয়েছিল দুয়ো। তবে সেসবে কান দেননি ডোপ পাপে দুইবার নিষিদ্ধ হওয়া এ অ্যাথলেট। পরিচয় পর্বে হাত দিয়ে কান বন্ধ রেখেছিলেন এ আমেরিকান। ‘কোনও কিছু হারানোর নেই’ মানসিকতাকে কাজে লাগিয়ে সবাইকে অবাক করে দিলেন তিনি। ৮ নম্বর লেনে দৌড় শুরু করা গ্যাটলিন স্বদেশী কোলম্যানের পেছনে পড়েছিলেন শুরুতে। তবে লক্ষ্য থেকে ২০ মিটার দূরে থাকতে তাকে টপকে যান ৩৫ বছর বয়সী। এর পর নতুন অধ্যায়। ২০০৫ সালের পর ক্যারিয়ারের দ্বিতীয়বার বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপসে সবার সেরা স্প্রিন্টার হলেন গ্যাটলিন।

ফিটনেস ও ফর্ম নিয়ে বোল্ট এ মৌসুমে কিছুটা ভুগেছেন। তারপরও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় ২০তম স্বর্ণ জয়ের জন্য ফেভারিট ছিলেন তিনি। দুই বছর আগের কথাই ধরা যাক। ২০১৫ সালে বেইজিংয়ের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপসে ফেভারিট ছিলেন গ্যাটলিন। ২৮ দৌড়ে অপরাজিত থেকে ওই আসরে অংশ নেন আমেরিকান। কিন্তু তাকে হতাশ করে স্বর্ণ জেতেন বোল্ট। এবার সেই প্রতিশোধ নিলেন গ্যাটলিন। আর ২০১২ সালের অলিম্পিক স্বর্ণজয়ী ভেন্যুতে বোল্ট পারলেন না তার দারুণ ক্যারিয়ারের শেষটা রঙিন করতে।

যদিও দৌড় শেষে দুজনই একে অপরকে সম্মান দিয়েছেন। ২০০৪ সালে এথেন্স অলিম্পিকে দুই স্বর্ণ জেতা গ্যাটলিন বলেছেন, ‘এটা ছিল বোল্টের শেষ দৌড়। দারুণ এক উপলক্ষ। আমরা ট্র্যাকে প্রতিদ্বন্দ্বী হলেও বাইরে মজা করি, ভালো সময় কাটে। সে আমাকে অভিনন্দন জানিয়েছে এবং বলেছে আমার সঙ্গে দুয়ো যায় না। সে অনুপ্রেরণা সবার কাছে।’ বোল্ট কিছু প্রতিবন্ধকতার কথা বললেও অভিযোগ নেই, ‘শেষদিকে আমি একটু শক্ত হয়ে গিয়েছিলাম, এটা কখনও করা উচিত হয়নি। স্বাচ্ছন্দ্যে দৌড়াতে পারিনি এখানে। কিন্তু যেটা আছে সেটা নিয়ে এগিয়ে যেতে হয়। আমার কোনও অভিযোগ নেই। সে (গ্যাটলিন) দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বী। তার বিপক্ষে সেরাটা দিতে হয়। আমার ভালো লাগে তার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে। সে ভালো একজন মানুষ।’

মুক্তিযোদ্ধার কণ্ঠ ডটকম/০৬-আগস্ট২০১৭ইং/নোমান

Comments are closed.