ওজন কমাবে জুস!

লাইফ স্টাইল রিপোর্ট :

অনেকেই আজকাল ওজন কমানোয় বেশ মনোযোগী হয়েছেন। ওজন কমানোর একটি উদ্দেশ্য সুস্থ থাকা; আরেকটি উদ্দেশ্য দেখতে সুন্দর এবং স্লিম থাকা। অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা আজ নানা স্বাস্থ্য সমস্যার মূল কারণ। আর প্রক্রিয়াজাতকৃত খাবার এবং জাঙ্কফুডই স্থূলতার পেছনে প্রধানত দায়ী। খুব বেশি খাবার খেলে বা শারীরিকভাবে নিষ্ক্রিয় হওয়ার কারণে স্থূলতা রোগ হয়। ডায়েটিং এবং ব্যায়ামের মাধ্যমে ওজন কমানোর পাশাপাশি যেসব তরল খাবার ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে সেসব খাবার নিয়ে আলোচনা করা হল এখানে।

১. লেবু জুস
লেবুতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি। দেহের ভরের সঙ্গে এর রয়েছে বিপরীতমুখী সম্পর্ক। যারা ভিটামিন সি বেশি খান তাদের ওজন কম বাড়ে। গবেষণায় দেখা গেছে, যাদের স্থুলতায় আক্রান্ত তাদের বেশিরভাগই ভিটামিন সি যুক্ত খাবার কম খান। আর যাদের ভিটামিন সি বেশি খান শরীরচর্চার সময় তাদের দেহ থেকে বেশি চর্বি ঝরে।

 এ ছাড়া লেবুতে রয়েছে হেসপেরেটিন। যা একটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ফ্ল্যাভোনয়েড। এটি ওজন কমাতে সহায়ক।

২. গাজর জুস
গাজরে ক্যালোরি কম আঁশ বেশি। প্রতিদিন সকালে এক গ্লাস গাজরের জুস খেলে দুপুর পর্যন্ত আপনার পেট ভরা থাকবে। ফলে আর অতিরিক্ত খাবার খেতে হবে না। গাজর জুস পিত্তের রস নিঃসরণ বাড়িয়ে দেয়। যা দ্রুত চর্বি পোড়াতেও সহায়তা করে এবং ওজন কমায়। এ ছাড়া গাজর জুসে একটি আপেল, অর্ধেক কমলা এবং কিছু আদা যোগ করে আপনি এটিকে একটি বিষমুক্তকারী পানীয়তেও রূপান্তর করতে পারেন। এই পানীয় আপনার দেহ থেকে অপ্রয়োজনীয় সব ট্রক্সিন বের করে দিবে।

৩. টমেটো জুস
এতে রয়েছে ক্যালসিয়াম, আয়রন এবং ভিটামিন সি। আপনাকে সারাদিন ধরে সজীব রাখবে এক গ্লাস টমেটো জুস। এটি আপনার দেহকে প্রয়োজনীয় পানি সরবরাহ করে দেহের আর্দ্রতা ধরে রাখবে। ফলে ওজন কমবে। ক্ষুধা নিবারণ করে। এ ছাড়া মুখের স্বাদগ্রন্থিগুলোকে আচ্ছন্ন করে ফেলে অতিরিক্ত খাবার গ্রহণ থেকে বিরত রাখে।

৪. স্পিনাক জুস
বিশ্বের সবচেয়ে বিস্ময়কর সবজিগুলোর একটি স্পিনাক। নানা পুষ্টি উপাদানে ঠাসা এটি। এতে রয়েছে ভিটামিন কে, এ, সি, বি২, বি৬, ই, ম্যাঙ্গানিজ, আয়রন, ম্যাগনেশিয়াম, ফোলেট, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, ফাইবার, কপার, প্রোটিন, ফসফরাস, জিঙ্ক, ওমেগা-৩ ফ্যাটস, সেলেনিয়ান এবং ট্রাইপটোফ্যান। এতে থাকা জৈব রাসায়নিক উপাদান থাইলাকয়েডস ক্ষুধা কমায়। প্রতিদিন খাবারের আগে এক গ্লাস স্পিনাক জুস খেলে তা ক্ষুধ কমিয়ে অতিরিক্ত খাবার খাওয়া থেকে রক্ষা করবে আপনাকে।

৫. জাম্বুরা জুস
প্রতিবেলা খাবারের আড়ে জাম্বুরা জুস খেলে সবচেয়ে ভালো উপকার পাওয়া যায়। স্বাস্থ্য ভালো করার পাশপাশি ওজনও নিয়ন্ত্রণে রাখে এটি। ক্ষুধাও কমায় এই জাম্বুরা। প্রতিবেলা খাবারের ২০ মিনিট আগে জাম্বুরা জুস খেতে পারেন।

৬. শসা জুস
এতে আছে প্রচুর পানি। ফলে ক্যালোরি কম। বেশি ক্যালোরি পোড়ানোর জন্য কম ক্যালোরিযুক্ত খাবার খেয়ে পেট ভরে রাখা প্রয়োজন। এতে প্রচুর আঁশও আছে। শসার জুসকে আরো উপভোগ্য করতে একটু লেবুর রস এবং পুদিনা পাতা যুক্ত করতে পারেন।

৭. আমলকি জুস
সকালে এক গ্লাস আমলিক জুস খেলে সারাদিন ধরে হজম প্রক্রিয়া শক্তিশালি থাকবে এবং বিপাক গতি তীব্র হবে। এতে দ্রুত চর্বি পুড়বে। ফলত ওজনও কমবে। আমলকি জুস সাধারণত খালি পেটে খেলে বেশি উপকার হয়। এর সঙ্গে কয়েকফোটা মধু যোগ করলে শুধু স্বাদই বাড়বে না বরং সারাদিন ধরে আপনি বলবান ও সক্রিয় থাকবেন।

৮. ডালিম জুস
এটি ত্বকের জন্য খুবই উপকারী তা আমদের জানা আছে। কিন্তু ওজন কমানোতে কীভাবে কাজ করে এটি? এতে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, পলিফেনলস এবং যৌগিক লিনোলেনিক এসিড। এসব উপাদান চর্বি পোড়ায় এবং বিপাকীয় শক্তি বাড়ায়। এ ছাড়া ক্ষুধা কমিয়ে অতিভোজন থেকেও আপনাকে রক্ষা করবে।

৯. করলা জুস
এতে ক্যালরি খুব কম থাকে। করলার জুস খেলে লিভার থেকে পিত্ত রস নিঃসরিত হয়। যা বিপাকীয় ক্রিয়াকে আরো শক্তিশালী করে চর্বি পোড়াতে সহায়তা করে।

১০. বাঁধাকপি জুস
এতেও রয়েছে প্রচুর আঁশ এবং পানি। পেট ফাঁপা এবং বদহজমের মতো রোগ সারানোয় এর জুড়ি মেলা ভার। এটি হজম নালিকে পরিষ্কার করতে এবং দেহ থেকে টক্সিন বের করে দিতে বেশ কার্যকর। এতে থাকা আঁশ পেট ভরা রাখে দীর্ঘক্ষণ ধরে। ফলে অতিরিক্ত খাদ্যগ্রহণ এড়ানো যায়। বাঁধাকপি জুস খেতে ভালো না লাগলে এর সঙ্গে আপেল বা লেবু জুস যোগ করতে পারেন। অথবা গাজর ও বিটরুট জুসও যোগ করতে পারেন।  সূত্র : বোল্ড স্কাই

মুক্তিযোদ্ধার কণ্ঠ ডটকম/০৭-আগস্ট২০১৭ইং/নোমান

Comments are closed.