দুর্গাপুর পৌরসভা ২৩ বছরেও নাগরিকদের দিতে পারেনি প্রত্যাশিত সেবা

চারণ গোপাল চক্রবর্তী, দুর্গাপুর-নেত্রকোনা ।।

নিয়মিত কর দেই কিন্তু আইজও বিদ্যুৎ পাইছি না।আমরার গ্রামের প্রায় ৪শ ঘর অন্ধকার।রোড লাইনের বাতি আছে।
রাস্তার হেই পাড়েও বিদ্যুৎ আছে আমরার নাই।ভোটের সময় মেয়র সাবরা কয় পাশ করলেই বিদ্যুৎ দিব।কথা গুলো বলছিলেন দুর্গাপুর পৌরসভার ৬ নং ওয়ার্ড এর বালিকান্দা গ্রামের বাসিন্দা পাভেল আহমেদ।

১৯৯৪ সালে তৃতীয় শ্রেণীর পৌরসভা হিসেবে যাত্রা শুরু করে নেত্রকোনার দুর্গাপুর পৌরসভা।২২ বছর পর ২০১৬ সালে উন্নিত হয় দ্বিতীয় শ্রেণীতে।২০১৭ তে ২৩ বছরে পা রাখলেও বাড়েনি নাগরিক সেবার মান।

পৌর অফিস সূত্রমতে,৯টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত এই পৌরসভার আয়তন ৯,৭৬ বর্গ কিলোমিটার।সবশেষ তথ্যমতে যার লোকসংখ্যা ২৩৫১৭ জন। মহল্লা ২৮ টি।হোল্ডিং সংখ্যা ৪১৮০ টি।খানা ৫০২২ টি। হাট-বাজার ২ টি। বাসস্ট্যান্ড ২ টি।খেয়াঘাট ২ টি।শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ৫৪ টি।মসজিদ ২৯ টি।ঈদ্গাহ মাঠ ৬ টি।মন্দির ১৪ টি।গীর্জা ৪ টি।কবরস্থান ৫ টি।শ্মশাণঘাট ১ টি।পৌরসভা শুরুর পর থেকে ৪ বার নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত হয়েছে পরিষদ। পরিষদে একজন মেয়র,৯ জন ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও ৩ জন মহিলা কাউন্সিলর বিদ্যমান।

সরেজমিনে ওয়ার্ডগুলো ঘুরে দেখা যায়, পৌর শহরের মূল কিছু সড়কের উন্নয়ন কাজ শুরু হলেও অলি-গলীর রাস্তাগুলোর অধিকাংশই করুণ। ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নতি হয়নি আশারুপ।যদিও কোথাও কোথাও দেখা মেলে ড্রেন এর,সেসব বেশিরভাগ বালি জমে ও ময়লা জমে বন্ধ। রাস্তার যত্রতত্র পড়ে থাকে ময়লা-আবর্জনা। আজও নেয়া হয়নি সু-পেয় পানির ব্যবস্থায় কোন পদক্ষেপ। এখনো পৌরসভার ৬ নং ও ৮ নং ওয়ার্ডের সম্পূর্ণ এলাকা আসেনি বিদ্যুৎ এর আওতায়।গড়ে উঠেনি নাগরিককে বিনোদন দিতে কোন লাইব্রেরী।কোথাও বন্দোবস্ত নিয়ে আবার কোথাও জোর করে অসাধুরা দখলে নিয়েছে পুকুর-খাল।

৫নং বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন পিনাক বলেন,নিয়মিত কর দিয়া যদি সেবা না পাই তাইলে কর দিয়া লাভ কি।পুরাতন কৃষি ব্যাংক এর পাশ দিয়া যে রাস্তা বাগিচাপাড়া ঢুকছে এইডার অবস্থা খুবই খারাপ। প্রায় সব সময় কাঁদা জইমা থাকে।বৃষ্টি হইলে তো কথাই নাই।ড্রেন নাই।বাড়ি-ঘরে পানি উইঠা যায়। বাড়ি থেইকা বের হওয়া মুশকিল।নামাজের জন্য ওজু কইরা বাইর হইলেও মসজিদ এ গিয়া আবার ওজু করা লাগে।

২ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা বাবুল দাশ বলেন,কলের পানিতে আয়রন খুব বেশি।হাতের নখ,দাঁত সব হইলদা হইয়া যায়।পৌরসভা আইজ পর্যন্ত ভালা পানির ব্যবস্থা কইরা দিলো না।

পাহাড় এর সন্নিকটে অবস্থিত পৌর শহরের সাধারণ টিউবয়েল এর পানিতে অতিরিক্ত মাত্রায় আয়রন।যা পান করতে নাগরিকগণ দ্বীধায় ভোগে। সুপেয় পানি সরবরাহ নিশ্চিত করণ এর কথা পৌর নিয়মাবলীতে থাকলেও দুই যুগ পাড় করেও এই সুবিধা জুটেনি নাগরিকদের ।এমনকি এই বিভাগে নিয়োগ দেয়া হয়নি কর্মকর্তা-কর্মচারী।প্রধান নির্বাহী, প্রকৌশলি,স্বাস্থ্য,শিক্ষা, সহ আরো বিভিন্ন পদে কর্মকর্তা-কর্মচারী মিলে প্রায় ৬০ টি পদ খালি। এই পদগুলোতেও নিয়োগ পায়নি কেউ।মাত্র ১১ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়ে চলছে দ্বিতীয় শ্রেণীর পৌরসভা টি।

সুশাসনের জন্য নাগরিক(সুজন) এর পৌর সভাপতি মতিলাল হাজং বলছিলেন,আমাদের দুর্গাপুর এর অবস্থা কাহিল। সংগঠন থেকে একাধিকবার পৌর প্রশাসন কে দখল করা জলাশয়গুলো অবমুক্ত করার কথা বলেও কোন জবাব পাচ্ছিনা।বৃষ্টিতে ঘর থেকে বাইরে যাওয়া মুশকিল।রাস্তাগুলোতে পানি জমে থাকে।আমরা এবার সকল কে একত্র করে কিছু একটা করবো।
সহকারী প্রকৌশলী নওশাদ আলম বলেন,এই পৌরসভার মোট রাস্তা ৪৪ কি,মি।যার প্রায় অর্ধেকের মত পাঁকা করা হয়েছে এবং কাজ চলমান আছে। আমাদের মূল সমস্যা ফান্ডিং।

পৌর মেয়র আব্দুস ছালাম বলেন,আমি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে চেষ্টা করছি কিছু করার। আমাদের মাস্টার প্ল্যান আছে এই পৌরসভা কে নিয়ে,যা প্রক্রিয়াধীন।হয়তো খুব শীঘ্র বাস্তবায়ন হবে।আর দখল করা জলাশয়গুলো অবমুক্ত করতে আমি জেলা প্রশাসক মহোদয় কে বলেছি।বিদ্যুৎ আমার দেওয়ার কথা না,আমি অনুরোধ করবো পল্লীবিদ্যুৎ কে আমার পৌরসভায় শতভাগ বিদ্যুৎ নিশ্চিত করতে।।

৪ নং ওয়ার্ড বাসিন্দা রনি সাহা বলেন,আমি এবং আমার বন্ধুরা মিলে পর্যটন নিয়ে কাজ করছি। সোমেশ্বরী ও আত্রখালি নামক ২ টি নদী পৌর শহরের বুকদিয়ে প্রবাহিত । দৃশ্যমাণ দিগন্ত বেষ্টিত পাহাড়। যা পর্যটক কে আকৃষ্ট করে।তবুও আজও গড়ে উঠেনি নাগরিক বিনোদন এর জন্য কোন পার্ক।

 

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ ডটকম/০৯-০৮-২০১৭ইং/ অর্থ

Comments

comments

You might also like More from author

Comments are closed.