শিক্ষিত সমাজে আশিক্ষার সমাহার!

মু. একরামুল হক, দিনাজপুর :

আমাদের মানবতা ও মনুষ্যত্ব দিন দিন সংকোচিত হচ্ছে।বৃদ্ধি পাচ্ছে বর্বরতা,সহিংসতা ও আক্রমনত্মক স্বভাব ও মনোভাব।সন্ত্রাসবাদদের আখরা তৈরী হচ্ছে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বারান্দায়।শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মাঝে হামলা,পাল্টা হামলা,মারামারি,সংঘর্ষ এগুলো এখন নিত্যদিনের সংবাদ হয়ে দাড়িয়েছে।বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে শিক্ষকদের অপমান,হয়রানি ও লাঞ্ছনা বাড়ছেই। বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক ছাত্রীরা বিব্রতকর পরিস্থিতি পার করে আতেসছে প্রায়ই।ধর্ষন,কু প্রস্তাব,অশালীন আচরন,এসিড নিক্ষেপের ফলে কুনঠাসা হচ্ছে পড়ুয়া ছাত্রীরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কলেজ ছাত্রী বলেন চিহ্নিত কিছু বখাটেদের অত্যাচারে নিয়মিত কলেজে যাতায়াত বন্ধ হয়ে গেছে অনেক ছাত্রীর।কলেজ কতৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ করলেও তারা আমলে নেয় নি।টাকার মোটা প্রলেপ আইনের চোখে দিয়ে পার পেয়ে যাচ্ছে এই হায়েনারা।

একজন শিক্ষার্থী শিক্ষা অর্জনের লক্ষে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যায়।কিন্তু শিক্ষার পরিবর্তে যদি অশিক্ষা,অনৈতিকতা,অশালীনতা নিজের পুঁজি করে নেন তাহলে দেশের মানুষের কাছে শিক্ষিত সমাজ শুধু বোঝা নয় রীতিমত ভোগান্তী ও দুর্ভোগেরকারন হয়ে দাড়াবে। অযোগ্য,উশৃঙ্খল,বিতর্কিত চরিত্র ও বিকৃত মনের শিক্ষকদের দ্বারা পাঠদান করার ফলে দেশের তরুন ছাত্রসমাজ শিক্ষার প্রকৃত স্বাদ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।আবার অভিজ্ঞ,সুযোগ্য ও আদর্শবান লিক্ষকদের হয়রানী ও লাঞ্চনা গোটা শিক্ষিত সমাজকে ভাবিয়ে তুলেছে।শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যে সকল শিক্ষার্থীরা সৎ চরিত্র,উত্তম আদর্শ ও নৈতিকতা লালন করছে সে সকল মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের বিভিন্ন উপায়, কৌশলে শারিরিক ও মানসিক ভাবে লাঞ্চিত করা হচ্ছে।যার কারনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলো এখন সন্ত্রাসীদের অভয় ঘাটি তে পরিণত হয়েছে।

এখন প্রশ্ন হলো যে দেশের শীর্ষে অবস্থানে থাকা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোতে কী সঠিক,সুষ্ঠ ও মান সম্পন্ন শিক্ষা ও তদারকীর অভাব? না,অভাব আমাদের দায়িত্ববোধ ও সৎ সাহসিকতার।উপর মহলের কড়া আদেশ অথচ আদর্শ বিরোধী নির্দেশ গুলো শিক্ষিত জাতি কে অশিক্ষা উপহার দিচ্ছে বলে মনে করছেন শিক্ষাবিদরা।সংশ্লিষ্টদের মতে এই অস্বচ্ছ কর্মকান্ড শিক্ষার মেরুদন্ডকে অচল করে দিচ্ছে। আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোতে শিক্ষার প্রকৃত আলো প্রজ্বলিত হবে কি না? দেশের আদর্শ শিক্ষকরা সব মহলে সমান ভাবে সমাদৃত হবেন কি না? মেধাবী,সৎ ও পরিশ্রমী শিক্ষার্থী যারা রাজনৈতিক হয়রানীর শিকার তারা তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ফিরে পাবে কি না? সন্ত্রাস,বর্বর,ধর্ষক ও চরিত্রহীন ছাত্রদের ছাত্রত্ব থাকবে কি না? এসব প্রশ্নের ইতিবাচক উত্তর হয়তো আমাদের জানা নেই।কিন্তু আমাদের দায়িত্ববোধ,আন্তরিকতা ও দেশ প্রেম এই শিক্ষিত জাতিকে সঠিক,সুষ্ঠ, মান সম্পন্ন ও নৈতিকতা সমৃদ্ধ শিক্ষা পৌছে দিতে সক্ষম।

মুক্তিযোদ্ধার কণ্ঠ ডটকম/১০-আগস্ট২০১৭ইং/নোমান

Comments

comments

You might also like More from author

Comments are closed.

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ