গাইবান্ধার বিনোদন কেন্দ্র ‘এসকেএসইন’

মোঃ মেহেদী হাসান, গাইবান্ধা থেকে : 
চারদিকে ফসলের মাঠ আর সবুজের কোলঘেষে গাইবান্ধায় গড়ে উঠেছে ‘এসকেএস ইন’ নামের একটি বিনোদন কেন্দ্র। ব্যতিক্রমধর্মী এই বিনোদন কেন্দ্রটি ভ্রমণপিপাসুদের বিনোদন ও অত্যাধুনিক আবাসন সেবা দিয়ে যাচ্ছে।
প্রাকৃতিক পরিবেশের হাতছানি সমৃদ্ধ এ ক্যাম্পাসটি প্রায় পাঁচ একর ভূখন্ড এলাকা জুড়ে বিস্ততৃ। এর পুরো অংশজুড়ে রয়েছে কৃত্রিম ফোয়ারা, রকমারী বৃরাজি, বাঁশঝাড়, কৃত্রিম সুরধ্বনি ও নয়নাভিরাম পুকুরসহ বিভিন্ন স্থাপনা।
গাইবান্ধা জেলা শহরের সন্নিকটে গাইবান্ধা-নাকাইহাট সড়কের রাধাকৃঞ্চপুর নামক স্থানে এটি গড়ে উঠেছে গাইবান্ধায় বিনোদন কেন্দ্র বলতে পৌর পার্ক ছাড়া আর কোন প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেনি। গড়ে উঠেনি রাত্রিযাপনের জন্য উন্নতমানের কোন আবাসিক হোটেল। ভ্রমণপিপাসু ও পর্যটকদের কথা চিন্তা করেই গাইবান্ধার বেসরকারি উন্নয়ন সংগঠন এসকেএস ফাউন্ডেশন “এসকেএস ইন, ” নামক একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। দেশী-বিদেশী উন্নয়ন/দাতা সংস্থা, পর্যটক, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, মাল্টি-ন্যাশনাল প্রতিষ্ঠানসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের জন্য অত্যাধুনিক আবাসন সেবা এবং খাবারের সু-ব্যবস্থা রয়েছে প্রাকৃতিক পরিবেশমন্ডিত নান্দনিক এ ক্যাম্পাসে।
প্রশিক্ষণ, কনফারেন্স, সেমিনার, কর্মশালা আয়োজনের জন্য রয়েছে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ৫টি হলরুম। ২০০ আসন বিশিষ্ট ১টি হলরুম ছাড়াও ৩৫টি আসনের দু’টি, ৫০টি আসনের ১টি ও ৮০ আসন বিশিষ্ট হলরুম রয়েছে ১টি। সকল প্রকার বাংলা, চাইনিজ ও ফার্স্টফুড খাবারের জন্য রয়েছে উন্মুক্ত জলধারা রেস্টুরেন্ট। সর্বনিম্ম ৭০ থেকে সর্বোচ্চ সাড়ে ৩০০ টাকার মধ্যে খাবার পাওয়া যাবে এখানে। রয়েছে ২টি ডাইনিং স্পেস। যেখানে একসাথে ৭০ ও ১০০ জন স্বাচ্ছন্দে খেতে পারবেন। বাহিরের যে কেউ অর্ডার দিয়ে খাবার পেতে পারেন এখান থেকে। রয়েছে তিনটি ভবন। যার নাম দেয়া হয়েছে বালাসী, ভবাণীগঞ্জ ও রাধাকৃঞ্চপুর। এই তিন ভবনে আবাসনের জন্য রয়েছে ৬১টি এসি রুম (সিঙ্গেল/ডাবল) এবং ১১টি নন-এসি রুম (সিঙ্গেল/ডাবল)। প্রতিটি রুমে রয়েছে সৌখিন ও রুচিসম্মত ফার্ণিচার, এলইডি টিভি, মিনি ফ্রিজ, রুম হিটার, ঠান্ডা ও গরম পানিসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা।
এছাড়াও রয়েছে অত্যাধুনিক ডিজাইনের নীলকুঞ্জ, কামনী, ছায়ানীড়সহ ৫টি কটেজ। যার মধ্যে ২টি ওয়াটার কটেজ এবং ১টি রয়েল ডিলাক্স কটেজ। যেখানে অন্যান্য রুমের সুবিধাদিসহ বাড়তি সুবিধা হিসেবে রয়েছে সু-পরিসর বাথটাব। এসব কটজে রাত্রীযাপন করতে ব্যয় হবে ৩ হাজার ২০০ টাকা থেকে শুরু করে ৭ হাজার টাকা পর্যন্ত। রয়েছে সুইমিং পুল। জিম কর্ণার। চাইল্ড কর্ণার। ফ্রী ওয়াই-ফাই। গেম জোন। উন্মুক্ত মঞ্চ।
২৪ ঘন্টা বিদ্যুৎ সরবরাহসহ গ্রাহকদের সেবায় সার্বণিক নিয়োজিত রয়েছে ৫০ জন প্রশক্ষিত দক্ষ মানব সম্পদ। পর্যটক ও দর্শনার্থীদের নিরাপদ রাখতে রয়েছে পর্যাপ্ত সিসি ক্যামেরা ও সার্বণিক নিরপত্তাকর্মী। আরও রয়েছে বার-বি-কিউ সুবিধা। ছোট শিশুদের জন্য রয়েছে ২টি স্প্রীটসহ বিভিন্ন ধরণের খেলনা সামগ্রী।
এছাড়াও মাটি ও মানুষের কাছে শ্লেগানকে ধারণ করে রেডিও সারাবেলার নিজস্ব ভবণ। সেখান থেকে সংবাদ প্রচারসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালা শোনা যাবে ৯৮.৮ এফ এমে। আর এটির দায়িত্বে আছেন সুদক্ষ মাহফুজ। দর্শনার্থীরা খুব সহজেই রেডিও সেন্টার ঘুরে দেখতে পাবেন। পর্যটক ও দর্শনার্থীদের গাছের ছায়ায় বসে সময় কাটানোর জন্য রয়েছে কদমতলা, বাদামতলা, বাঁশতলা, পলাশতলা, পাকুরতলা ও মহুয়াতলা নামক সুন্দর কয়টি স্থান। পুরো এলাকা জুড়ে রকমারী বৃরাজি গাছে ধরে আছে আম, জলপাই, কামরাঙ্গাসহ নানাবিধ ফল। গাছে গাছে শোভা পাচ্ছে মাটির কলসি, যেখানে বিভিন্ন ধরণের পাখি বসবাস করছে সেখানে। সন্ধ্যার পর ক্যাম্পাস জুড়ে বেজে উঠবে কৃত্রিম সুরধ্বনি মাধ্যমে রবিন্দ্র সংগীতসহ বিভিন্ন ধরণের দেশের গান। পুকুরে রয়েছে নানা প্রজাতির দেশী মাছ।
রাধাকৃঞ্চপুর এলাকার কয়েকজন লোকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এসকেএস ইন্টি রাধাকৃঞ্চপুর হওয়ার কারণে আমাদের গ্রামে সব সময় লোকজনের সমাগম ঘটছে। ওই প্রতিষ্ঠানটি হওয়ায় এখানে বিভিন্ন ধরণের দোকানপাট গড়ে উঠেছে।

মুক্তিযোদ্ধার কণ্ঠ ডটকম/১২-আগস্ট২০১৭ইং/নোমান

Comments

comments

You might also like More from author

Comments are closed.