কিশোরগঞ্জে রাজাকার হাফিজ উদ্দিনের গ্রেফতারে আনন্দে মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ

শফিক কবীর, স্টাফ রিপোর্টার ।। 

কিশোরগঞ্জে রাজাকার হাফিজ উদ্দিনের গ্রেফতারে শনিবার দুপুরে আনন্দে মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ করেছে।
১৯৭১ মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত ও ফাঁসির দন্ডে দন্ডিত রাজাকার হাফিজ উদ্দিনকে গত ১২ আগষ্ট র‌্যাব-১৪ সিপিসি-২ এর চৌকষ একটি দল কতৃক গ্রেফতারের পরিপ্রেক্ষিতে কিশোরগঞ্জ যুদ্ধাপরাধ প্রতিরোধ আন্দোলন কমিটি ও লেখক মুক্তিযোদ্ধা চেতনা কমান্ড, কিশোরগঞ্জ যৌথ আয়োজনে শনিবার দুপুরে এক আনন্দ মিছিল করেছে। সংগঠনদ্বয় জেলা শহরের প্রধান প্রধান স্থান প্রদক্ষিণ করার পর পুরান থানাস্থ ইসলামিয়া সুপার মার্কেট গিয়ে শেষ হয় এবং আনন্দে উদ্বেলিত মিছিলকারীরা মিষ্টি বিতরণ করে সংক্ষিপ্ত সভার সমাপ্তি ঘটে।

যুদ্ধাপরাধ প্রতিরোধ আন্দোলন কমিটি ও লেখক মুক্তিযোদ্ধা চেতনা কমান্ডের সভাপতি রেজাউল হাবীব রেজার নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত আনন্দ মিছিলের শেষে বক্তব্য রাখেন যুদ্ধাপরাধ প্রতিরোধ আন্দোলন কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি আমিনুল হক সাদী, সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম খায়রুল, সাংগঠনিক সম্পাদক সাংবাদিক আবুল কাশেম, সংগঠনদ্বয়ের উপদেষ্টা দন্ত চিকিৎসক মোস্তফা খান পাঠান, দৈনিক আজকের জীবন পত্রিকার প্রতিনিধি শফিক কবীর, সাংবাদিক সংস্থার খ ইউনিটের আহবায়ক এম.এ হালিম তালুকদার, এশিয়ান পোস্টের প্রতিনিধি ফারুকুজ্জামান, দৈনিক আমার বাংলাদেশ পত্রিকার স্টাফ রির্পোটার আলী রেজা সুমন, যুদ্ধাপরাধ আন্দোলন কমিটির অন্যতম নেতৃত্ব আজিজুর রহমান দুলাল ও আজিজুল ইসলাম রতন ও মো: সাইফুল ইসলাম প্রমূখ।

উল্লেখ্য যে, গত ১২ আগষ্ট গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সকালে কিশোরগঞ্জের ইটনা থানার বড়শীকুড়া গ্রামে রাজাকার হাফিজ উদ্দিনকে গ্রেফতারের উদ্দেশ্যে বিশেষ অভিযান চালায়। এ অভিযানের বেশ ক’সপ্তাহ আগে থেকেই যুদ্ধাপরাধ আন্দোলন কমিটির কাছে এ তথ্য ছিল বলে জানিয়েছেন সংগঠনের সভাপতি রেজাউল হাবীব রেজা। এ ব্যাপারে জেলা পুলিশ সুপারকে আগে থেকেই অবগত করানো হয়েছিল বলেও তিনি জানিয়েছেন। কিন্তু পুলিশের অভিযানে ব্যর্থ হবার পরই একই ধরনের সংবাদের প্রেক্ষিতে র‌্যাব-১৪ এর কোম্পানি অধিনায়ক (অতিরিক্ত পুলিশ সুপার) মো: হাসান মোস্তফা স্বপন এর দিকনির্দেশনায় র‌্যাবের চৌকষ দলটি বড়শীকুড়া গ্রামের একই স্থানে তল্লাশী করে হাফিজ উদ্দিনকে একটি পরিত্যাক্ত ঘরের সিলিং হতে গ্রেফতার করে। র‌্যাব-১৪ যে ঘর হতে রাজাকার হাফিজ উদ্দিন গ্রেফতার করা হয়েছে সেটি র‌্যাব আগে থেকে চিহ্নিত করে সিভিল ড্রেসে অবস্থান করছিল ২ জন, সোর্স ও একজন হাফিজ উদ্দিনকে চিনতে পারা ব্যক্তি। পুলিশের অভিযানের সমাপ্তি পরই র‌্যাবদল সফল অভিযান পরিচালনা করে । জানা যায় ১৯৭১ সালে হাফিজ উদ্দিন কলাতলি গ্রামের আবদুল গফুরকে বিনা অপরাধে খুদিরজঙ্গল ব্রীজে নিয়ে গুলি করে হত্যা করে।

 

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ ডটকম/১৩-০৮-২০১৭ইং/ অর্থ

 

 

 

Comments

comments

You might also like More from author

Comments are closed.