নান্দাইলে প্রেমিক নুরু মিয়ার প্রতারণার শিকার জারমিনা, ধর্ষণের চেষ্টায় আদালতে মামলা

মোঃ তোফাজ্জল হোসেন, নান্দাইল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি :
ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার ১২নং জাহাঙ্গীরপুর ইউনিয়নের কিছমত বনগ্রামের মৃত গিয়াস উদ্দিনের কন্যা মোছাঃ জারমিনা আক্তার (২৯) একই গ্রামের মোঃ দিয়ানত আলী মাস্টারের বিদেশ ফেরত পুত্র মোঃ নুরু মিয়া (৩০) কর্তৃক দীর্ঘ ৪ বছরের প্রেমের পর প্রতারিত হয়ে অবশেষে ময়মনসিংহের বিজ্ঞ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুন্যাল আদালতে মোকদ্দমান নং ২২০/২১৭ দায়ের করেছে।
মামলার এজাহার এবং ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানা যায়, বিবাদী নুরু মিয়া প্রতারক ও নারী লোভী প্রকৃতির লোক। সে দীর্ঘদিন পাশের বাড়ির সহজ সরল জারমিনা আক্তারের সাথে ৪ বছর প্রেম করে। তার প্ররোচনায় জারমিনা তাঁর প্রথম স্বামীকে তালাক দেয়। বিগত ২১ জুন ২০১৭ নুরু মিয়া বিদেশ থেকে বাড়িতে এসে জারমিনাকে ফুসলিয়ে বিবাহ করার মিথ্যা প্রলোভন দিয়ে তাঁর বাড়িতে নিয়ে ধর্ষন করার চেষ্টা করে এবং তাঁর বাড়িতে আটকিয়ে রাখে। দুই দিন-দুই রাত জারমিনাকে প্রেমিক নুরু মিয়ার ঘরে আটকে রাখে।
উক্ত ঘটনার বিষয়ে নান্দাইল মডেল থানা পুলিশ খবর পেয়ে এস.আই আব্দুল হান্নান গত ২৮ জুলাই উক্ত যুবতীকে নুরু মিয়ার ঘর থেকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। কিন্তু অজ্ঞাত কারনে এ ব্যাপারে নান্দাইল মডেল থানায় কোন মামলা নথিভূক্ত না করে জারমিনার ভাইদের খবর দিয়ে তাকে থানা থেকে তাদের হাতে বুঝিয়ে দেয়। থানায় মামলা দায়েরে ব্যর্থ হয়ে জারমিনা অবশেষে যথাক্রমে দিয়ানত আলী মাস্টারের পুত্র নুরু মিয়া (৩০), মোঃ দিয়ানত আলী মাস্টার ও মোঃ আলী ইকরাম নামে ৩ জনের বিরুদ্ধে বিজ্ঞ ট্রাইবুন্যাল আদালতে ২০০০ইং সনের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৭/৯ (৪)ক/৩০ ধারা মোতাবেক একটি মামলা দায়ের করে। বিজ্ঞ জেলা ও দায়রা জজ মামলাটি গুরুত্ব সহ গ্রহন করে গত ১লা আগস্ট জাহাঙ্গীরপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানকে আদেশ প্রাপ্তির পরবর্তী ৭ কার্যদিবসের মধ্যে সরজমিন তদন্ত করে ট্রাইবুন্যালে অনুসন্ধান রিপোর্ট দাখিল করার নির্দেশ দিয়েছেন।
এদিকে গত ৮ই আগস্ট নান্দাইলে কর্মরত ৭জন মিডিয়া ও মানবাধিকার কর্মী ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও অনুসন্ধান করে প্রেমিক নুরু মিয়া কর্তৃক জারমিনার আক্তারের প্রতারিত হওয়ার বিষয়টি সুষ্পষ্টভাবে দেখতে পান। বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন নান্দাইল উপজেলা শাখার নেতৃবৃন্দ উক্ত বিষয়ে নুরু মিয়ার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী করেন এবং জারমিনা আক্তারের পক্ষে আইনগত সহযোগীতাদানের প্রতিশ্রুতি দেন।
জাহাঙ্গীরপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল কালাম মোড়লের সাথে শনিবার ১২ই আগস্ট মঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি আদালতের আদেশনামা পেয়েছেন বলে জানান এবং যথাসময়ে ঘটনার নিরপেক্ষ প্রতিবেদন বিজ্ঞ আদালতে দাখিল করবেন বলে উল্লেখ করেন।

মুক্তিযোদ্ধার কণ্ঠ ডটকম/১৩-আগস্ট২০১৭ইং/নোমান

Comments

comments

You might also like More from author

Comments are closed.