ধর্ষিতা শিশু নীলা এখন লজ্জা পেতে শিখেছে কিন্তু ৩ দিন পরেও আসামী ধরা পড়েনি

নীলার পাশে এসে দাড়িয়েছেন নারী নেত্রীরা (ফলোআপ)

মোঃ আশরাফ আলী, স্টাফ রিপোর্টার ।।

আড়াই বছরের শিশু নীলা ধর্ষণের আজ তিন দিন। এরই মাঝে হাসপাতালে রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতাদের আশাযাওয়া শুরু হয়েছে। পুলিশ আশানরুপ কোন ভূমিকা রাখতে পারেনি। যানা গেছে, ঢাকী ইউনিয়নের ঠাকুরাটিতেই আসামী ধর্ষক টুটুল অবাধে ঘুরাফেরা করছে। এবং স্থানীয় ইউ পি সদস্য রিপুলের মাধ্যমে মোটা অংকের টাকা দিয়ে মীমাংসার প্রস্তাব ও হুমকী দিয়ে আসছে। মীমাংসা না করলে পরিণতি ভাল হবেনা। ধর্ষিত শিশু নীলার মা ভয়ে হাসপাতালে একোন থেকে ওকোনে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। আর এতে শিশু নীলা কথা বলতে না পারলেও লজ্জায় মায়ের দেখাদেখি মুখ ঢাকতে শুরু করেছে।

নীলার মা বলেন, আল্লাহ জানে আমার মেয়ের এই লজ্জাজনক ধর্ষণের বিচার পাবে কিনা। আমি বিচার না পেলে মিঠামইনে আর মুখ দেখাবো না। যেখানে নারী জাতির কোন নিরাপত্তা নেই। সবই চলে বড়দের নির্দেশে। আমার এলাকার উপজেলা চেয়ারম্যান ও সংসদ সদস্যের কাছে এই বিচারের সহযোগীতা চাই। আমরা গরীব তাই উনার বাড়ি পর্যন্ত যাওয়া ও যোগাযোগ করার সুযোগ নাই।

আজ ১৩ই আগস্ট রবিবার সকাল ৮ টায় কিশোরগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতালে নারী পরিষদের সভানেত্রী এডভোকেট মায়া ভৌমিক, সাধারন সম্পাদক আতিয়া হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক জাহানারা ইসলাম, সদস্য কাম্রুন্নাহার এবং লিগ্যাল এইড সম্পাদক এডভোকেট হামিদা বেগমসহ সকলেই নীলার শারীরিক খোজ খবর নেন এবং আর্থিক সংকটের কথা শুনে তাৎক্ষনিক কিছু অর্থ সহায়তা ও স্থায়ী ব্যবস্থার জন্য উদ্যোগের কথা জানান। এসময় তারা মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠকে বলেন, দ্রুত আসামীকে গ্রেফতার করা হোউক এবং এর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। যদি পুলিশ ধর্ষককে ধরতে না পারে তবে আমরা জরুরি মিটিং এর মাধ্যমে এবিষয়ে কর্মসূচী হাতে নিব।

এরপর সকাল ১০ টায় গণতন্ত্রী পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য এডভোকেট ভুপেন্দ্র ভৌমিক দোলন জেলার নেতা কর্মীদের নিয়ে নীলাকে দেখতে যান। হাসপাতালে গিয়ে জানা যায় নীলাকে পুলিশ পরিদর্শক (মামলার আই ও) মিজানুর রহমান বিশেষ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ কার্যালয়ে নিয়েছেন। এসময় প্রতিকী মানববন্ধনে দাঁড়িয়ে পরেন এডভোকেট ভুপেন্দ্র ভৌমিক দোলন। তিনি বলেন, ২৪ ঘন্টার ভিতরে আসামীকে ধরতে হবে। কেননা পুলিশের আওতার বাহিরে কেউ থাকতে পারেনা। আপনাদেরকেই ধর্ষককে খুজে বের করে গ্রেফতার করতে হবে। অন্যথায় আমরা রাজনৈতিক কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবো।

মিঠামইন থানার ওসি মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠকে বলেন, ধর্ষক টুটুলকে ধরার জন্য আমরা নারী ও শিশু ধর্ষণ মামলায় নিয়মিত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। তাকে পাওয়া মাত্রই গ্রেফতার করবে পুলিশ।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ-

মিঠামইনে ধর্ষণের ব্যাথায় কাঁদছে আড়াই বছরের শিশু : লজ্জায় কাঁদছে মা

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ ডটকম/ ১৩-০৮-২০১৭ইং/ অর্থ

Comments

comments

You might also like More from author

Comments are closed.