প্রথম প্রতিবাদ কিশোরগঞ্জে : শাহাদাৎ বার্ষিকী পালনে ভৈরবে গ্রেফতার হন ২২ জন

মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ ।।

আজ ১৫ই আগষ্ট। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪২তম শাহাদাত বার্ষিকী। দেশে তখন সামরিক শাসন চলছে। সেই সময় এদেশে বঙ্গবন্ধুর নামটি উচ্চারণ করাই ছিল দুরূহ। কিন্তু ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগষ্ট সেদিনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর ভোরে প্রথম প্রতিবাদ বের হয়েছিল কিশোরগঞ্জ থেকে। ভোরে রেডিওতে মেজর ডালিমের ঘোষণা শুনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেদিন শহরে একদল ছাত্র বিক্ষোভ মিছিল বের করে। যদিও পুলিশের ধাওয়ার মুখে বেশিক্ষণ টিকতে পারেনি তারা,পালিয়ে যেতে হয় তাদের।

বঙ্গবন্ধুর হত্যার খবর শুনে বাম ঘরানার ছাত্র নেতারা সেদিন শহরের ছাত্র ইউনিয়ন অফিসে জড়ো হয়ে,সেখান থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলটি গৌরাঙ্গ বাজার,বড় বাজার, আখড়াবাজার, রথখোলো,পুরানা থানা হয়ে আবার ছাত্র ইউনিয়নে শেষ হয়। এ সময় মিছিলের খবর পেয়ে পুলিশ ছুটেঁ আসলে যে যার মতো দ্রুত এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। পরে মিছিল করতে গিয়ে অনেকে গ্রেফতারি পরোয়ানা নিয়ে পালিয়ে বেড়িয়েছে দিনের পর দিন। তবে সেদিনের কথা মনে করে আজও নিজেদের গর্বিত মনে করেন।

সেদিনের জাতির জনককে হত্যার প্রথম প্রতিবাদে অংশ নেন জেলা সিপিবি সভাপতি আমিরুল ইসলাম, বর্তমান জেলা গণতন্ত্রী পার্টির সভাপতি ভৃপেন্দ্র ভৌমিক দোলন, সহ-সভাপতি হাবিবুর রহমান মুক্তা, জেলা সামাজিক আন্দোলনের সভাপতি আশোক সরকার,রফিক উদ্দিন পনির, গোলাম হায়দার চৌধুরী,গোপাল দাস, আলী আজগর স্বপন,আওয়ামী লীগ নেতা পীযূষ কান্তি সরকার, ডাক্তার এনামুল হক ইদ্রিছ,প্রয়াত সেকান্দর আলী,অলক ভৌমিক, প্রয়াত আকবর হোসেন খান,নূরুল হোসেন সবুজ, আবদুল আহাদ,নির্মল চক্রবতী,সৈয়দ লিয়াকত আলী বুলবুল প্রমুখসহ আরও কয়েকজন তরুন ছাত্রনেতা।

অন্যদিকে জেলার ভৈরবে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রথম শাহাদাত বার্ষিকী পালনের কারণে ২২ জন নেতা-কর্মী গ্রেফতার হয়েছিলেন। গ্রেফতারের পর তাদের অমানুষিক নির্যাতনের পর মামলা দিয়ে জেলে পাঠানো হয়।

সেদিন গ্রেফতার হওয়া সাংবাদিক আসাদুজ্জামান ফারুক বলেন, ১৯৭৬ সালের ১৫ আগষ্ট ভৈরবের সেই সময়ের যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক (বর্তমান পৌর মেয়র) অ্যাডভোকেট ফখরুল আলম আক্কাছ হাজী আসমত কলেজের শহীদ আশুরঞ্জন ছাত্রাবাসে (বর্তমান শৈবাল আবাসিক হোটেল) বঙ্গবন্ধু প্রথম শাহাদাত বার্ষিকীতে মিলাদ ও কোরআন খতমের আয়োজন করেন। ১৫ জন হাফেজকেও সেখানে আনা হয়। দুপুরের পর থেকে প্রত্যেকে দুই পারা করে কোরআন খতম দিতে থাকেন। বিকালে কোরআন খতমের কাজ চলাকালীন পুলিশ এসে ঘেরাও করে কোরআন খতম বন্ধ করে দেয় এবং বঙ্গবন্ধুকে গালিগালাজ করে। এসময় পুলিশ উপস্হিত সবাইকে লাঠিপেটা করে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যায়। থানায় নিয়েও নির্যাতন করা হয়। হাফেজদের মুচলেকা রেখে ছেড়ে দেয়। পরে ২২ জনকে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দিয়ে কোর্টে চালান করে দেয়। দীর্ঘদিন হাজতবাস করে তারা জেল থেকে বের হয়ে আসেন।

সেদিন বঙ্গবন্ধুর প্রথম শাহাদাত বার্ষিকী পালন করতে গিয়ে গ্রেফতার হন অ্যাডভোকেট ফখরুল আলম আক্কাছ, আসাদুজ্জামান ফারুক (সাংবাদিক), রুহুল আমিন,মাহাবুর রহমান, মতিউর রহমান,মফিজুর রহমান, মোশারফ হোসেন,জিল্লুর রহমান (প্রয়াত),আসাদ মিয়া,আতাউর রহমান,আসাদুল হক শিশু, দিলীপ চন্দ্র সাহা, দিজেন্দ্র চন্দ্র সাহা, ফজলুর রহমান,আব্দুল হামিদ,মোহাম্মদ ইদ্রিস,মাহাবুর আলম,রসরাজ সাহা,সুবল চন্দ্র কর,শাহাজালাল, ফিরোজ মিয়া ও আজমল ভূঁইয়া।

মুক্তিযোদ্ধার কণ্ঠ ডটকম/১৫-আগস্ট২০১৭ইং/নোমান

Comments

comments

You might also like More from author

Comments are closed.

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ